জ্বর, সর্দি-কাশি নিয়ে প্রবাসীসহ ৬ জনের মৃত্যু

মাদারীপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে এক ইতালি প্রবাসী মারা গেছেন। গতকাল রবিবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। এছাড়াও বরিশালে শিশু-নারীসহ দুজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক দন্ত চিকিৎসক, লক্ষ্মীপুরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সিরাজগঞ্জে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিস্তারিত প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর-

মাদারীপুর : শহরের কলেজ রোড এলাকার নিরাময় হাসপাতাল সংলগ্ন ইতালি প্রবাসী ছালাম খালাশী (৫৭) জ্বর ও কাশি নিয়ে গতকাল দুপুরে মারা গেছেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, গত মার্চের প্রথম সপ্তাহে ইতালি থেকে আসেন ছালাম। এক সপ্তাহ আগে তার করোনা উপসর্গ দেখা দেয়। গতকাল দুপুর ২টার দিকে নিজ বাসাতেই তিনি মারা যান। সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইকরাম হোসেন বলেন, তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ : উল্লাপাড়া পৌর এলাকার ঘোষগাতী গ্রামের জয় গোপাল কু-ু (৭৫) নামে এক বৃদ্ধ উপসর্গ নিয়ে রবিবার বেলা ১১টার দিকে মারা গেছেন। মৃতের বড় ছেলে জয়ন্ত কু-ু জানান, কিছু দিন ধরে তার বাবা জ্বর, ঠাণ্ডা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। গত শুক্রবার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাকে বগুড়ার টিএমএসএস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার তার নমুনা সংগ্রহ করে। কিন্তু রিপোর্ট আসার আগেই তিনি মারা যান। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আলামিন হোসেন জানান, উপসর্গ থাকায় বিশেষ ব্যবস্থায় গোপাল কু-ুর সৎকার করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে গতকাল ভোর ৫টার দিকে উপসর্গ নিয়ে সৈয়দ শাহনেওয়াজ (৫০) নামে এক দন্ত চিকিৎসক মারা গেছেন। শাহনেওয়াজ হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মাধবপুর বাজারে হাক্কানী ডেন্টাল ক্লিনিক নামে একটি দন্ত চিকিৎসালয় পরিচালনা করতেন। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজীপাড়া মহল্লায়।

বরিশাল : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে আল মামুন (১৩) নামে এক শিশু মারা যায়। এর আগে শনিবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে মারা যান শিউলি বেগম (৪০) নামে এক নারী। তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন।

লক্ষ্মীপুর : রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শহিদ উল্যা (৫৫) জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে রাজধানীর আনোয়ার খাঁন মডার্ন হসপিটালে মারা গেছেন। শনিবার রাত ২টার দিকে তিনি মারা যান। শহিদ উল্যার বড় ছেলে মো. রিয়াদ জানান, তার বাবা ৮/১০ দিন ধরে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। বুধবার অবস্থার অবনতি হলে তাকে আনোয়ার খাঁন হসপিটালে ভর্তি করে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। শনিবার রাতে সেখানে তার মৃত্যু হয়। হসপিটাল সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান শহিদ উল্যার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।