ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে কভিড-১৯-এর রিপোর্ট নিয়ে চলছে নৈরাজ্য। নমুনা দেওয়ার পর দুই সপ্তাহেও মিলছে না রিপোর্ট। কেউ কেউ মুঠোফোনের খুদে বার্তায় জানতে পারছেন তিনি পজিটিভ। কিন্তু অনেক ঘোরাঘুরি করেও প্রিন্ট কপি পাচ্ছেন না, হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। এতে করে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা থেকে অস্ত্রোপচার পিছিয়ে যাচ্ছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে হাসপাতালে ঘুরে করোনার রিপোর্ট নিয়ে রোগীদের এমন ভোগান্তি দেখা যায়। খোদ নার্সরাও তাদের রিপোর্টের কপি পাচ্ছেন না। প্রশাসনিক ব্লকের সামনে এমন ভোগান্তির শিকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র স্টাফ নার্স বলেন, ‘আমি ২১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ডিউটি করতাম। করোনা উপসর্গ দেখা দিলে ১১ জুন নমুনা দিই। দুদিন পর রাতে মুঠোফোনের খুদে বার্তায় পজিটিভ জানানো হয়। এর পরদিন নতুন ভবনের করোনা ইউনিটে ভর্তি হই। কিন্তু রিপোর্টের প্রিন্ট কপির জন্য প্রশাসনিক ব্লক, ভাইরোলজি বিভাগ, সহকারী সুপারভাইজারের রুম, বেজমেন্ট, নতুন বিল্ডিংয়ের তথ্য কেন্দ্রসহ ছয়টি জায়গায় অনেক দৌড়াদৌড়ি করেও পাইনি। রিপোর্টর কাগজই হাওয়া হয়ে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরে ২৪ জুন দ্বিতীয়বার নমুনা দিই। এই রিপোর্টও এখন খুঁজে পাচ্ছি না। কী হচ্ছে, কিছুই বুঝতে পারছি না।’
আরেক নারী সিনিয়র স্টাফ নার্সের অভিযোগ, ‘১০ জুন রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর করোনা ইউনিটের ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হই। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে ২৪ জুন দ্বিতীয়বার নুমনা দিই, যার রিপোর্ট পরের দিন পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজ দুদিন ধরে সব দপ্তরে খুঁজে রিপোর্টের কাগজ পাচ্ছি না। অনেকের ক্ষেত্রেই এমন হলেও কর্র্তৃপক্ষ কিছুই বলতে পারছে না। অথচ দ্বিতীয়বারের রিপোর্ট না পেলে হাসপাতাল ছাড়পত্র দেবে না, আমিও কাজে যোগ দিতে পারব না।’
একই ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নন-কভিড ভর্তি রোগীরা। ব্রেইন টিউমার নিয়ে খুলনা থেকে হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হন আজিজ গাজী (৭০)। গতকাল দুপুরে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে বাবার করোনা টেস্টের রিপোর্টের খোঁজ করছিলেন তার দুই মেয়ে রুবি ও রুজিনা। তারা জানান, ১৬ দিন আগে বাবাকে ভর্তি করেন। আজ রবিবার অস্ত্রোপচারের কথা। এ জন্য করোনা টেস্টের রিপোর্ট লাগে। ১৯ জুন নমুনা দেওয়ার পর থেকে প্রতিদিন এ দপ্তর-সে দপ্তর ঘুরেও রিপোর্ট পাননি। এ জন্য অস্ত্রোপচারের তারিখ পিছিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার নির্ধারণ করেছেন চিকিৎসকরা। আবার করোনা টেস্টের নমুনা দেওয়া হয়, যেটির রিপোর্ট আজ (গতকাল) দেওয়ার কথা। কিন্তু এটিরও কোনো হদিস নেই। খুবই চিন্তায় আছেন দুই বোন।
হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষের সামনে নোটিসে লেখা, সাধারণ রোগীদের রিপোর্ট ওয়ার্ড মাস্টার ডিএমসিএইচ-২ এবং বার্ন ইউনিট থেকে প্রদান করা হয়। চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর রিপোর্ট কনফারেন্স কক্ষ থেকে দেওয়া হয়। কিন্তু একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এসব বিভাগ থেকেও রিপোর্ট পেতে দিনের পর দিন ভোগান্তি পেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এখানে অসংখ্য রোগীর পরীক্ষা করা হচ্ছে। দু-একটি ঘটনা এমন হতেই পারে। এমন ঘটনা ঘটলে আমরা আবার নমুনা নিচ্ছি। করোনা টেস্টের রিপোর্টের কারণে কোনো রোগীর চিকিৎসা আটকে থাকবে না। রিপোর্ট না পেলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মাস্টার কিংবা আমার কাছে এলেই সমাধান পেয়ে যাবে।’