দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর-রামনগর-ছান্দ্রা সড়কটি বেহাল হয়ে রয়েছে। পুরো অংশজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ থাকায় সড়কটিতে হাঁটাও প্রায় অসম্ভব। এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন আশপাশের ৮ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ।
গৌরীপুর গ্রামের ফজলুল হক, কালু মিয়া, বাদশা মিয়া, সুভাষ ঘোষ ও আব্দুল হাকিম বলেন, ‘দীর্ঘ ১৫ বছর রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে পোহাতে অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। এ রাস্তাটি যেন দেখার কেউ নেই। চেয়ারম্যান মেম্বারদের কয়েকবার লোকজন এনে মাপতে দেখেছি। মাপা পর্যন্তই শেষ, কাজ শুরু হবে কি না জানি না।’ ক্ষোভের সুরে ওলানপাড়া গ্রামের অটোচালক ইব্রাহিম মিয়া বলেন, ‘রাস্তাটি দিয়ে অটো চালাতে গিয়ে শরীর ব্যথা হয়ে যায়। অটোর কলকব্জা খুলে পড়ে। প্যাসেঞ্জারদেরও খুব কষ্ট হয়। এ রাস্তা কবে ঠিক হবে আল্লাহই জানেন।’
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ কিলোমিটার। ২০০৩ সালে এলজিইডির উদ্যোগে সড়কের (গৌরীপুর বাজার থেকে রামনগর পর্যন্ত ২.৫ কিলোমিটার অংশে) সংস্কারকাজ হয়। ১২ বছর পর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৯০ লাখ টাকার টেন্ডার হলেও অজ্ঞাত কারণে ঠিকাদার কাজটি করেনি বলে এলাকাবাসী জানান। ঠিকাদার কাজ না করায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিকবার সড়কটি পরিদর্শন করেন। নতুন করে আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠানো হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এ প্রস্তাব বাতিল করে দেওয়ায় সড়কটি সংস্কারে আলোর মুখ দেখেনি।
গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল হাসেম সরকার বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের প্রতিটি মাসিক সভায় সড়কটির বেহাল অবস্থার কথা তুলে ধরেছি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ (পিডি) কয়েকবার সড়কটি পরিদর্শন করার পরও বরাদ্দ আসছে না। ইউনিয়নের প্রধান সড়কটির দীর্ঘদিন কাজ না হওয়া দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন মানুষ।’
উপজেলা প্রকৌশলী (স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর) মো. আহসান আলী বলেন, ‘আমি আসার আগে এক ঠিকাদার কাজটি ফেলে চলে যাওয়ার কথা শুনেছি। এখন নতুন করে উল্লিখিত সড়কটির এস্টিমেট পাঠানো হয়েছে। এখন শুধু টেন্ডার প্রক্রিয়া বাকি।’