বেনাপোল বন্দরে কর ফাঁকি ঠেকাতে কঠোর অবস্থান কাস্টমসের

যশোরের বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য গতিশীল, দ্রুত পণ্য খালাস ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কাস্টমস কর্র্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, রাজস্ব ফাঁকির সঙ্গে জড়িত আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কালো তালিকাভুক্ত করে তাদের পণ্য চালান শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হবে। আর যাদের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ নেই তাদের পণ্য চালান ‘ডি’ মার্কের মাধ্যমে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই খালাস দেওয়া হবে।

গতকাল রবিবার দুপুরে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেওয়া বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের এ কথা জানিয়েছে কাস্টমস কর্র্তৃপক্ষ। ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন সারা দেশ থেকে ১০০ ব্যবসায়ী, কাস্টমস কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা। বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন। 

কনফারেন্সে বলা হয়, কেমিক্যাল জাতীয় পণ্য চালান ল্যাবে পরীক্ষা করার পর ফলের ভিত্তিতে শুল্কায়ন করে খালাস দেওয়া হবে। বন্দরে ওয়েইং স্কেলের ওজনের ভিত্তিতে পণ্যের শুল্কায়নের বিষয়ে বলা হয়, বন্দরে স্কেলগুলোতে এক একটির ওজন একেক রকম হওয়ায় জটিলা দেখা দিচ্ছে। এটি অবশ্যই বিবেচনায় নেওয়া হবে। এটিকে পুঁজি করে কেউ স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, ৪ জুন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বেনাপোল বন্দর দিয়ে সাইড ডোর রেল কার্গো চালুর নির্দেশনা দিয়েছে। সেই সঙ্গে রেল টার্মিনাল ইয়ার্ড তৈরিরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাধীনতার পর চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বেনাপোল বন্দর দিয়ে শুরু হয় রেলের মাধ্যমে পণ্য আমদানি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ১২ দিনে ৩০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। স্থলপথে যেখানে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ ট্রাক পণ্য আমদানি হতো বেনাপোল বন্দর দিয়ে, সেখানে বর্তমানে কভিড-১৯-এর কারণে মাত্র ১৫০ ট্রাক মালামাল আমদানি হচ্ছে। ওপারে পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় কালীতলা পার্কিংয়ে আমদানি পণ্যবোঝাই প্রতি ট্রাক থেকে ২ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। দুই দেশের ব্যবসায়ীরা পশ্চিমবাংলার বনগাঁও এলাকায় একটি চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে কনফারেন্সে অভিযোগ করা হয়।

কনফারেন্সে বলা হয়, ভারতের সঙ্গে বেনাপোল বন্দর দিয়ে বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য সম্পন্ন হয়। এনবিআর চলতি অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টম হাউজের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বেনাপোল-যশোর মহাসড়ক ৬ লেন ও বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে বেনাপোল বাজার পর্যন্ত এলিভেটেড ট্রেন চালু, আইসিডি চালুসহ বাইপাস সড়ক ৪ লেন করার দাবি জানানো হয়েছে। কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘এসব দাবি আগেই পাস হয়ে আছে, এডিবির অর্থায়নে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।’