গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল

দরপত্রে কারসাজির অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন সাংসদের

গাইবান্ধা ২০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ওষুধসহ বিভিন্ন মালামাল কেনাকাটায় নি¤œ দরদাতাদের বাদ দিয়ে উচ্চ দরদাতাদের কার্যাদেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উচ্চ দরদাতাদের কার্যাদেশ দেওয়ায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারিয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বেশ কয়েকজন ঠিকাদার। এর পরিপ্রেক্ষিতে দরপত্রে অনিয়ম হয়েছে কি না তা যাচাই করতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন স্থানীয় সাংসদ হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি।  গত ১৮ মে জেলা প্রশাসককে দেওয়া ওই অভিযোগে বলা হয়, চলতি বছরের ২০ এপ্রিল গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের ওষুধসহ বিভিন্ন মালামাল কেনাকাটায় এমএসআর (ওষুধপত্র, লিলেন, যন্ত্রপাতি, গজ-ব্যান্ডেজ-তুলা, রাসায়নিক রি-এজেন্ট ও আসবাবপত্র) দরপত্র প্রকাশ করা হয়। গত ১৩ মে দরপত্র জমাদানের শেষ তারিখ ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২৮টি দরপত্র জমা পড়ে। এই দরপত্রে ৪০টি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যা অযাচিত। দরপত্র নীতিমালাবহির্ভূত কিছু মনগড়া শর্ত আরোপ করে সর্বনি¤œ দরদাতাদের বাতিল করার পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে। এভাবে সর্বনি¤œ দরদাতাদের বাতিল করলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে। সাধারণ দরপত্র মূল্যায়ন কমিটিতে জেলা প্রশাসকের একজন প্রতিনিধি থাকার কথা। কিন্তু এক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, দরপত্রের নীতিমালা অনুযায়ী সর্বনি¤œ দরদাতাদের কার্যাদেশ দেওয়ার কথা। কিন্তু সর্বনি¤œ দরদাতাদের কার্যাদেশ না দিয়ে তুলনামূলক উচ্চ দরদাতাদের বাছাইয়ে উত্তীর্ণ করে গত ১৮ মে চারটি প্রতিষ্ঠানকে উচ্চ দরে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারী ঠিকাদারদের একজন গাইবান্ধা শহরের স্টেশন রোডের সিয়াম স্টোরের প্রতিনিধি সিহাব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দরপত্র নীতিমালা অনুযায়ী ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট, টিআইএন, ব্যাংক সার্টিফিকেট এবং অভিজ্ঞতা থাকলে দরপত্রে অংশগ্রহণ ও কাজ করতে কোনো বাধা নেই। অথচ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এই দরপত্রে ৪০টি অপ্রয়োজনীয় শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশের অন্যান্য মেডিকেল ও সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে দরপত্র দাখিল করতে ঠিকাদারদের এত শর্তের বেড়াজালে পড়তে হয় না।’

এদিকে গত শনিবার গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সাংসদ হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি। এতে ওষুধ ও সরঞ্জামাদি কেনাকাটায় অনিয়ম হয়েছে কি না তা তদন্ত করতে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দেন তিনি। এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন এবং সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন জেলা প্রশাসকের একজন প্রতিনিধি। আর সদস্য রয়েছেন জেলা বিএমএ সভাপতি, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী।

গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাসপাতালের ওষুধ ক্রয়ে দরপত্রে অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মাহফুজার রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দরপত্র আহ্বানে কোনো ঘাপলা করা হয়নি। বিশেষ কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

অযাচিত শর্ত আরোপের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এসব শর্ত দিয়ে আগে থেকেই গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছিল। আমিও তাই করেছি।’

অন্যদিকে জেলার সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ গতকাল বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাংসদ গঠিত তদন্ত কমিটির রেজুলেশনের কপি এখনো আমি হাতে পাইনি। কাগজ হাতে পেলে কমিটির সকলে বসে যা করণীয় তা করা হবে।’