সিএমএসএমই খাত

ঋণের নিশ্চয়তা দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

করোনা মহামারীতে অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় সিএমএসএমই খাতের জন্য সরকারের ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলের ঋণ বিতরণে গতি না দেখে হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই ঋণ বিতরণ তদারকি আরও জোরদার করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গতকাল সোমবার সার্কুলার জারির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ‘লক্ষ করা যাচ্ছে যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সিএমএসএমই খাতের ঋণ বিতরণ কার্যক্রমে আশানুরূপ গতি আনয়নে সক্ষম হয়নি। তাই সার্বক্ষণিক তদারকির লক্ষ্যে এই খাতে ঋণ বিতরণ তদারকি আরও জোরদার করার আবশ্যকতা দেখা দিয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৫ এপ্রিল করোনাভাইরাস মহামারীতে অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন।

এর মধ্যে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প এবং মাঝারি শিল্পে (সিএমএসএমই) ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দিতে ২০ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়। এই ২০ হাজার কোটি টাকার অর্ধেক অর্থের জোগান দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। সে জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃ অর্থায়ন তহবিল গঠন করার পাশাপাশি এই তহবিল থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে প্রণোদনার ঋণ বিতরণ হবে, তার নীতিমালা ১৩ এপ্রিল প্রকাশ করা হয়।

ব্যাংকগুলো এই তহবিল থেকে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে ছোট, মাঝারি ও কুটিরশিল্প খাতের শিল্পোদ্যোক্তাদের ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে। এর মধ্যে অর্ধেক, অর্থাৎ ৪ দশমিক ৫ শতাংশ পরিশোধ করবে ঋণ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান। বাকি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে দেবে।

সেই ঋণ বিতরণের কাজে অগ্রগতি না দেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোমবারের নির্দেশনায় বলা হয়, ‘এ মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে আলোচ্য প্যাকেজের আওতায় বিতরণকৃত সিএমএসএমই ঋণসংক্রান্ত বিবরণী প্রতি মাসের পরিবর্তে পাক্ষিক ভিত্তিতে প্রতি পাক্ষিকের বিবরণী পরবর্তী ৫ দিনের মধ্যে অর্থাৎ প্রথম পাক্ষিকের বিবরণী সংশ্লিষ্ট মাসের ২০ তারিখের মধ্যে এবং দ্বিতীয় পাক্ষিকের বিবরণী পরবর্তী মাসের ৫ তারিখের মধ্যে “এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট”-এ দাখিল করতে হবে।’