খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের গতি কমেছে

করোনাভাইরাসের কারণে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের গতি কমে যাওয়ায় তা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

গতকাল বেলা ১১টায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সভায় অনলাইন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন মন্ত্রী। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার সুমন মেহেদীর পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

তিনি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন, সভার শুরুতে মন্ত্রী মডার্ন ফুড স্টোরেজ ফ্যাসিলিটিজ প্রজেক্টসহ অন্যান্য প্রোজেক্টের কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকদের কাছে জানতে চান। খাদ্যমন্ত্রী বিশ^ব্যাংকের সহযোগিতায় আশুগঞ্জ, মধুপুর, ময়মনসিংহে যে তিনটি সাইলো নির্মাণের কাজ চলছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন এবং অতি শিগগির নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। সভায় উপস্থিত খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক বলেন, কভিড-১৯-এর কারণে কাজের গতি কিছুটা কমেছে। মডার্ন ফুড স্টোরেজ ফ্যাসিলিটিজ প্রোজেক্টের প্রকল্প পরিচালক বলেন, এ প্রকল্পের বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আনতে হয়। করোনা মহামারীর কারণে বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি আনতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তাই কাজের গতি কিছুটা কমেছে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিভিন্ন প্রকল্পের চলমান সার্বিক কার্যক্রমে খাদ্যমন্ত্রী হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য অ্যাকশন প্ল্যান থাকা দরকার। একটা স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান এবং রোডম্যাপ থাকা দরকার। কোন কাজ কখন, কোন সময়ের মধ্যে করতে হবে তা সুস্পষ্টভাবে থাকতে হবে। মন্ত্রী প্রকল্প পরিচালকদের পাশাপাশি খাদ্য অধিদপ্তরের আরসি ফুড, ডিসি ফুডদেরও খাদ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রতিটি প্রকল্পের কাজ মনিটরিং করার জন্য নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ডিপিপি অনুসারে কাজগুলো হচ্ছে কি না, সেদিকে প্রকল্প পরিচালকদের পাশাপাশি খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদেরও লক্ষ রাখতে হবে; যাতে কাজের কোয়ালিটি ভালো হয়। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশের প্রতিটি বিভাগে একটি করে ল্যাবরেটরি স্থাপন করার কথা তুলে ধরে খাদ্যমন্ত্রী এর সর্বশেষ অবস্থা জানতে চান।

ইতিমধ্যেই পাঁচটি বিভাগে পাঁচটি ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠার কাজ অনেক দূর এগিয়েছে বলে জানান সভায় উপস্থিত বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান। এই পাঁচটি বিভাগে প্রতিটি ল্যাবরেটরির একতলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান। এ ছাড়া সভায় সারা দেশে ২০০টি প্যাডি সাইলো নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩০টি প্যাডি সাইলো নির্মাণের কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু করার জন্য খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন মন্ত্রী। এর আগে অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভায় মন্ত্রী বলেন, এফপিএমইউর সভায় ৮ লাখ মেট্রিক টন ধান কেনার ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল বিধায় কৃষক তার ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। সরকার যদি এখন ধান কেনা বন্ধ করে দেয়, তবে ধানের বাজারমূল্য পড়ে যাবে; কম করে হলেও মণপ্রতি ১০০ টাকা কমে যাবে।

চালকল মালিকদের উদ্দেশে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। চুক্তি মোতাবেক সঠিক সময়ের মধ্যে সরকারি খাদ্যগুদামে চাল দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।