সিদ্ধিরগঞ্জে মারামারির ঘটনায় কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনাকে প্রধান আসামি করে মোট ৫২ জনের নামে মামলা করা হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে করোনায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এক ভাড়াটিয়ার পক্ষে বিচারের রায় দেওয়ায় ক্ষুব্ধ বাড়িওয়ালির ছেলে স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মীদের নিয়ে কাউন্সিলর দিনার কার্যালয়ে ঢুকে তার ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। তারা এ সময় নারী জনপ্রতিনিধিকে লাঞ্ছিত ও শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে বলে অভিযোগে জানা যায়।
এ বিষয়ে ওই দিন রাতেই দু’পক্ষ থানায় পৃথক দু’টি অভিযোগ দায়ের করে। পর দিন বুধবার ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও এমপি শামীম ওসমানের ছবি ভাঙচুর করে তা কাউন্সিলর দিনা ও তার সেচ্ছাসেবক দলের সদস্যদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তারা এ ঘটনায় মামলা দিতে চাইলেও বুধবার পুলিশ সেই মামলা নেয়নি।
তবে বৃহস্পতিবার সকালে ছাত্রলীগ কর্মীদের মারধরের ঘটনায় একটি মামলাগহণ করে পুলিশ। তবে কাউন্সিলর দিনার করা লিখিত অভিযোগে মামলা নেয়নি পুলিশ।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, সোমবার নাসিক সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বৌ-বাজার এলাকায় করোনা ইস্যুতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এক ভাড়াটিয়ার বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করতে না পারা এবং বাসা ছেড়ে না দেওয়া নিয়ে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনা ও তার খালার সঙ্গে বাদানুবাদ হয়। দিনা এসময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে ভাড়াটিয়ার পক্ষে রায় দেন। এরই প্রেক্ষিতে ক্ষিপ্ত হয়ে দিনার খালাত ভাই রুবেল (বাড়িওয়ালার ছেলে) ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফ হাসান অর্নব এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামসহ অন্যরা কাউন্সিলর দিনার অফিসে গেলে একপর্যায়ে উভয় পক্ষে কাথা কাটাকাটি এবং পরে তা মারামারি পর্যন্ত গড়ায়।
এ ঘটনায় উভয়পক্ষই ওই রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দুটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন। নারী কাউন্সিলর তাকে মারধর ও স্বর্ণালংকার এবং মোবাইল চুরি অভিযোগ করেন। অপরদিকে ছাত্রলীগও তাদেরকে মারধর ও রক্তাক্ত জখম এবং চুরির অভিযোগ করে। মঙ্গলবার দুপুরে ও বিকেলে দিনা ও ছাত্রলীগ আলাদা আলাদা সংবাদ সম্মেলনও করেন।
এ দিকে বৃহস্পতিবার সকালে নাসিক ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সভাপতি আরিফ হাসান অর্নবের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি মামলা দায়ের হয়। মামলায় কাউন্সিলর দিনা এবং তার ভাই দিপুসহ ২২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া মামলায় আরো ৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। কিন্তু কাউন্সিলর দিনার করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনো মামলা নেয়নি পুলিশ।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ফারুক জানান, নারী কাউন্সিলর ও ছাত্রলীগের মারামারির ঘটনায় দু'পক্ষই অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু আমরা তদন্ত করে ছাত্রলীগকে মারধরের বিষয়টির সত্যতা পেয়েছি। কিন্তু কাউন্সিলর দিনার অভিযোগের কোনো সত্যতা পাইনি তাই ছাত্রলীগের করা অভিযোগের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনা জানান, আমি ন্যায়বিচারের আশায় আছি। একজন অসহায় ভাড়াটিয়াকে সহযোগিতা করতে গিয়ে আমার আত্মীয়ের সঙ্গে যে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে, সেখানে স্থানীয় ছেলেদের আসার কোনো কারণ নেই। তারপরও ওরাই এসে আমার স্বামী ও ভাইসহ আমার ওপর হামলা করল, আবার ওরাই মামলা করল আমার বিরুদ্ধে। অথচ আমি নারায়ণগঞ্জ- ৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে তার আশ্বাসে তার ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষায় ছিলাম তাই মামলা করিনি। আমি শুধু শ্রদ্ধেয় শামীম ওসমান ভাইয়ের বিচারের অপেক্ষায় আছি।
এদিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বুধবার রাত ১২টায় আটক হওয়া আমান ও দুলালকে বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালত জামিন দেয়।