মূল্য সংবেদনশীল তথ্য গোপন, সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে ঋণসুবিধাসহ বিভিন্ন সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির সব পরিচালককে (মনোনীত ও স্বাধীন পরিচালক ছাড়া) জরিমানা করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এছাড়া তালিকাভুক্তির আবেদন করা আল ফারুক ব্যাগস, এর নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইস্যু ম্যানেজারকেও সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা করেছে এসইসি। গতকাল কমিশনের নিয়মিত সভায় জরিমানার এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইনটেক লিমিটেড ব্যবসা ভিন্ন খাতে সম্প্রসারণ সংক্রান্ত বিষয়ে বার্ষিক সাধারণ সভায় সাধারণ এজেন্ডার অধীনে আলোচনা করেনি। এছাড়া কোম্পানির রিসোর্ট প্রজেক্ট শুরু করার বিষয়ে বিধি মোতাবেক মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে মৎস্য খাতে ব্যবসা শুরু করা সম্পর্কে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করেনি ইনটেক লিমিটেড।
পাশাপাশি বিভিন্ন নতুন খাতে বিনিয়োগ করা এবং বিনিয়োগ ফেরত আনা সম্পর্কে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করেনি। এর মাধ্যমে ইনটেক নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা লঙ্ঘন কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের প্রত্যেক পরিচালককে (স্বতন্ত্র ও মনোনীত পরিচালক ব্যতীত) ২৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোম্পানির মোট চারজন পরিচালক রয়েছেন, যার মধ্যে তিনজন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক। এই তিন পরিচালককে মোট ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হবে।
সিস্টার কনসার্নকে ৭০ কোটি ৪০ লাখ টাকা সুদবিহীন ঋণ দেওয়ায় তালিকাভুক্ত কোম্পানি এমআই সিমেন্ট সব পরিচালককে (মনোনীত ও স্বাধীন পরিচালক ছাড়া) ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে এসইসি। কমিশন জানায়, এমআই সিমেন্ট ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত প্রথম প্রান্তিকের (ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে ‘কারেন্ট অ্যাকাউন্ট উইথ দ্য সিস্টার কনসার্ন’ হিসাব শিরোনামে ৭০ কোটি ৪০ লাখ টাকা দেখিয়েছে, যা প্রকৃতপক্ষে ইস্যুয়ার কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুদবিহীন ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে এবং ওই ঋণ দেওয়ার আগে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
এছাড়া কোম্পানির পূর্ববর্তী বছরগুলোর নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনেও বর্ণিত হিসাব শিরোনামে সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুদবিহীন ঋণ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। ওই সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো ইস্যুয়ার কোম্পানির পরিচালকদের শতভাগ মালিকানাধীন বলে এসইসি জানিয়েছে।
এদিকে পুঁজিবাজারে আইপিওর আবেদন জানানো আল ফারুক ব্যাগসও জরিমানার মুখে পড়েছে। ভিন্ন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া বিধিবদ্ধ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আর্টিসান চার্টার্ড অ্যাকাউন্স দ্বারা করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড পরিপালন সনদ ইস্যু করায় আল ফারুক ব্যাগসকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে এসইসি। এছাড়া ইস্যু ম্যানেজার বিএমএসএল ইনভেস্টমেন্ট ও আইআইডিএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেড মিথ্যা দেওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটিকে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আর্টিসানকেও ২ লাখ টাকা জরিমানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসইসি।