পুলিশ সদস্যের ড্রাগের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে অপসারণ : আইজিপি

পুলিশের কোনো সদস্যের মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকলে তাকে বাহিনী থেকে অপসারণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে উত্তরা আঞ্চলিক পুলিশ লাইনসের নবনির্মিত ব্যারাক ভবন উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন তিনি।

আইজিপি বলেন, ‘পুলিশের কোনো সদস্য ড্রাগ খাবে না, ড্রাগের সাথে কোনোভাবেই সম্পর্কযুক্ত থাকবে না। কোনো ব্যক্তি ক্যানসার আক্রান্ত হলে আক্রান্ত অংশ কেটে অপসারণ করা হয়। পুলিশের কোনো সদস্য যদি ড্রাগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত থাকে তাহলে নির্দয়ভাবে তাকেও বাংলাদেশ পুলিশ থেকে অপসারণ করা হবে। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর পুলিশ সুরক্ষাসামগ্রীর জন্য অপেক্ষা না করে জনগণের সুরক্ষায় কাজ শুরু করে। এখন পুলিশের ২ লাখ সদস্যের প্রত্যেকের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষাসামগ্রী রয়েছে।’ করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, ‘আমরা মাত্র দুই সপ্তাহে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালকে ২৫০ বেড থেকে ৫০০ বেডের কভিড হাসপাতালে রূপান্তর করেছি। পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় একটি উন্নত বেসরকারি হাসপাতাল ভাড়া করা হয়েছে, স্কুল-কলেজ এবং হোটেল ভাড়া করে আইসোলেশন সেন্টারে পরিণত করা হয়েছে। মাত্র ১২ দিনে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে বিভাগীয় হাসপাতালগুলোকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং মৃত্যুর হার কমছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে জাতীয় পর্যায়ে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩ ভাগ। পুলিশে মৃত্যুর হার মাত্র দশমিক ৫ ভাগ।’

প্যানডেমিক পুলিশিং ব্যবস্থা সম্পর্কে আইজিপি বলেন, “আমরা ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে কর্মরত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তাদের দেশের প্যানডেমিক পুলিশিং গাইডলাইন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশের গাইডলাইন সংগ্রহ করে বাংলাদেশ পুলিশের উপযোগী ‘প্যানডেমিক পুলিশিং স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি)’ তৈরি করেছি। এখন আমাদের একজন পুলিশ কনস্টেবলও জানেন, কীভাবে প্যানডেমিক পুলিশিং করতে হয়। করোনা সংক্রমণ কীভাবে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা যায় সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।”

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘পুলিশ সদস্যদের আবাসিক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে আমরা স্বল্পমেয়াদে অস্থায়ী ভিত্তিতে ব্যারাক ভবন নির্মাণ করেছি। ডেমরায় করা হয়েছে, উত্তরাতে আজ করা হলো। পূর্বাচলেও আমরা ব্যারাক ভবন নির্মাণ করব।’ পুলিশের ব্যারাক ভবন নির্মাণে সহযোগিতা করার জন্য আবুল খায়ের গ্রুপকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।

আইজিপি তার বক্তব্যের শুরুতে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ফ্রন্টলাইনার চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক, পুলিশসহ সবার আত্মার শান্তি কামনা করেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজি ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী, আবুল খায়ের গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবু সাঈদ চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।