সিইউএফএলের উন্মুক্ত বর্জ্যের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন

চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) হাউজিং কলোনি ও কারখানার উন্মুক্ত বর্জ্যের দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ।

অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা আবর্জনার স্তুপে আনোয়ারা উপজেলার শাহাদত নগর এলাকায় ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ চলছে। দম বন্ধ করা অবস্থায় স্থানীয় জনজীবনে রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠেছে।

পরিবেশের ভয়াবহ দূষণ কবলিত শাহাদত নগরের হাজারো মানুষ চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।

মশা-মাছির উপদ্রুব আর অসহনীয় দুর্গন্ধে এলাকায় বসবাস করা যেমন কষ্টকর, তেমনি সেখানে যাতায়াতও কঠিন। দুর্গন্ধে ভারী বাতাসের কারণে শ্বাসকষ্ট, জন্ডিস, ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ নানা রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে ধুঁকছেন তারা।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যেখানে বলা হচ্ছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থাকতে। সেখানে স্বাস্থ্যনীতি উপেক্ষা করে উন্মুক্ত স্থানে আবর্জনার স্তুপ গড়েছে খোদ রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান সিইউএফএল।

প্রতিদিন ভ্যানে করে সিইউএফএল হাউজিং কলোনি ও কারখানা অফিসের উচ্ছিষ্ট বর্জ্য এনে ফেলা হয় এখানে। তাদের দেখাদেখি স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ময়লার স্তুপকে ব্যবহার করে। দীর্ঘদিনের বর্জ্য স্তুপটি পাহাড়সম হলেও পরিষ্কার বা সরানোর উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার শাহাদত নগর বেড়িবাঁধ সড়ক ঘেঁষেই বিশালাকার ময়লার স্তুপ। পাশেই বন্দর পুলিশ ফাঁড়ি। বাঁধে গড়ে উঠেছে জনবসতিও। সামান্য দক্ষিণে রাঙাদিয়া বাজার। সড়কটি পারকি সৈকতসহ বিভিন্ন কলকারখানায় যাতায়াত মাধ্যম। রোদ-বৃষ্টিতে এখানে দুর্গন্ধের মাত্রা প্রকট হয়ে উঠে। প্রতিদিন এখানে ফেলা হয় ময়লা-আবর্জনা। কিন্তু ধ্বংস করা হয় না। দূষণমুক্ত করতে ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর ব্যবস্থা নেই। এতে দূষিত বাতাস নেয়ার ফলে ওই গ্রামে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। ছড়িয়ে পড়ছে শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ-বালাই।

স্থানীয় বারশত ইউপি চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ূম শাহ্ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধটি সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর পাশেই সিইউএফএলের জায়গা। দীর্ঘদিন ধরে ওই জায়গায় ময়লা ফেলে আসছে তারা। সবার কাছ থেকেই শুনেছি ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে স্থানীয় জনসাধারণ একেবারেই অতিষ্ঠ। সেখানে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ চলছে। জীববৈচিত্র্যও মারাত্মক হুমকির মধ্যে আছে। এ দূষণ রোধ করার জন্য সিইউএফএল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হবে। 

এ বিষয়ে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী সুদীপ মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি এ কারখানায় নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই তবে খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।