মৃত্যু দেড় হাজার ছাড়াল

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যুর সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল সোমবার দেশে করোনা শনাক্তের ১০৭তম দিনে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে গত ১০ জুন দেশে করোনায় মৃত্যু হাজার ছাড়ানোর মাত্র ১২ দিনের মাথায় মৃত্যু দেড় হাজার ছাড়াল। দেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা শনাক্তের দশ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরপর গত ২৫ মে ৭৯তম দিনে সর্বমোট মৃত্যু ৫০০ ছাড়ায়। গত ১০ জুন ৯৫তম দিনে মৃত্যু হাজার ছাড়ায় এবং গতকাল ২২ জুন ১০৭তম দিনে মৃত্যু দেড় হাজার ছাড়াল। অর্থাৎ প্রথম ৫০০ মৃত্যু হয়েছে ৭৯ দিনে, দ্বিতীয় ৫০০ মৃত্যু ১৬ দিনে এবং তৃতীয় ৫০০ মৃত্যু মাত্র ১২ দিনে। এছাড়া চলতি মাসের গত ২২ দিনেই মারা গেছেন ৮৫২ জন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৫৭ শতাংশ বা অর্ধেকের বেশি।

এদিকে গত ১৮ জুন দেশে সর্বমোট করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা লাখ ছাড়ানোর পর গতকাল তা ১ লাখ ১৫ হাজার ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। সাড়ে ১৫ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা করে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। কয়েকদিন ধরে পরীক্ষার সংখ্যা কমে যাওয়ায় শনাক্তও কিছুটা কমেছে। তবে শনাক্তের হার ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় প্রতি ১০০ পরীক্ষায় ২২ জনের বেশি করে রোগী শনাক্ত হয়েছে।

গতকাল নিয়মিত বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার দুপুর ১২টা থেকে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ৬২টি পরীক্ষাগারে নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৬ হাজার ২৮৭টি। পরীক্ষা করা হয়েছে ১৫ হাজার ৫৫৫টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ৩ হাজার ৪৮০ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এদিন রোগী শনাক্তের হার ছিল ২২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। একই সময়ের মধ্যে করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৩৮ জন এবং হাসপাতাল ও বাসায় সুস্থ হয়েছেন আরও ১ হাজার ৬৭৮ জন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত দেশে সর্বমোট ৬ লাখ ২৭ হাজার ৭১৯টি নমুনা পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৮৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন মোট ১ হাজার ৫০২ জন ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৬ হাজার ৭৫৫ জন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৩০ শতাংশ ও সুস্থতার হার ৪০ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের বিষয়ে বলা হয়, তাদের মধ্যে পুরুষ ৩৩ ও মহিলা ৫ জন। সর্বোচ্চ ১৫ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। বাকিদের মধ্যে চট্টগ্রামে ১২ জন, বরিশালে ৪ জন, রাজশাহী, খুলনা ও ময়মনসিংহে ২ জন করে এবং সিলেট বিভাগে মারা গেছেন ১ জন। হাসপাতালে মারা গেছেন ২৫ জন, বাড়িতে ১২ জন এবং মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে ১ জনকে। তাদের মধ্যে ১১-২০ বছরের ১ জন, ২১-৩০ বছরের ৩ জন, ৩১-৪০ বছরের ১ জন, ৪১-৫০ বছরের ৩ জন, ৫১-৬০ বছরের ১৬ জন, ৬১-৭০ বছরের ১০ জন, ৭১-৮০ বছরের ৩ জন এবং ৮১-৯০ বছরের ১ জন।

বুলেটিনে আরও বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৬১৮ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন মোট ১২ হাজার ৪৬৭ জন। একই সময়ের মধ্যে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে আরও ২ হাজার ৬৬৩ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন। স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে ২৪ ঘণ্টায় কল এসেছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৫২টি। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ১ হাজার ৬০৯ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে করোনা চিকিৎসা চালু : রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক ইনস্টিটিউট হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা চালু হয়েছে বলে জানান ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, হাসপাতালটিতে করোনা আক্রান্ত রোগীদের ভর্তির জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে এ হাসপাতালে করোনা রোগীদের ভর্তি করানো হবে।

ঢাবির পরীক্ষাগারে ফের শুরু হচ্ছে নমুনা পরীক্ষা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের পরীক্ষাগারে পুনরায় করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরু হবে বলে এদিন জানানো হয় বুলেটিনে। এর আগে গত মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে পরীক্ষাগারটিতে করোনা পরীক্ষা চালু হয় এবং ২ হাজার ৫৩৭টি নমুনা পরীক্ষার পর চলতি মাসের প্রথম দিন থেকে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এটি পুনরায় চালু হলে দেশে সর্বমোট করোনা পরীক্ষাগারের সংখ্যা দাঁড়াবে ৬৩টিতে।