দীর্ঘ ৮৮ দিন পর ঢাকার হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক সিডিউল ফ্লাইটের যাত্রা শুরু হলো। কাতার এয়ারওয়েজের নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ এ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। গত সোমবার দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে ৩৩ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় অবতরণ করে কাতার এয়ারের ওই ফ্লাইট। আবার ঘণ্টাখানেক পর ৩টা ১০ মিনিটে ২৭৪ জন যাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি দোহার উদ্দেশে রওনা হয়। আসা-যাওয়া যাত্রীদের সবাই ছিলেন ট্রানজিট। লকডাউন পরবর্তী সময়ে আপাতত শুধু ট্রানজিট যাত্রীদেরই বহন করার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে কাতার এয়াওয়েজকে। এদিকে আগামী ২১ জুন ঢাকা-লন্ডন রুটে বিমানের প্রথম ফ্লাইটের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল হজরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে আরও অন্তত ১০টি স্পেশাল ফ্লাইট ওঠানামা করে। ঢাকা-কোরিয়া, ঢাকা-ওমান, ঢাকা-দুবাই, ঢাকা-মালদ্বীপ ও ঢাকা-চেন্নাই রুটে দিনভর এসব ফ্লাইট ওঠানামা করায় তুলনামূলক বেশ প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরে, যা এখন থেকে প্রতিদিনই থাকবে।
জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আইকাওয়ের নির্দেশনা ও আমাদের নিজস্ব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। ফ্লাইট পরিচালনা করতে হলে এগুলো মেনেই করতে হবে।
২১ মার্চ থেকে বন্ধ থাকার পর ১৬ জুন থেকে ঢাকা থেকে লন্ডন এবং কাতার রুটে ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দেয় বেবিচক। তবে কাতারে বাংলাদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই যাত্রীরা শুধু ট্রানজিট হিসেবে কাতার ব্যবহার করে অন্য দেশে যেতে পারবেন বলে বেবিচক জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ২টার পর কাতারের ওই ফ্লাইট অবতরণের পর বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগ যাত্রীদের স্বাগত জানায়। তাদের সবাইকে বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। যদিও সবাই স্বাস্থ্য সনদ নিয়েই ঢাকায় এসেছেন। আগত ৩৩ জনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যাত্রী ছিলেন বেশি। যারা গেছেন তাদেরও বেশির ভাগই যুক্তরাষ্ট্রের অভিমুখী।
দীর্ঘদিন পর ফ্লাইট চালুকে কেন্দ্র করে বিশেষভাবে প্রস্তুতি নেয় শাহজালাল বিমানবন্দর। জানতে চাইলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তৌহিদ-উল-আহসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বেবিচকের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত ২টায় কাতারের দোহা থেকে একটি ফ্লাইট ঢাকায় আসে। এক ঘণ্টা অবস্থানের পর ৩টায় যাত্রী নিয়ে সেটা কাতার ফিরে গেছে। এখন সিডিউল ফ্লাইটের ব্যস্ততা বেড়েই চলবে।
বেবিচকের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, কাতার এয়ারের পর বিমানের ফ্লাইটেরও প্রস্তুতি চলছে বেশ তোড়জোড়ে। আগামী ২১ জুন থেকে ফ্লাইটের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে টিকিট বিক্রি শুরু করেছে। সাড়াও মিলছে বেশ। বিমানের মার্কেটিং বিভাগ জানিয়েছে আপাতত ড্রিমলাইনার দিয়েই ঢাকা-লন্ডনের ফ্লাইট অপারেট করা হবে।
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাব্বির হোসেন জানান, যাওয়ার ফ্লাইটে সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। তবে আসার ফ্লাইটে বিপরীত চিত্র। অনেক কম বিক্রি হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই বিজনেস ক্লাসে এক রো বাদ দিয়ে টিকিট বিক্রি করতে হচ্ছে। আবার ইকোনমি ক্লাসেও পাশাপাশি দুজন বসা নিষেধ এবং পেছনের রো খালি রাখতে হবে। এ হিসাবেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।
এদিকে আান্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে সম্প্রতি বেবিচক থেকে একটি সার্কুলার জারি করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বিমানবন্দর দিয়ে আগত প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিদেশি নাগরিকদের দেশে প্রবেশের ৭২ ঘণ্টা আগে ‘করোনায় আক্রান্ত নন’ এই মর্মে সার্টিফিকেট নিয়ে দেশে ফিরতে হবে। যাত্রী যে দেশের নাগরিক হোন না কেন ‘করোনা নেগেটিভ’ সংবলিত মেডিকেল সার্টিফিকেটটি ইংরেজিতে ট্রান্সলেট করা থাকতে হবে। বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় এটি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে।
এ সম্পর্কে বেবিচকের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রয়েছেন। তারা সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে যাত্রীদের ফ্লাইটে চড়া এবং দেশে প্রবেশের অনুমতি দেবেন। যদি কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি এই সার্টিফিকেট ছাড়া দেশে ফেরেন তাহলে বিমানবন্দর থেকে তাদের সরাসরি ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হবে। এছাড়া কভিড-১৯ নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে আসা প্রবাসী বাংলাদেশির কারও দেহে যদি করোনাভাইরাসের উপসর্গ থাকে তাহলে তাকেও সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে যেতে হবে। যেসব যাত্রী বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন তাদের হাতে একটি স্বাস্থ্য ফরম দেওয়া হবে। তাতে তাদের স্বাস্থ্যসহ ব্যক্তিগত বিভিন্ন তথ্য দিতে হবে।