‘বাংলাদেশ এখনো অকৃতকার্য’

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের বয়স হলো ২০। কিন্তু যে মানুষটির হাত ধরে এই দেশ ঢুকেছিল টেস্টের অভিজাত পরিবারে, সেই সাবের হোসেন চৌধুরী মনে করেন সার্বিকভাবে বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন ব্যর্থতার ঘেরাটোপে ঘুরে ফিরছে। এমনকি কোনোভাবে স্ট্যান্ডার্ড পাস মার্ক ৩৩-ও এই বাংলাদেশকে দিতে নারাজ। বাংলাদেশকে মাঠ ও মাঠের বাইরের ক্রিকেট সাফল্যে ১০০-এর মধ্যে নম্বর দেওয়ার প্রশ্নে সাবেরের জবাব, ‘আমি ২৫-৩০-এর বেশি যাব না। মানে ফেল। আপনি যদি ৩৩ ফেল ধরেন তাহলে আমি ফেলের কোটার মধ্যেই আছি।’

২৬ জুন বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার ২০ বছর পূর্ণ হলো। ২০০০ সালের এই দিনে ব্যাপারটা ঘটেছিল। তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ছিলেন সাবের হোসেন। বলা হয়, টেবিলে সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা পেয়েছিল। আর এই কাজের স্বপ্নদ্রষ্টা এবং সেই স্বপ্নপূরণের প্রধান মানুষটিও বলা হয় সাবেরকে। কিন্তু এরপর দুই দশকে বাংলাদেশের ক্রিকেট এবং বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেট যেখানে দাঁড়িয়ে সেখানে তিনি ‘সার্বিকভাবে’ সবকিছু ব্যর্থ মনে করেন।

ইউটিউব চ্যানেল ‘নটআউট নোমানে’ শুক্রবার রাতের লাইভ আড্ডায় সেই ব্যর্থতার তিনটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে গিয়ে সাবের বলেন, ‘একটা হচ্ছে পরিকল্পনা। আরেকটা হচ্ছে আমাদের জবাবদিহি। আরেকটা হচ্ছে পেশাদারিত্বÑ মাঠের কথা বলছি না, যারা আমাদের সংগঠক, যারা ক্রিকেটে আছেন তাদের মাঝে।’ ব্যর্থতাকে মোটা দাগে একটি কথায় এভাবে আটকে দেন সাবেক সভাপতি, ‘যখন ব্যর্থতা সার্বিক তখন আলাদাভাবে প্রশ্ন না করাই ভালো। সার্বিক ব্যর্থতা।’

এখন পিছু ফিরে তাকালে তখনকার বোর্ড সভাপতি হিসেবে কি কোনো ভুল করেছিলেন বলে মনে হয়? প্রশ্নটায় একটু ভেবে বলেন, ‘মাঝেমাঝে এখন যখন টেস্ট ক্রিকেটের বিষয়টা ভাবি...।’ এরপর ব্যাখ্যা করেন টেস্ট ক্রিকেটের স্বপ্ন তাড়া করতে গিয়ে কোন দিকটা তার ভাবনার আড়ালে চলে গিয়েছিল সেটা, ‘তখন আমাকে একটা প্রশ্নের জবাব প্রায়ই দিতে হতো সেটা হলো আমরা টেস্ট ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত কি না। আমি বলতাম, না। এই পর্যায়ে যতটুকু প্রস্তুত হওয়া যায় আমরা ততটুকু প্রস্তুত। একটা বিষয়ে আমি হয়তো কিছুটা বোকা ছিলাম। আমার ধারণা ছিল আমাদের নেতৃত্বের ক্ষেত্রে, আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটা ধারাবাহিকতা থাকবে। এটা কিন্তু আমি ধরে নিয়েছিলাম।’

সেই ধরে নেওয়াটা আসলে সময়ের সঙ্গে সঠিক বলে প্রমাণিত হয়নি। যেখানে তার সংশয় ছিল সেটাই হয়েছে বলে দাবি সাবের হোসেনের। ‘আমার যেটা সংশয় ছিল এবং সেটা প্রমাণিত হচ্ছে... ক্রিকেটে বাংলাদেশ যত সফল হবে বা ক্রিকেটের আকর্ষণ যত বাড়বে ততই আমরা এখানে ভুল মানুষকে আকর্ষিত করব। অনেকেই সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত হতে চায়। অনেকে এটাকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।’ সাবের আক্ষেপ করে কথার ইতি টানেন এভাবে, ‘এই ধরনের লোকগুলোকে আমরা আগামীতে কীভাবে দূরে রাখব এই বিষয় নিয়ে আমি হয়তো অত চিন্তা করিনি।’

এমনকি গেল বছর বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই বিসিবির ব্যর্থতা খুঁজে পান সাবের হোসেন। জুয়াড়ির সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য গোপন করায় আইসিসি সাকিবকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে। কিন্তু বিষয়টা বিসিবি আরও ভালোভাবে সামলাতে পারত বলে মনে করেন বিসিবির সাবেক সভাপতি। ‘বিষয়টা যদি আরও একটু ভালোভাবে সামলানো হতো (ভালো হতো)। কারণ তার আগে অনেকের মনে সন্দেহ এসেছে যে ক্রিকেট বোর্ড আগে থেকে বিষয়গুলো জানত। কেননা সভাপতি সাহেব (নাজমুল হাসান পাপন) বলেছিলেন একটা বড় ঘটনা আসছে, বড় তদন্ত হচ্ছে।’ সাবের হোসেন বলেছেন, ‘সুতরাং আমার মনে হয় আমরা যে এক একটা ব্যারিয়ার তৈরি করি, বোর্ড এক জায়গায়, আমার সবচেয়ে বড় অ্যাসেট আরেক জায়গায়, এটা করা ঠিক নয়।’