দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ‘মূলপ্রবাহ’ এখনো আসেনি বলে মনে করছেন সদ্য করোনাজয়ী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও এই ট্রাস্টি বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় সরকারের কোনো চিন্তাভাবনা নেই। সরকার একটি অন্ধকার ঘরে কালো বিড়াল খুঁজে বেড়াচ্ছে। এখনো মূলপ্রবাহ আসেনি। আসবে এ মাসের পরে। যখন গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়বে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমণ্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন ডা. জাফরুল্লাহ।
করোনাভাইরাস থেকে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মুক্তিতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, চিকিৎসা ব্যয় এবং ‘করোনা বনাম বিশ্ব পুঁজিবাদ : ২০২০-২১ বাংলাদেশ বাজেট’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রায় এক মাস ধরে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। করোনামুক্ত হলেও তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি। এ অসুস্থতার সময়ে পাশে থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ডা. জাফরুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আপনারা যে আমার জন্য এতজন দোয়া করেছেন, তা অকল্পনীয়। মানুষ যে আমাকে এত ভালোবাসতে পারে...একাত্তরে সে ভালোবাসা পেয়েছিলাম। একাত্তরের পর এবার মানুষের এত ভালোবাসা পেলাম।’
দেশে চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘জাতীয় ওষুধ নীতির নিয়ম বদলালে ওষুধের দাম অর্ধেক হবে। এজন্য সুস্থ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দরকার। এটা জনগণ দাবি ওঠানো ছাড়া সম্ভব নয়। এর পরিবর্তনের জন্য জনগণের পক্ষ থেকে আওয়াজ আসতে হবে।’
আলোচনা সভায় গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মামুন মোস্তাফি বলেন, “জাফরুল্লাহ চৌধুরীর করোনা নেগেটিভ হলেও বুকের ৮০ শতাংশ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। গ্রামের একজন মানুষ ও কৃষক যে সেবা নিতে পারেন না, তিনি তা গ্রহণ করেন না। উনার করোনাবিজয়ী হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় হলো তার মনোবল। আমরা ঢাকা মেডিকেলে তার জন্য কেবিন রেডি করেছিলাম। কিন্তু তিনি বলে দিয়েছেন, ‘ওখানে থেকে আমার গ্রামের একজন মানুষ চিকিৎসা নিতে পারবে না, আমিও নেব না। গ্রামের কোনো মানুষের এখানে থেকে মৃত্যু হলে, আমারও হবে।’”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর প্রমুখ।