চীনের উহানে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের ১১৩টি দেশ ও অঞ্চলে। গেল বছরের একেবারে শেষদিকে শনাক্ত হওয়া ভাইরাসটিতে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৬৫ দিনে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮১ লাখ মানুষ। মারা গেছে অন্তত ৪ লাখ ৪০ হাজার মানুষ। দিন যত যাচ্ছে সংক্রমণের হারও তত বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাব বলছে, গেল মে মাসের ২৭ তারিখ থেকে গত সোমবার পর্যন্ত ২০ দিনের প্রতিদিনই লাখের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে বিশ্বে। এই কয় দিনে বিশ্বে মোট ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ২০২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৮৬ হাজার ৩৮৯ জনের। আর আরোগ্য লাভ করেছে ১৭ লাখ ৪৮ হাজার ৫৮০ জন।
উল্লিখিত প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে সব মিলিয়ে মোট ২৫ দিন লাখের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ২৪ ঘণ্টায় লাখের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয় ২৪ এপ্রিল। ওইদিন ১ লাখ ২ হাজার ১০০ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এর প্রায় ২০ দিন পর ১৫ মে তারিখে দ্বিতীয়বারের মতো ২৪ ঘণ্টায় লাখের বেশি রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২০, ২১ ও ২২ মে টানা তিন দিন শনাক্ত হয় লাখের বেশি রোগী। তবে ওই তিন দিনের কোনো দিনই ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়নি। এর ৫ দিন পর ২৭ মে থেকে ফের শনাক্ত লাখ ছাড়ায়। ওইদিন প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ক্রমেই বাড়তে থাকে ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্তের সংখ্যা। ২৮ মে শনাক্ত হয় ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৩৩ জন, ২৯ মে হয় ১ লাখ ২৬ হাজার ১২৫ জন, ৩০ মে যোগ হয় আরও ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৩৩ জন করোনা রোগী। মাসটির শেষ দিন ৩১ মে শনাক্ত হয় ১ লাখ ৮ হাজার ৯৭৮ জন করোনা রোগী। ওইদিন শেষে বিশ্বে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা পৌঁছায় ৬২ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫০ জনে।
জুন মাসে এসে এই সংখ্যা বাড়তে শুরু করে আরও। ১ জুন ১ লাখ ৪ হাজার ৫৭৬ জন শনাক্ত হলেও ২ তারিখে তা হয় ২ রাখ ১৫ হাজার ৭০৫ জনে। ৩ তারিখে রোগী শনাক্ত হয় ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি। ৪ তারিখ সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় ১ লাখ ৩০ হাজার। ৫ তারিখও প্রায় সমানসংখ্যক রোগী শনাক্ত হয় বিশ্বে। ৬ জুন কিছুটা কমে হয় ১ লাখ ২৮ হাজার। এর পরদিন ৭ জুন ১ লাখ ১৩ হাজার, ৮ জুন ১ লাখ ৭ হাজার। ৯ জুন থেকে আবার বাড়তে শুরু করে ২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা। ওইদিন বিশ্বে ১ লাখ ২১ হাজার করোনা রোগী শনাক্ত হয়। ১০ তারিখ এক লাফে সেই সংখ্যা পৌঁছায় ১ লাখ ৩৫ হাজারে। ১১ জুনও ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্ত বৃদ্ধি পায়। ওইদিন ১ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি শনাক্ত হয় বিশ্বে। ১২ তারিখ শনাক্ত হয় রেকর্ড সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪২ হাজার ১১৩ জন করোনা রোগী। ১৩ জুন কিছুটা কমে হয় ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭১৬ জন। ১৪ তারিখ শনাক্ত হয় ১ লাখ ১৬ হাজার জন এবং ১৫ তারিখ সারা বিশ্বে করোনা রোগী শনাক্ত হয় ১ লাখ ২৪ হাজার ৬০০ জন।
এই সময়টাতে দক্ষিণ আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিশেষ করে ব্রাজিল, পেরু, চিলি, ইকুয়েডর, মেক্সিকো, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও রাশিয়ায় সবচেয়ে বেশি রোগী বেড়েছে। রোগী বেড়েছে রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, তুরস্কসহ ইউরোপের বেশ করেকটি দেশে। তবে আশার কথা হলো এই সময়টাতে তুলনামূলক মৃত্যুহার কমেছে। বেড়েছে আরোগ্যের হারও।