দল নিবন্ধনে নতুন আইন প্রণয়ন স্থগিতের দাবি বিএনপির

করোনা পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের নতুন আইন প্রণয়নের কার্যক্রম উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তা স্থগিতের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিএনপির প্রতিনিধিদল এ দাবি জানায়। রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইনের খসড়ার ওপর নিজেরা মতামত দেবে না বলেও ইসিকে জানিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে ইসিকে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর গুরুত্বারোপ করতে পরামর্শ দিয়েছে বিএনপি। দলের যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে বিএনপির প্রতিনিধিদল গতকাল আগারগাঁওয়ে ইসি ভবনে যায়। প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও সাংসদ হারুন অর রশীদ। সাক্ষাতের সময় ইসি সচিবকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি চিঠি হস্তান্তর করা হয়।

পরে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সাংবাদিকদের বলেন, করোনা মহামারীর এই সময়ে সব মানুষ যখন জীবন-জীবিকা রক্ষায় নিবদ্ধ, তখন কমিশনের এ উদ্যোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। খসড়া আইনে বেশ কিছু অসংগতি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব অসংগতি আমরা তুলে ধরে বলেছি, এখন আইন প্রণয়নের সময় নয়। তাই এ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হোক।’

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা মতামত দিইনি। যেহেতু আমরা প্রক্রিয়াটি স্থগিতের দাবি জানিয়েছি, তাই কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের বৈঠকে আলোচনা করে আমাদের করণীয় ঠিক করব।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সচিব আমাদের জানিয়েছেন, কমিশনের কাছে আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরে আলোচনা করবেন। তারপর যে সিদ্ধান্ত আসে, তা আমাদের জানিয়ে দেবেন।’

এদিকে নতুন আইনে ইংরেজি শব্দের বাংলা প্রতিস্থাপনের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিবের চিঠিতে বলা হয়েছে, নিজেদের প্রতিষ্ঠানের নামে কমিশন ও পদবিতে কমিশনারের মতো ইংরেজি শব্দ অক্ষুণœ রেখে জনগণের কাছে পরিচিত ও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং জনপ্রতিনিধিদের পদ-পদবি পরিবর্তনের প্রস্তাব অনৈতিক ও অপ্রয়োজনীয়। স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সুপ্রিম কোর্ট এমন অনেক নাম ও পদবি উল্লেখ করে চিঠিতে প্রশ্ন করা হয়, নির্বাচন কমিশন কি এসব নাম এবং সংবিধান ও অন্যান্য আইনের ভাষা অশুদ্ধ মনে করে? চিঠিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের সামর্থ্য কীভাবে বাড়ানো যায়, সেদিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এর অনুচ্ছেদ ৯০ এ থেকে ৯০ আই পর্যন্ত নিয়ে আলাদাভাবে  ‘রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন’ নামে বাংলায় নতুন একটি আইনের খসড়া করেছে ইসি। গত ১৬ জুন খসড়াটি বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে মতামতের জন্য পাঠানো হয় এবং জন মতামত সংগ্রহে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এ বিষয়ে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবকে ই-মেইলে মতামত পাঠানোর জন্য বলা হয়। খসড়া আইনে বাংলায় রূপান্তরের ক্ষেত্রে ইংরেজি ও বিদেশি শব্দের বদলে বাংলা ভাষায় প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এতে সিটি করপোরেশনকে মহানগর, মেয়রকে মহানগর আধিকারিক, পৌরসভাকে নগর ও নগর সভা, মেয়রকে পুরাধ্যক্ষ বা নগরপিতা, কাউন্সিলরকে পরিষদ সদস্য, ওয়ার্ডকে মহল্লা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানকে উপজেলা পরিষদের প্রধান ও উপপ্রধান এবং ইউনিয়ন পরিষদকে পল্লী পরিষদ বলার প্রস্তাব করা হয়েছে।