প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মানুষের জন্য কথা বলা, সংগ্রাম ও কাজ করে গেছে। করোনাভাইরাসের কারণে জনসমাগম এড়াতে মুজিববর্ষ ও আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান কাটছাঁট করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনসমাগম হলে সংক্রমণ বাড়তে পারে চিন্তা করেই আমরা অনুষ্ঠান কাটছাঁট করেছি। আমাদের কাছে জনগণের কল্যাণ বড়।’ গতকাল মঙ্গলবার সংসদের বাজেট অধিবেশনে আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনির্ধারিত আলোচনায় এ কথা বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে সংসদ নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের এ ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে যে অর্জন সেটা হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, জাতি স্বাধীন হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় পাওয়া। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য জাতির পিতা রাষ্ট্রপরিচালনার যখন দায়িত্ব পেলেন, যুদ্ধ-বিগ্রহপীড়িত দেশটিকে যখন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন ঠিক সে সময় সেই আরেক মীরজাফর মোশতাক এবং জিয়ার চক্রান্তে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়ে গেল।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সব ধরনের আন্দোলনে কাজ করে গেছে। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে সিরাজউদ্দৌলা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে যুদ্ধে হেরে যান। সেখানে মীরজাফর আলী খান বেইমানি করেছিল, তার ফলে কিন্তু এ পতন ঘটে। অর্থাৎ তখন সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলা-উড়িষ্যাসহ এ অঞ্চলের শাসক। সেই স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল পলাশীর যুদ্ধে আম্রকাননে। আর ২৩ জুন প্রতিষ্ঠা লাভ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সেই আওয়ামী লীগ আবার সেই সূর্য উদয় করে। আওয়ামী লীগের সংগঠন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে।’
তিনি বলেন, আমি জাতির পিতার প্রতি সম্মান জানিয়ে এটুকু বলব, তিনি আজীবন মানুষের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। জনগণের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি তার সংগ্রামের পথে অনেক বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করেছেন। কিন্তু তিনি ১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তা হলো ‘জীবনের বিনিময়ে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের স্বাধীন, মুক্ত মানুষ হিসেবে স্বাধীনভাবে আর আত্মমর্যাদাপূর্ণভাবে বাস করার নিশ্চয়তা দিয়ে যেতে চাই।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার জন্মলগ্ন থেকেই মানবতার সেবা করে যাচ্ছে। এ দেশের জনগণের সেবা করে যাচ্ছে। এ দেশের শোষিত-বঞ্চিত মানুষ, এ দেশের কৃষক, শ্রমিক, তাঁতী, কামার-কুমারসহ অগণিত মানুষের কথা বলেছে এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছে। এ সংগ্রামের পথ বেয়ে কত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী জীবন দিয়েছে, কত মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, সেসব মানুষের ত্যাগ-তিতিক্ষার জন্যই আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। পাকিস্তানি শাসকরা আমাদের ভাষার অধিকার কাড়তে চেয়েছিল। রক্ত দিয়ে আমাদের অধিকার অর্জন করতে হয়েছে। এরপর একের পর এক আঘাত এসেছে। যখনই বাংলাদেশিরা ক্ষমতায় গেছে তখনই আঘাত এসেছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কো কর্র্তৃক প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিন্তু আমরা যদি একটু পর্যালোচনা করি, তাহলে দেখব একমাত্র আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় এসেছে তখনই বাঙালি কিছু পেয়েছে। তখনই বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। কিন্তু তারপরও আমরা দেখেছি, সবসময় এ বাঙালিকে কীভাবে পেছনে টেনে রাখবে সেই প্রচেষ্টাই করা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন করার জন্য দীর্ঘ পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় আমরা সেটা করতে পারেনি। আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সীমিতভাবে আমরা এটা উদযাপন করছি। কারণ লোক সমাগম হোক, এ ধরনের সব কর্মসূচি আমরা বাতিল করেছি জনগণের কথা চিন্তা করে। জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করে। কারণ আমাদের কাছে জনগণের কল্যাণই হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘এ করোনাভাইরাস শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বেই একটা সমস্যা। কাজেই এটা থেকে রক্ষার জন্য, মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা বা যাতে এ ভাইরাসে আক্রান্ত না হয় সেদিকে দৃষ্টি রেখেই আমরা মুজিববর্ষ উদযাপনের সব কর্মসূচি স্থগিত করেছি। আজকেও (গতকাল) আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বিশেষভাবে পালন করার কথা ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্য আমরা এটা পালন করতে পারলাম না।’৫