সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গত ২৪ ঘন্টায় আরো নতুন নতুন এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার হাজারো বন্যা দূর্গত মানুষ।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম সোমবার দুপুরে জানান, গত ২৪ ঘন্টায় সিরাজগঞ্জ শহর পয়েন্টের যমুনা নদীর পানি ২৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২৬ ন্টেমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া জেলার কাজিপুর উপজেলা পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পায় ২৯ সেন্টিমিটার। ফলে এ দিন সকালে এখানে বিপদসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে যমুনা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।
তিনি আরো জানান, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি আরো কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে।
এদিকে সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর,বেলকুচি,চৌহালি ও শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা নদীর চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২ শতাধিক কাঁচা বাড়িঘর বন্যা পানিতে ডুবে যাওয়ায় হতদরিদ্র এ সকল মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তারা সহায় সম্বল ও গবাদিপশু নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। এ সব পরিবারে জ্বালানি, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুল হক জানান, বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় এ পর্যন্ত প্রায় ৮ হেক্টর জমির ফসল পানিতে ডুবে গেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পাট, তিল, কাউন, আখ, মরিচ, বোরো আমন, আউশ ও সবজি।
কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান জানান, রতনকান্দি হাটখোলা থেকে শুভগাছা ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার পাকা সড়ক বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এ ছাড়া আশপাশ এলাকার প্রায় শতাধিক বাড়ি ঘর বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত দুই হাজার মানুষ।
এ বিষয়ে কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহিদ হাসান জানান, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পূর্বদিক দিয়ে নদীর পানি উপচে পড়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি হাটখোলা-কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার পাকা সড়ক ও শতাধিক বাড়িঘর ডুবে যাওয়ায় শুভগাছা ইউনিয়নের পানিবন্দি মানুষদের জন্য ২৩ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ পানিবন্দি মানুষদের তালিকা করে তাদের মধ্যে এ চাল বিতরণ করা হবে।
এ ছাড়া সোমবার সকাল ১১টার দিকে কাজিপুর উপজেলার পাইকরতলী জলাশয়ের বন্যার পানিতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে কাওসার (২০) নামের এক নির্মাণ শ্রমিক নিখোজ হয়েছে। সে চাপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ উপজেলার ঝইরাপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে।
এ বিষয়ে কাজিপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার ফরিদ উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। রাজশাহী থেকে ডুবুরী দল এসে উদ্ধার কাজ শুরু করবে।