নারায়ণগঞ্জে ৫ হাজার ছাড়ালো করোনা শনাক্ত রোগী

নারায়ণগঞ্জে করোনা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়েছে। কখনো আক্রান্তের সংখ্যা কমছে। আবার হঠাৎ করেই হয়ে উঠছে আশংকাজনক। জেলা সিভিল সার্জন অফিসের গত কয়েকদিনের পরিসংখ্যানে এমনই চিত্র ফুটে উঠেছে।

সর্বশেষ গত ২৪ ঘন্টায় ৪৩২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ৩ জনের মৃত্যু হওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৩ জন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের ১৪টি এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে এসব এলাকার ব্যাপারে পরবর্তী করণীয় জানতে করোনা প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। রেড জোন ঘোষিত হলেও এসব এলাকাসহ পুরো জেলায় জনজীবন চলছে সেই স্বাভাবিক গতিতেই। সামাজিক দূরত্ব দূরের কথা শারীরীক দূরত্বের বালাই নেই রাস্তা-ঘাট, হাটবাজারসহ জনবহুল স্থানগুলোতে।

জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুন ২৪ ঘন্টার রিপোর্টে ৭ জনের মৃত্যু হয়। ঐদিন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ১০৭ জন। ২২ জুন ৪৫৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ৫৭ জনের শরীরে করোনা সনাক্ত হয়। ২৩ জুন ২৮৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে করোনা সনাক্ত হয়েছে ২৬ জনের। ২৪ জুন ২৯০ জনের নমুনা সংগ্রহ করার পর আক্রান্ত হয়েছে ৪১ জন। ২৫ জুন ১৮১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ২১ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। 
এদিকে ২৬ জুন হঠাৎ করেই করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। ঐদিন ২৪ ঘণ্টায় ৪১৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ১৩৭ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়। এদিন করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১ জনের মৃত্যু হয়। ২৭ জুন ২৪৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৫৪ জনের করোনা পজিটিভ হয়। 

সর্বশেষ শনিবার নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় (২৭ জুন সকাল ৮টা হতে ২৮ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত) জেলায় ৪৩২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এনিয়ে সর্বমোট নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ২৪৩৪২ জনের। নতুন ভাবে আক্রান্ত হয়েছেন ৪২ জন। এনিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫০২১ জন। এদিন নতুন করে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১১৩ জন। এছাড়া জেলায় এ পর্যন্ত সুস্থ্য হয়েছে ২৪৭১ জন।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে জেলার ফোকাল পার্সন ডা. জাহিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, কোনভাবেই করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না। একদিন আক্রান্তের সংখ্যা কমলে আবার পরদিনই বেড়ে যাচ্ছে। মৃতের বেলায়ও একই। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সার্বিকভাবেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মানুষের পাশে থাকার।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা রেডজোন চিহ্নিত করে পরবর্তি নির্দেশনার জন্য কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন যে সিদ্ধান্ত হবে সেটাই বাস্তবায়ন করবো।

ব্যাপক জনসমাগম তথা সামাজিক দূরত্ব না মানার কারনে লকডাউন জরুরী কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লকডাউনের বিষয়টা জেলা প্রশাসনের এখতিয়ারভূক্ত। এ ব্যাপারে আমাদের কোন ভূমিকা নেই। আমরা রেডজোন চিহ্নিত করে দিয়েছি। এখন জেলা প্রশাসন চাইলে লকডাউন দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।