খাবার চাওয়ায় বৃদ্ধ মাকে পিটিয়ে তাড়াল ছেলে!

কোটি টাকার সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পরও খাবার চাওয়ায় বৃদ্ধা মা হোসনে আরাকে (৭০) পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার ধামগড় ইউনিয়নের সেনেরবাড়ি এলাকায় ছেলে মোফাজ্জল হোসেন হলডেন এ ঘটনা ঘটায় বলে জানিয়েছেন ওই মা।

ছেলের হাতে রক্তাক্ত বৃদ্ধা হোসনে আরা দেশ রূপান্তরকে জানান, তার স্বামী প্রয়াত সোনা মিয়া এলাকার প্রভাবশালী মেম্বার ছিলেন। জমিজমার অভাব ছিল না। স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় স্ত্রী হোসনে আরার নামে যে সম্পত্তি লিখে দিয়ে গেছেন তার দাম বর্তমানে কোটি টাকা। পৈতৃক সম্পত্তি পাওয়ার পরও বৃদ্ধা মায়ের নামে থাকা সম্পত্তি সম্প্রতি দুই সন্তান হাজী মঞ্জু মিয়া (স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি) ও মোফাজ্জল হোসেন হলডেন জোর করে লিখে নেয়। এরপর ছেলেরা মায়ের ভরণপোষণ বন্ধ করে দেয়।

হোসনে আরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খাবারের কষ্ট আর অভাবের তাড়নায় আমি স্থানীয় মেম্বারের কাছে ত্রাণ চাইতে গেলে মেম্বার আইয়ুব আলী ছেলেদের ডেকে ত্রাণের তালিকায় আমার নাম দিতে বললেও তারা দেয়নি। উল্টো আমি খাবার চাইলে হলডেন আমাকে পিটিয়ে জখম করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এখন আমি বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছি।’

স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার আইয়ুব আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বৃদ্ধা আমার কাছে এসেছিলেন ত্রাণের জন্য। তখন তার ছেলেদের ওই এলাকার ত্রাণ লিস্টে ওনার নাম দিতে বলেছিলাম। কিন্তু ছেলেরা দেয়নি।’

তিনি আরও বলেন, বৃদ্ধা মাকে পিটিয়ে জখম করার বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে এটা করে থাকলে খুবই নিন্দনীয় কাজ বলে মনে করি।’

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে হোসনে আরার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন হলডেনের মোবাইল ফোন নম্বরে গতকাল বিকেলে কল দিলে তা রিসিভ করেন তার মেয়ে জেনিফা আক্তার। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাবা ফোন রেখে বাইরে গেছেন। আমি শ্বশুরবাড়ি থেকে এসে শুনেছি দাদির মাথা ফেটে গেছে। বাবার (মোফাজ্জল) সঙ্গে নাকি ঝগড়া হয়েছে।’

স্থানীয় কামতাল পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম গতকাল বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেব। তবে আমি খোঁজ নিচ্ছি।’