দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যেই গতকাল বৃহস্পতিবার সর্বমোট সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা অর্ধলক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। এদিকে গত মে মাসে দেশে যত সংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু হয়েছে, চলতি জুন মাসের গত ২৫ দিনেই তার দ্বিগুণ শনাক্ত ও মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দেশে করোনা শনাক্তের ১১০তম দিনে এযাবৎ সর্বোচ্চ সংখ্যক পরীক্ষায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এদিন সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১৮ হাজার নমুনা পরীক্ষায় ৩ হাজার ৯৪৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে দেশে করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৩৯ জন। এ নিয়ে চলতি জুন মাসের গত ২৫ দিনে দেশে সর্বমোট ৭৯ হাজার ৪৫৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যা গত মে মাসের মোট শনাক্তের দ্বিগুণেরও বেশি। গত মে মাসে মোট রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৩৯ হাজার ৪৮৬ জন আর করোনায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন ৪৮২ জন। যেখানে চলতি মাসের গত ২৫ দিনে মৃত্যুবরণ করেছেন তার দ্বিগুণেরও বেশি ৯৭১ জন।
গতকাল সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় প্রায় পৌনে দুই হাজার রোগী সুস্থ হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশে সর্বমোট সুস্থ হওয়া করোনা রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর প্রথমবার একসঙ্গে তিনজন রোগী সুস্থ হয় ২০ মার্চ। এরপর গত ২৩ এপ্রিল সুস্থ হওয়ার সংখ্যা ১০০ ছাড়ায়, যখন দেশে মোট রোগী ছিল ৩৬ হাজার। অর্থাৎ তখন সুস্থতার হার ছিল এক শতাংশেরও কম। গত ৩ মে হঠাৎ করেই মোট সুস্থের সংখ্যা ১৭৭ থেকে এক লাফে হাজার ছাড়িয়ে যায়। তারপর থেকে প্রতিদিনই কয়েকশ করে রোগী সুস্থ হতে থাকে। গত ১৫ জুন আবার এক লাফে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার থেকে ৩৪ হাজারে পৌঁছায়। ওইদিন বাড়িতে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়াদের আনুমানিক সংখ্যা যোগ করা হয় বলে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়। এর পর থেকে এখন প্রতিদিনই হাজারের বেশি করে রোগী সুস্থ হচ্ছেন। গতকাল পর্যন্ত করোনায় সুস্থতার হার ছিল ৪০ শতাংশের ওপরে।
গতকাল নিয়মিত বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৭ হাজার ৫৮৬টি। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয়েছে ১৭ হাজার ৯৯৯টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ৩ হাজার ৯৪৬ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এদিন শনাক্তের হার ছিল ২১ দশমিক ৯২ শতাংশ। একই সময়ের মধ্যে করোনায় মারা গেছেন আরও ৩৯ জন এবং হাসপাতাল ও বাসা মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮২৯ জন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত দেশে সর্বমোট ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৪৪৩টি নমুনা পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ৬০৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন মোট ১ হাজার ৬২১ জন ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫১ হাজার ৪৯৫ জন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থতার হার ৪০ দশমিক ৬৭ শতাংশ ও মৃত্যুহার ১ দশমিক ২৮ শতাংশ।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ ও ৭ জন নারী বলে জানানো হয় বুলেটিনে। সর্বোচ্চ ১০ জন করে মারা গেছেন ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে। এ ছাড়া রাজশাহী ও খুলনায় ৫ জন করে, রংপুরে ৪ জন, ময়মনসিংহে ৩ জন এবং বরিশাল বিভাগে মারা গেছেন ২ জন। হাসপাতালে মারা গেছেন ২৮ জন ও বাড়িতে ১১ জন। মৃতদের মধ্যে ২১-৩০ বছরের ২ জন, ৩১-৪০ বছরের ১ জন, ৪১-৫০ বছরের ৭ জন, ৫১-৬০ বছরের ৯ জন, ৬১-৭০ বছরের ১২ জন, ৭১-৮০ বছরের ৭ জন এবং ৯১-১০০ বছরের ১ জন।
বুলেটিনে আরও বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৬৪৫ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন মোট ১৩ হাজার ৪২৯ জন। একই সময়ের মধ্যে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে আরও ২ হাজার ৬৫৬ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৬৩ হাজার ৯৯৮ জন। স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে ২৪ ঘণ্টায় কল এসেছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৩৯টি। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ১ হাজার ৫২০ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এ পর্যন্ত পিপিই বিতরণ করা হয়েছে ২৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬১৪টি। বর্তমানে মজুদ আছে আরও ১ লাখ ৬১ হাজার ৬৩১টি।