করোনা পরিস্থিতির কারণে আমাদের চেনা পৃথিবী বদলে গেছে অনেকটাই। ঘরে বসেই সারছি অফিসের কাজ। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ভিডিও কল বা সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগ থাকছে নিয়মিত। দূরে থাকা মা-বাবার কাছে ওষুধপত্র বা খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজটাও অপেক্ষাকৃত সহজ হয়ে গিয়েছে হোম ডেলিভারি অ্যাপের সৌজন্যে। কিন্তু আমাদের শিশুরা কেমন আছে? অনলাইন অফলাইনে পড়ার চাপে কীভাবে মানসিকভাবে সামলাতে পারছে তারা? এ নিয়ে জানা যাক লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন ফেমিনার প্রতিবেদন থেকে।
করোনায় বলতে গেলে অনেক বেশি সমস্যায় আছে শিশুরা। তাদের খেলাধুলো বন্ধ, স্কুলেও যাওয়া হচ্ছে না, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে না দিনের পর দিন। কোনো গ্যাজেটে হাত দিলেই বকুনি খেতে হত ক'দিন আগে পর্যন্ত, এখন সেই গ্যাজেটেই চলছে লেখাপড়া। স্কুলের পাঠানো পিডিএফের ভরসায় ক্লাস নিচ্ছেন জীবনে প্রথমবার ক্যামেরার সামনে বসা শিক্ষক। সেই ক্লাসের পড়া শুনে, বুঝে হোমওয়ার্ক করতে হচ্ছে বাচ্চাকে। এই পরিস্থিতিতে অসুবিধা হওয়া স্বাভাবিক। ফলে সন্তানকে সাহায্য করতে হবে আপনাকেই। তবে তার আগে নিজে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলার চেষ্টা করুন।
গোটা দুনিয়া টালমাটাল অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, আমাদের দেশের সামনেও নানা সমস্যা আছে, তার মধ্যে অনলাইন ক্লাস একেবারে নতুন একটা বিষয়। তাই প্রথম দিকে কিছু অসুবিধা হবেই। ধৈর্য ধরুন একটু, অপেক্ষা করুন। বাচ্চারা সব কিছুই তাড়াতাড়ি শেখে, এই পরিস্থিতির সঙ্গেও তারা আপনার চেয়ে আগে মানিয়ে নেবে। বাচ্চার অসুবিধা হলে আপনি শুধু তার পাশে থাকুন, ভরসা জোগান। প্রথম দিন থেকেই শিক্ষকের ভুলভ্রান্তি ধরবেন না, তাকেও মানিয়ে নেওয়ার সময় দিন। কিছুদিনের মধ্যে ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক আবার আগের জায়গাতেই ফিরে যাবে।
এই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে কারও কারও একটু বেশি সময় লাগতেই পারে। হয়তো আপনার সন্তান আগে যতটা সাবলীল ছিল, নতুন এই পঠন-পাঠনের সঙ্গে তত দ্রুত মানিয়ে নিতে পারছে না। তাতে ঘাবড়ে যাবেন না। সময় দিন। এটা একটা বিরাট ট্রানজিশন- সবার মানসিক গঠন সমান হয় না।
বাচ্চার খেলাধুলোর সময় বরাদ্দ রাখুন অবশ্যই। অনলাইন ক্লাস আর ভিডিও গেমের ভরসায় দিন কাটাতে হলে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুবিধা পড়তে পারে আপনার বাচ্চা। ফলে বাড়ির ছাদে, ব্যালকনিতে বা লনে খেলাধুলা করা উচিত তার। শারীরিক শ্রমের কোনও বিকল্প নেই।
সন্তানের সঙ্গে খানিকক্ষণ বই পড়ুন একসঙ্গে বসে। দরকারে গল্প পড়ে শোনান। রোজ ছোটোখাটো কিছু একটা লিখতে বলুন। কারণ অডিও-ভিজ্যুয়াল মাধ্যমটাই এত শক্তিশালী যে বাচ্চাকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, বড়দেরই নেশা লেগে যায়! তাই পুরোনো অভ্যেসগুলো বজায় রাখার দায়টা আপনাকেই নিতে হবে।