যুক্তরাষ্ট্রে ফুলে-ফেঁপে ওঠা ওষুধ কোম্পানি

করোনাকালে বিশ্বজুড়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। প্রায় সবখানেই মন্দার পদধ্বনি। কিন্তু রমরমা ব্যবসা চলছে ওষুধ কোম্পানিগুলোর। যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধের দাম নির্ধারণে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম না থাকায় তাদের ব্যবসা দিন দিন ফুলে-ফেঁপে উঠছে। বলা হচ্ছে, মহামারী যত খারাপ অবস্থার দিকে যাবে, তারা তত লাভবান হবে। লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

বিপুল আয়ের নেপথ্যে

করোনাভাইরাসে যখন বিশ্বের কোনায় কোনায় অসুস্থতা, মৃত্যু আর বিপর্যয় ডেকে এনেছে, এমন কোনো অর্থনৈতিক খাত নেই যেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে এই মহামারীর ভয়াবহতার সময়, ওষুধ কোম্পানিগুলো শুধু টিকেই ছিল না, সাধারণ অন্যান্য সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি আয়ও করেছে। এক কথায়, ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলো কভিড-১৯-এর এ সময় ব্যবসার জন্য স্মরণকালের সবচেয়ে বড় সুযোগ পেয়েছে। বিশ্ববাসীরও ওষুধের প্রয়োজন আর এই করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব ছড়ানোর পর ওষুধের প্রয়োজন হয়ে পড়ে দ্বিগুণ। এখন যথাযথ চিকিৎসা ও ভ্যাকসিনের জন্য আমেরিকাসহ কয়েকটি দেশে জোর প্রচেষ্টা চলছে। ‘ফার্মা : গ্রিড, লাইস অ্যান্ড দ্য পয়জনিং আমেরিকা’র লেখক জেরাল্ড পসনার বলেন, ‘কোম্পানিগুলো সবাই প্রতিযোগিতার মধ্যে আছে। এখানে যে জিতবে তার লাভ হবে সবচেয়ে বেশি। যারা দৌড়াচ্ছে তারাও লাভবান হবে। বিক্রি ও লাভ দুটিই বৈশ্বিক মহামারীতে এই শিল্প খাতে ব্লকবাস্টারের মতো। যত মহামারী খারাপের দিকে যাবে, তত তাদের ব্যবসায় লাভ হবে।’

আমেরিকায় ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ আয় করা অন্যান্য যেকোনো দেশের তুলনায় অনেক সহজ। বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় দাম নির্ধারণের জন্য তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা আছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই দাম আগের চেয়ে কিছুটা হলেও বাড়িয়েছে করোনাভাইরাসের কারণে প্যাকেজিং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যে বাড়তি খরচ হচ্ছে তা পুষিয়ে নিতে। প্রাথমিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন আইনপ্রণেতা চেষ্টা করেছিলেন ওষুধ কোম্পানিগুলো জনসাধারণের তহবিলের সাহায্যে যে ভ্যাকসিন তৈরি করবে, সেগুলোর দাম সরকার নির্ধারণ করে দেবে। ফেব্রুয়ারি মাসে, ইলিনয়েসে আমেরিকার রিপ্রেজেনটেটিভ ও ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্য জ্যান স্ক্যাকোয়স্কি এবং আরও কয়েকজন হাউজ মেম্বার একত্র হয়ে একটি চুক্তি পাঠান ট্রাম্পের কাছে। তাতে বলা ছিল, ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলো যেন লাভ আদায়কে মুখ্য না রেখে ওষুধের দাম ও বিতরণ ব্যবস্থা সহজ করে স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেয়। আমেরিকার ট্যাক্স প্রদানকারী কোনো ব্যক্তির কাছে যেন এটি বাড়তি মনে না হয়। তাদের কাছে যেন এটি সহজলভ্য, সুলভ ও ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে। করোনাভাইরাস নিয়ে ফান্ডিং শুরু হলে স্ক্যাকোয়স্কি আরও একবার চেষ্টা করলেন। ২ মার্চ হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস সেক্রেটারি অ্যালেক্স আজারকে আবার লিখলেন। সেখানে লিখেছিলেন, ওষুধ প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যদি খোলাখুলিভাবে ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করার লাইসেন্স দিয়ে দেওয়া হয়, যারা এই কাজের জন্য অর্থ দিচ্ছে আবার তাদেরই যদি অতিরিক্ত দামে ওষুধ কিনতে হয়, তবে সত্যিই সেটি দুঃখজনক। এমন সিদ্ধান্ত আসলেই মেনে নেওয়া যায় না। অনেক রিপাবলিকান সদস্য এর বিরোধিতা করেন। তাদের মতে, এতে এই খাতের লভ্যাংশ অর্জনের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে, তারা শঙ্কা প্রকাশ করেন এতে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজে ব্যাহত হতে পারে। আজার নিজেও যিনি একজন লবিস্ট এবং ট্রাম্পের অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে যোগ দেওয়ার আগে এলি লিলি নামের যৌথ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির আমেরিকার প্রধান ছিলেন, তিনিও স্ক্যাকোয়স্কির সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরও ওষুধ কোম্পানিগুলো নিজেদের মতো দাম নির্ধারণ করতে থাকে ওষুধ আর ভ্যাকসিনের জন্য।

শেষ পর্যন্ত ওষুধ প্রস্তুত করা নিয়ে যে চুক্তি প্রকাশ করা হয়, তাতে শুধু দাম নিয়ন্ত্রণের কথা বাদ দেওয়া হয়েছিল তাই নয়, কিছু প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের মতো কাজ করার স্বাধীনতা দিয়ে দেওয়া হয়। চুক্তিতে যে শর্তগুলো থাকার কথা ছিল সেগুলো যুক্ত করা হয়নি।

পসনার বলেন, ‘যেভাবে নিজস্ব বুদ্ধিমত্তায় উদ্যোগটিকে হত্যা করা হয়েছে, তাতে এই লবিস্টদের আসলে ফার্মা ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে মেডেল পাওয়া উচিত। এই চুক্তি মহামারীতে কিছু কোম্পানিকে শুধু অর্থলোভীই করে তুলেছে।’ সত্যিটা হচ্ছে, জনগণ ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে যে ট্যাক্স দেয় সেটি নিয়েও ব্যবসা হয়। পসনারের হিসাবে, ১৯৩০ সাল থেকে, জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থা প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলার ওষুধ কোম্পানিগুলোকে দিয়েছে গবেষণা ও ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য। ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আবিষ্কৃত প্রতিটি ওষুধ বাজারে যাওয়ার আগে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে অনুমতি দিত। বিভিন্ন গবেষণায় ট্যাক্স থেকে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান জনগণের টাকায় অনেক অর্থ আয় করেছে, এমন কারও নাম বলতে হলে বলতে হয় এইচআইভির ওষুধ ‘এজেডটি’ এবং ক্যানসার চিকিৎসা ‘কায়ম্রিয়াহ’-এর প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠান নোভারটিসের নাম। এই ওষুধগুলো বিক্রি হচ্ছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ডলারে।

লভ্যাংশের একটি বড় অংশ আবার খরচ হয় ওষুধ কোম্পানির এক্সিকিউটিভ আর গ্রাহকদের মধ্যে। আবার তাদের দিয়েই ফার্মাসিউটিক্যাল খাত এক রকম বুস্ট করানো হয়। ফার্মা হেলথ কেয়ার ইকোনমি অ্যাএক্সিওসের হিসাব অনুযায়ী, আমেরিকায় পুরো স্বাস্থ্য খাতে ওষুধ কোম্পানিগুলো না হলেও ৬৩ শতাংশ বেশি আয় করে অন্যদের তুলনায়। আইনপ্রণেতাদের সহায়তায় এই খাতে লভ্যাংশের হার বরাবরই বেশি হয়। ২০১৯ সালে, আমেরিকায় আইনি ক্ষেত্রে ২৯৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছিল ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিগুলো। এই খরচ ইলেকট্রনিকস, ম্যানুফ্যাকচারিং, তেল ও গ্যাস এবং অন্যান্য যেকোনো খাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের প্রচারের জন্যও এই শিল্প খাত প্রচুর খরচ করে।

বর্তমানে মহামারীতে বড় ওষুধ কোম্পানিগুলোর আয় এই শিল্প খাতকে ভালো একটি অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। শেয়ার বাজারগুলো যখন ডুবে গেছে, তখন নতুন সার্স-কভ-২ ভাইরাস সম্পর্কিত একটি ভ্যাকসিন এবং অন্যান্য পণ্য নিয়ে কাজ করা ২০টিরও বেশি সংস্থা রক্ষা পেয়েছে। বায়োটেক কোম্পানি মডার্না যখন করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য অংশগ্রহণকারী নিয়ে কাজ শুরু করে, সে সময় তাদের স্টকের দাম অনেক বেড়ে যায়। একইভাবে করোনাভাইরাসের থেরাপি নিয়ে কাজ করছে এমন ঘোষণা দেওয়ার পর বেড়েছিল এলি লিলির স্টক শেয়ারের দামও। জিলিড সায়েন্স, যারা এই রোগের চিকিৎসা নিয়ে কাজ করছিল, তাদের শেয়ারও দিন দিন বাড়তে থাকে। বিশেষ করে যখন বলা হয়, তাদের তৈরি ইবোলার ওষুধ কভিড-১৯-এর রোগীদের ক্ষেত্রে কাজ করছে।

জনসন অ্যান্ড জনসন, ডায়াসরিন মলিকিউলার, কিয়াজেনসহ বেশ কটি কোম্পানি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিল তারা ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিস থেকে পাওয়া অর্থ দিয়েই মহামারীতে কাজ করে যাচ্ছে, যেখানে এলি লিলি বা জিলিড সায়েন্সের কেউই নিশ্চিত করে জানায়নি ভাইরাসের জন্য তাদের অর্থ কোথা থেকে আসছে। এই দুই প্রতিষ্ঠান হোয়াইট হাউজের করোনাভাইরাস টাস্কফোর্স হিসেবে কাজ করছে। বছরের প্রথমভাগেই এই প্রতিষ্ঠানের আয় বেড়ে যায় ১৫ শতাংশ বেশি, যতটা তারা ধারণা করেছিল, তার চেয়েও অনেক বেশি। প্রতিষ্ঠানটির ডায়াবেটিসের ওষুধ ‘ট্রুলিসিটি’ এক লাফে বিক্রি হয় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। বলতে গেলে, কভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবে বিক্রি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে অল্প সময়ের মধ্যে। বছরের বাকি সময় জুড়েও তাদের আয় করার সম্ভাবনা আরও বেশি।

ইনোভায়ো ফার্মাসিউটিক্যালস

ইনোভায়ো ফার্মাসিউটিক্যালস একটি আমেরিকান বায়োটেকনোলজি কোম্পানি। সিনথেটিক ডিএনএ প্রোডাক্ট উদ্ভাবন, উন্নতিকরণ আর বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে কাজ তাদের। এ ছাড়া ক্যানসার আর ইনফেকশিয়াস ডিজিজের চিকিৎসাও করে এই প্রতিষ্ঠান। ২০২০ সালে যেসব ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিষ্ঠান কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছে, তাদের মধ্যে ইনোভায়ো একটি। সম্প্রতি ইনোভায়ো জানিয়েছে, চলতি মাসেই দক্ষিণ কোরিয়ায় মানুষের শরীরে কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন নিয়ে পরীক্ষামূলক কাজ শুরু করতে যাচ্ছে তারা। অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের সঙ্গে মিলে কিছুদিন ধরেই ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছে। তবে ইনোভায়ো নিয়ে বলা হয়, চার দশক ধরে চলা এই ওষুধ কোম্পানির বলার মতো উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো ওষুধ নেই। এরপরও করোনাকালে ২০৮ মিলিয়ন ডলার আয় তাদের। জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে ইনোভায়ো প্রায় ৪৩ মিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে। নতুন অনেক শেয়ারে কোম্পানির স্থায়িত্ব প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলেই এমন সিদ্ধান্ত। এপ্রিল থেকে তারা যে ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছে, বছর শেষে সেটির এক মিলিয়ন ডোজ উৎপাদন করতে পারবে তারা এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছে ইনভেস্টর ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। ইনোভায়োর পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিনের নাম আইএনও-৪৮০০। এখনো করোনায় আক্রান্ত হয়নি এমন স্বেচ্ছাসেবকদের এই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এক মিলিয়ন ডোজ তৈরি হয়ে গেলে এটি চিকিৎসার জন্য পরীক্ষামূলক পদ্ধতিতে দেওয়া হবে। সিনথেটিক ডিএনএ নিয়ে যেহেতু কোম্পানিটির কাজ, তারা চেষ্টা করছে এর মাধ্যমে শরীরের সুরক্ষিত অ্যান্টিবডিগুলোকে চিহ্নিত করতে। এই পদ্ধতিতে জীবিত ভাইরাসগুলো বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারে না। অন্যান্য গতানুগতিক ভ্যাকসিনের চেয়ে তাদের ভ্যাকসিন নিরাপদ এবং দ্রুত কাজ করবে বলে তাদের বিশ্বাস। সরকার থেকেও তারা সহযোগিতা পাচ্ছে।

বেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এবং জার্মান মাল্টিন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যালস ও লাইফ সায়েন্স কোম্পানির নাম বেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। তাদের তৈরি অ্যাসপিরিন এই করোনাকালে অনেকেই বছরের শুরু দিকে কিনে রেখেছিলেন। বলাবাহুল্য, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর তাদের আয় বেড়েছে অনেক। বিগত বছরের বিক্রির তুলনায় এ বছরের শুরুতেই তাদের বিক্রি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। বিশেষজ্ঞরা যতটা আশা করেছিলেন তার চেয়ে এই সংখ্যা অনেক বেশি। তবে এটাও সত্যি, মহামারী কত দিন চলবে আর বিক্রির ওপর এর প্রভাব বছর জুড়ে কেমন থাকবে, তা নিয়ে কিছুটা সংশয়ের মধ্যে আছে তারা। মহামারীর প্রকোপ কমতে থাকলে তাদের বিক্রি হয়তো আগের তুলনায় কমে যাবে। সংশয় থাকলেও বেয়ার এখনই পুরো বছরের হিসাব করে বাড়তি ওষুধ মজুদ করতে খুব বেশি রাজি নয়। সব জায়গায় ওষুধ পৌঁছানো যাচ্ছে কি না, এর চাহিদা কেমন, অর্থনৈতিক বাজার এবং খরচ সব মিলিয়ে তারা পরে সিদ্ধান্ত নেবে।

রমরমা আরও কিছু প্রতিষ্ঠান

মডার্না : আরএনএ ভ্যাকসিনের ওপর প্রথম স্তরের সর্বপ্রথম কাজ শুরু করে মডার্না। ভ্যাকসিন তৈরির জন্য প্রতিষ্ঠানটি আমেরিকার সরকারের কাছ থেকে ৪৮৩ মিলিয়ন ডলার অর্থ পায়। বর্তমানে তাদের দ্বিতীয় স্তরের কাজ চলছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তৃতীয় স্তরের কাজ শুরু করার আশা রয়েছে তাদের।

নোভাভ্যাক্স : নোভাভ্যাক্স মূলত ইনফেকশিয়াস ডিজিজগুলো নিয়ে কাজ করে। তারা চেষ্টা করছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার আগে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করলে যেন কাজ হয়, তা নিয়ে। তারা ভ্যাকসিনটির নাম দিয়েছে এনভিএক্স-কভ ২৩৭৩। তাদের আয় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। মার্কেটে আপাতত তাদের অন্য কোনো ওষুধ নেই। একটি ফ্লু ভ্যাকসিন আসতে যাচ্ছে যেটির কাজ প্রায় শেষ।

জনসন অ্যান্ড জনসন : ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ ভাইরাসের প্রথম ট্রায়াল শুরু করার কথা জানিয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন। তাদের এ মুহূর্তে আয় ৩৯০ বিলিয়ন ডলার। ২০২১ সালে এ সংখ্যা আরও ৯০০ মিলিয়ন ছাড়াবে বলে তাদের বিশ্বাস।

সানোফি : করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য সানোফি যুক্ত হয়েছে গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের সঙ্গে। যখন সানোফি অ্যান্টিজেন দেবে, তখন গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন দেবে মহামারীতে টেকনোলজি সুবিধা, এতে প্রতি ডোজে ভ্যাকসিন প্রোটিনের পরিমাণ বেশি খরচ হবে না। বর্তমানে কভিড-১৯-এর চিকিৎসায় কাজে লাগানো হচ্ছে ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন। এটি এই প্রতিষ্ঠানের তৈরি। তারা রিজেনারনের সঙ্গে মিলেও চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে। তাদের আয় ১২০ বিলিয়ন ডলার।