স্বেচ্ছাসেবী টেকনোলজিস্টের আরও নাম চায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালক, বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং সিভিল সার্জনদের কাছে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে নিয়োজিত আরও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের নাম জানতে চেয়েছে। আগামী সোমবার বিকেল ৫টার মধ্যে এসব নাম পাঠাতে হবে। অন্যদিকে ১৮৩ স্বেচ্ছাশ্রমের মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের মধ্যে ২৬ জন তাদের কাগজপত্র নিয়ে কমিটির সামনে উপস্থিত হননি। উপস্থিত হওয়া আরও ৬২ জনের সনদ ও অন্যান্য ত্রুটি থাকায় তাদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. বেলাল হোসেন গতকাল বুধবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস দেখা দেওয়ার পর স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কিছু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কভিড রোগীর স্যাম্পল সংগ্রহসহ নানা কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে তাদের সংখ্যা ১৮৩ জন ছিল। এসব মেডিকেল টেকনোলজিস্টের বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর জানা যায়, আরও কিছু স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন তারা বিভিন্ন কভিড হাসপাতাল ও অন্যান্য স্থানে কাজ করছেন। তাদের নাম ভুল করে হোক বা সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল

কর্র্তৃপক্ষের পাঠাতে বিলম্বের কারণে হোক, তালিকাভুক্ত হয়নি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আইইডিসিআরের (রোগতত্ত্ব, রোগ নির্ণয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান) সংশ্লিষ্টরাও রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমেও লেখালেখি হয়েছে। বাদ পড়াদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নতুন করে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহের প্রধান কেন্দ্র আইইডিসিআরের বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত ৪৮ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই করোনার কাজে সম্পৃক্ত করা হয়। তারা রাত-দিন পরিশ্রম করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ এবং পরীক্ষা করে আসছেন। এ কাজ করতে গিয়ে তাদের মধ্যে ১৫ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। উল্লিখিত ১৮৩ জনের তালিকার মধ্যে তাদের কারও জায়গা হয়নি। গত সোমবার দেশ রূপান্তরে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর কর্র্তৃপক্ষের টনক নড়ে। তারা আইইডিসিআরসহ বিভিন্ন কভিড মেডিকেল হাসপাতালের বাদ পড়া স্বেচ্ছাসেবকদেরও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

গত রবি ও সোমবার ১৮৩ জন স্বেচ্ছাসেবককে তাদের কাগজপত্র নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ডাকা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১৫৭ জন উপস্থিত হয়ে তাদের কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। জমাকৃত কাগজপত্র বাছাই করে দেখা গেছে, রাষ্ট্রীয় মেডিকেল ফ্যাকাল্টি হতে পাস করা প্রার্থী রয়েছেন ৯৫, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে পাস করা প্রার্থী ৫০, বিএসসি ইন টেকনোলজি পাস করা প্রার্থী ৯, সনদবিহীন প্রার্থী ২ এবং ডিপ্লোমা ইন ফার্মেসি পাস করা প্রার্থী ১ জন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার স্বীকৃত ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি হতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিন বছরের ডিপ্লোমা পাস চাওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে যে ১৮৩ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টের নাম অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে তাতে অনেকের নামের বানান ভুল। এসব বিষয়ে গতকাল স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এদিকে বেকার অ্যান্ড প্রাইভেট সার্ভিসেস মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএসএমটিএ) সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম এবং মহাসচিব মো. সিরাজুল ইসলাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অনুরোধ করেছেন, চলমান মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেন কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে পাস করা প্রার্থীদের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদে নিয়োগ না দেওয়া হয়। শুধু রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের প্রার্থীদের এ নিয়োগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে চিকিৎসক ও নার্সদের মতোই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা। যেখানে দেশে দেড় লাখ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দরকার সেখানে আছে মাত্র ৫ হাজার ১৬৫ জন। গত ১০ বছর ধরে এ পদে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি থেকে পাস করা মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদিত কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা টেকনোলজিস্টদের স্বাস্থ্য বিভাগে নিয়োগ পাওয়া নিয়ে এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

বেকার মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদ যে ফর্মুলায় স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করেছে তা অনুসরণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোনো সংগঠনের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া উচিত নয়। যে সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে লেনদেনের মাধ্যমে ১৮৩ জন বাছাইয়ের অভিযোগ আছে তাদের এ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। ১৮৩ জনের প্রাথমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া ছিল অস্বচ্ছ ও ত্রুটিপূর্ণ। একই সঙ্গে নিয়োগ বিধিবহির্ভূত। স্বাস্থ্য বিভাগ যে প্রক্রিয়ায় তালিকাটি অনুমোদন করেছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।