দেশে গত ৮ মার্চ করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে রোগটির লক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করছেন বিএনপি সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশীদ। সংক্রামক রোগটি নিয়ে গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। তার মতে, বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ এখনো সর্বোচ্চ পর্যায়ে যায়নি।
ড্যাব সভাপতি বলেন, করোনাভাইরাসে সংক্রমণের শিকারদের ৮০ শতাংশের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বাকি ২০ শতাংশ রোগীর লক্ষণ দেখা যায়। এই ২০ শতাংশের মধ্যে ৫ শতাংশের হাসপাতলে ভর্তির প্রয়োজন হয়। আর ২ শতাংশের প্রয়োজন হয় অক্সিজেন। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সাধারণত যেসব লক্ষণ দেখা যায় সেগুলো হলো জ¦র, সর্দি, কাশি, গলা ও শরীর ব্যথা। এর বাইরে পা ফুলে যাওয়া, ফোসকা পড়া, ডায়রিয়া হচ্ছে; এগুলো লক্ষণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। হারুন বলেন, বর্তমানে দেশে করোনা সংক্রমণের হার বাড়ছে। প্রতি তিন দিনে ১০ হাজার রোগী শনাক্ত হচ্ছে। সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুহার। এখনো করোনা সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে যায়নি।
সংক্রমণের যে হার দেখা যাচ্ছে তা উদ্বেগজনক মন্তব্য করে ড্যাব সভাপতি বলেন, করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ার প্রথম ৫৮ দিনে ১০ হাজার আক্রান্ত হয়েছে। এর ১১ দিন পর আবার ১০ হাজার হয়। এরপর ৭, ৬, ৫, ৪ এবং সর্বশেষ তিন দিন পরপর করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১০ হাজার করে। তিনি বলেন, শুরু থেকে ব্যাপক হারে টেস্ট হলে রোগীর সংখ্যা বাড়ত। কিন্তু তা হয়নি। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বলছে বাংলাদেশ টেস্টের বিষয়ে পিছিয়ে রয়েছে। তারা বেশি বেশি করে টেস্ট করার পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু দেশে বর্তমানে টেস্ট হচ্ছে কম। কী কারণে কম হচ্ছে তা সরকারের তরফ থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে না।
অধ্যাপক হারুন আল রশীদ বলেন, একের পর এক হাসপাতাল ঘুরে মানুষ ভর্তি হতে না পেরে মারা যাচ্ছে। সরকারের তরফে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তা নেওয়া হচ্ছে না। মোটকথা সরকারের ব্যবস্থাপনা দুর্বল ও চিকিৎসাব্যবস্থা অপ্রতুল। জনগণের মাঝেও সচেতনতার অভাব। জনগণ এমনই হবে; তবে তাদের আইন মানতে বাধ্য করার দায়িত্ব সরকারের। ড্যাব সভাপতি বলেন, প্রথমে বলা হয়েছিল বয়স্কদের ঝুঁকি বেশি। কিন্তু বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে কম বয়সী মানুষও করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। তবে ব্যতিক্রমও আছে। রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা মানুষে মানুষে ভিন্নতা আছে। যেমন ৪০ বছর বয়সের একজন মানুষ যার আগে থেকে অন্য কোনো জটিল রোগ আছে তিনি মারা যাচ্ছেন। আবার ৬০ বছর বয়সের একজন রোগী যার অন্য কোনো সমস্যা নেই তিনি বেঁচে যাচ্ছেন। অধ্যাপক হারুন বলেন, করোনার কারণে পুরো চিকিৎসাব্যবস্থায় ধস নেমেছে। করোনার বাইরে অন্য কোনো রোগীর চিকিৎসা খুব একটা হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে তিনি ইউনিসেফের গত মঙ্গলবারের এক প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মা ও শিশুরা।