গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ কিটের অনুমোদন দেয়নি জাতীয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এর আগে বিকেলে এক ই-মেইলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর অ্যান্টিবডি টেস্ট কিটের অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়টি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে জানায়।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কারিগরি কমিটির সুপারিশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর গ্রহণ করেনি এবং জিআর কভিড-১৯ র্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট কিটের নিবন্ধন দেয়নি। দেশের এই জরুরি অবস্থায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এ সিদ্ধান্ত দুঃখজনক।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা শেষে বিএসএমএমইউ ১৬ জুন তাদের প্রতিবেদন জমা দেয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গণস্বাস্থ্যের কিট করোনা শনাক্তে কার্যকর নয়। তবে অ্যান্টিবডি টেস্টে ৭০ শতাংশ কার্যকর ফল দিয়েছে।
এদিকে গতকাল দুপুরে ধানম-ির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে এক আলোচনা সভায় গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ এবং কভিড-১৯ ডট ব্লট কিট প্রকল্পের সমন্বয়ক ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার বলেন, গণস্বাাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত কিট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল পরীক্ষা করে তার ফলাফল ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে জমা দিয়েছে ১৬ জুন। এরপর ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও কিটের অনুমোদন দিচ্ছে না ঔষধ প্রশাসন। শুধু তা-ই নয়, এ বিষয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক থেকে শুরু করে পরিচালক পর্যায়ের কেউ গণস্বাস্থ্যের প্রতিনিধিকে সাক্ষাৎ দিচ্ছেন না।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি তিন দিন ধরে মহাপরিচালক থেকে শুরু করে পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। আমি সফল হইনি। সবার সঙ্গে ই-মেইলে অ্যাপয়েনমেন্ট চেয়েছি। টেলিফোন করেছি, ধরেন না। সাংবাদিক বন্ধুদের মাধ্যমেও ফোন করিয়েছি, ধরেন না। তারা কিছু একটার জন্য অপেক্ষা করছেন বলে মনে হচ্ছে। তবে বুধবার সকালে একজন সহকারী পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। তিনি বলেছেন, তাদের সিদ্ধান্ত নিতে একটু দেরি হচ্ছে। তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন।’