বীজ কোম্পানিগুলোকে কম মুনাফার অনুরোধ কৃষিমন্ত্রীর

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে বেসরকারি বীজ কোম্পানিগুলোকে মুনাফা কম করার অনুরোধ জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক। গতকাল সোমবার কৃষিমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন থেকে করোনাভাইরাসজনিত বিরাজমান পরিস্থিতিতে ‘বিভিন্ন ফসলের বীজ উৎপাদন, আমদানি, সরবরাহ ও বিপণন নিরবচ্ছিন্ন রাখা’ শীর্ষক অনলাইন সভায় এ অনুরোধ জানান। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘এ দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বের সঙ্গে এ দেশের কৃষকরাও বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি। এটি মোকাবিলায় সরকার কৃষি খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভর্তুকিসহ নানা প্রণোদনা দিচ্ছে। এ বছর কৃষকের ক্রয়ক্ষমতা ও আর্থিক সচ্ছলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হাইব্রিড ধান বীজ, ভুট্টা বীজ ও সবজি বীজসহ অন্যান্য বীজে কম মুনাফা অর্জন করার জন্য সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) নিয়ে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি বীজ কোম্পানিগুলোকে কৃষকের সেবায়, কৃষির সেবায় এগিয়ে আসতে হবে।’

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘শুরুর দিকে মৌসুমি ফল ও শাকসবজি বাজারজাতে কিছু সমস্যা থাকলেও এখন সেই সমস্যা নেই। মোটামুটি ভালো দামেই চাষিরা তাদের উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে পারছেন। আমন ধান আবাদের এরিয়া বোরোর চেয়ে বেশি হলেও উৎপাদন অনেক কম। একমাত্র উচ্চফলনশীল জাতের গুণগতমানসম্পন্ন বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদনশীলতা ১৫-২০ ভাগ বাড়ানো সম্ভব।’

সভায় জানানো হয়, সরকার এবারই প্রথম বীজেও ভর্তুকি দিয়েছে। বিএডিসির ১৯ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন আমন ধানবীজ চাষিপর্যায়ে বিক্রয়ের জন্য ২০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। বিএডিসি তাদের ঘোষিত নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের চেয়ে কেজি প্রতি ১০ টাকা কম দামে উফশী আমন ধানবীজ ও হাইব্রিডের ক্ষেত্রে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা কম দামে চাষিপর্যায়ে বীজ বিক্রি করেছে। সভায় আরও সংযুক্ত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আরিফুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আবদুস সাত্তার ম-ল প্রমুখ।