মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের স্ত্রী লায়লা আরজুমান্দ বানু কভিড-১৯ (করোনাভাইরাস)-এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল সোমবার সকাল পৌনে ৮টায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ এ তথ্য জানিয়েছেন। লায়লা আরজুমান্দের বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্বামী, এক ছেলে দুই মেয়ে, ছয় নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
লায়লা আরজুমান্দের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পৃথক বার্তায় তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ১৩ জুন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং তার স্ত্রী লায়লা আরজুমান্দ সিএমএইচে ভর্তি হন। সুস্থ হয়ে ২১ জুন মন্ত্রী বাসায় ফিরলেও স্ত্রীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সিএমএইচে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত রবিবার রাতে লায়লা আরজুমান্দের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে লাইফ সাপোর্টে নেন চিকিৎসকরা। গতকাল সকালে তার মৃত্যু হয়।
ঢাকা থেকে মরদেহ নিয়ে গতকাল বাদ জোহর গাজীপুর মহানগরীর বায়তুল মোয়াজ্জম (গোরস্থান) জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন ছেলে এ টি এম মাজহারুল হক তুষার। পরে গাজীপুর মহানগর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
লায়লা আরজুমান্দ ১৯৪৯ সালের ৬ জানুয়ারি গাজীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম শেখ মোবারক জান এবং মায়ের নাম লাল বানু। ১৯৭৪ সালের ১৬ এপ্রিল আ ক ম মোজাম্মেল হকের সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি।
এদিকে লায়লা আরজুমান্দের মৃতুতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, গাজীপুর সিটি মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ এমপি, মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, সিমিন হোসেন রিমি এমপি, বেগম সামসুন্নাহার ভূইয়া এমপি, গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারউজ্জামান, কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমানত হোসেন খান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রীনা পারভীন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।