বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ চূড়ায় পৌঁছেছে কি না তা এখনই বলা কঠিন বলে মনে করছেন বাংলাদেশ সফরে আসা চীনের বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এবং পরিকল্পিত উপায়ে লকডাউনসহ প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি আশ্বাস দিয়েছেন কার্যকর ভ্যাকসিন (টিকা) খুঁজে পেলে তা বন্ধুদেশ হিসেবে বাংলাদেশকে আগেভাগেই দেওয়া হবে। যদি তাই হয় তবে চলতি বছরের মধ্যে চীন থেকে টিকা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশের।
দুই সপ্তাহ বাংলাদেশে অবস্থানের পর গতকাল দেশে ফেরার আগে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিকাব) সদস্যদের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্স করেন চীনা বিশেষজ্ঞরা।
সে সময় তারা বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সার্বিক পরিস্থিতি দেখে হতাশা প্রকাশ করলেও বাহবা দিয়েছেন চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের। আশ্বাস দিয়েছেন বছরের শেষ নাগাদ পাওয়া যেতে পারে কার্যকর টিকা।
এদিকে এর আগের দিনই মানবদেহে সম্ভাব্য করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু করেছেন দেশটির গবেষকরা। চীনের ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল বায়োলজির (আইএমবিসিএএমএস) গবেষকরা আশা করছেন বিশ্বে দশটিরও বেশি সম্ভাব্য করোনা ভ্যাকসিনের পরীক্ষা মানবদেহে চালানো হচ্ছে। তবে কোনোটিই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তৃতীয় ধাপ পেরুতে পারেনি। এই ধাপ পেরুলে বিক্রয় অনুমোদন প্রক্রিয়াটাও সহজ হয়ে যায়।
চীনের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব মেডিক্যাল সায়েন্সের ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল বায়োলজি সম্ভাব্য কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের দ্বিতীয় ধাপ শুরু করেছে। চীনে মোট পাঁচটি ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যা বিশ্বে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন দেওয়া মোট ভ্যাকসিনের ৪০ শতাংশ। গত মে মাসে প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালে এর একটি ভ্যাকসিন ২০০ জন অংশগ্রহণকারীর দেহে প্রয়োগ করা হয়। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায় ভ্যাকসিনের ডোজ নির্ধারণ করা হয় এবং সেটি মানুষের মাঝে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারছে কি না তা যাচাই করা হয়।
সম্ভাব্য ভ্যাকসিনটি উৎপাদনের জন্য ইতিমধ্যেই একটি কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এই বছরের মধ্যে ভ্যাকসিনটির উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে আশা গবেষকদের।
তবে এই জরুরি অবস্থায় কোনো সরকারি অনুমোদনের আগেই সম্ভাব্য ভ্যাকসিনগুলোর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন ছাড়পত্র দেওয়ার সুপারিশ অবশ্য ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা করে আসছেন। এ ছাড়া আইএমবিসিএএমএস-এর ভ্যাকসিন গবেষণায় সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা এবং সক্ষমতা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এর আগে পোলিওর বিরুদ্ধে সরাসরি সক্রিয় ভ্যাকসিন এবং নিষ্ক্রিয় ভ্যাকসিন তৈরি করেছে।
গত মাসে চাইনিজ সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের পরিচালক গাও ফু জানান, ২০২০ সালের শেষের দিকে বিশেষ প্রয়োজন আছে এমন কিছু গ্রুপ জরুরি পরিস্থিতিতে পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিনটি ব্যবহারের অনুমতি পেতে পারে।
বাংলাদেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে চীনের সরকারি ও বেসরকারি খাত থেকে মাস্ক, টেস্ট কিটসহ নানা ধরনের সহায়তা এসেছে। করোনাকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক সম্পর্কও বেড়েছে চীনের সঙ্গে। পাশাপাশি আঞ্চলিক রাজনীতির কারণে বাংলাদেশকে মিত্র হিসেবে কাছে টানতে করোনাযুদ্ধে সহায়তার হাত আরও প্রসারিত করতে পারে চীন।