আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা যেকোনো সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে গত সাত দশকে আওয়ামী লীগ এদেশের মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।
গতকাল মঙ্গলবার দলের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি। এর আগে রাজধানীর ধানমণ্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দলের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ওবায়দুল কাদের।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের চলমান দুর্বার অগ্রযাত্রায় কিছুটা ছন্দপতন ঘটিয়েছে বৈশ্বিক মহামারী করোনা। শেখ হাসিনার মানবিক ও দক্ষ নেতৃত্বে আমরা স্রষ্টার অপার রহমতে এ সংকট পাড়ি দিতে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা যেকোনো সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য। সাত দশক ধরে এ দল সংকটে মানুষের পাশে থেকে এ আস্থা অর্জন করেছে।’
এদেশের মাটি ও মানুষের ভালোবাসা আওয়ামী লীগের প্রাণশক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাত দশকে দেশের প্রতিটি অর্জনের সঙ্গে ছিল আওয়ামী লীগ। দেশের প্রাচীন এই রাজনৈতিক দল মানুষের আস্থার ঠিকানা, প্রত্যাশার বাতিঘরে রূপ নিয়েছে। অর্জন করেছে মানুষের ভালোবাসা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বারবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ তারই নজির।’
তিনি বলেন, ‘এদেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে যে অবিরাম পথচলা তা আজও চলছে। জাতির সবচেয়ে কাক্সিক্ষত ও প্রাণের অর্জন স্বাধীনতা, যা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই অর্জিত হয়েছে। বাহান্নর ভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, আটান্নর মার্শাল’ল বিরোধী আন্দোলন, ’৬২-৬৪-এর শিক্ষা আন্দোলন, ছেষটির ৬ দফা, আটষট্টির আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ঊনসত্তরের অভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন, একাত্তরে মার্চব্যাপী বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলনের পথ বেয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাÑ বাঙালি জাতি ও আওয়ামী লীগের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে, তখনই ১৫ আগস্টের ঘটনা ঘটিয়ে দেশকে উল্টোপথে যাত্রা করায়। নির্বাসিত হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ। আওয়ামী লীগ পতিত হয় এক বৈরী ও প্রতিকূল অবস্থায়। তখনই বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ফিরে এসে প্রতিকূল স্রোতে দলকে ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যান। তার নেতৃত্বে এখন চলছে সমৃদ্ধ আগামী নির্মাণের সংগ্রাম।’
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা নিছক কোনো প্রধানমন্ত্রী নন, তার টার্গেট পরবর্তী নির্বাচন নয়, তার ভাবনায় পরবর্তী প্রজন্ম। তাইতো তিনি গ্রহণ করেন ডেল্টা প্ল্যান। দেশমাতৃকার সংকটগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সঠিক করণীয় নির্ধারণ করতে পেরেছেন বলেই তিনি অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে অধিকাংশ সময়ে সাফল্য পেয়েছেন। নির্যাতন আর কঠোর আন্দোলন-সংগ্রামের পথ বেয়ে আওয়ামী লীগ আজকের অবস্থানে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অর্জন যেমন আছে তেমনি আরও পথ পাড়ি দেওয়া বাকি আছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন আর তার সুযোগ্যকন্যার ভিশন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে এ দলের সব স্তরের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত। মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর যে দর্শন তা আমরা বুকে ধারণ করেই এগিয়ে যাব।’
অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এখন অধিকতর সংগঠিত ও শক্তিশালী উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নেতাকর্মীরা নিবেদিতপ্রাণ, সজাগ এবং দলের ইশতেহার বাস্তবায়নে দলের সুশৃঙ্খল কর্মীরা প্রতিশ্রুতিশীল-ঐক্যবদ্ধ। জাতির পিতার জন্মশতবর্ষে এবং স্বাধীনতার ৫০ বছরে বিশ্ব দরবারে পরিচিত হতে চাই সাহসী ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে। পূর্বপুরুষের রক্তের ঋণ আমরা কেবলমাত্র শোধ করতে পারি সম্মিলিত সৃজনশীল কাজের মধ্য দিয়ে।’
মাতৃভূমিকে আগামী প্রজন্মের উপযোগী করে গড়ে তোলারও অঙ্গীকার করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষকে মূলোৎপাটন করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণই হবে আমাদের অঙ্গীকার।’
এর আগে ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সকাল ৯টায় ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আওয়ামী লীগ। এ সময় ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা মতিয়া চৌধুরী, আবদুল মতিন খসরু, আবদুর রহমান, ড. হাছান মাহমুদ, আহমেদ হোসেন, মির্জা আজম, আবদুস সোবহান গোলাপ, দেলোয়ার হোসেন, সায়েম খান প্রমুখ।
আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, তাঁতী লীগ, আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করে। আর সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এস. এম কামাল হোসেন, শাহাবউদ্দিন ফরাজী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।