বিএনপি বাজেটহীন রাষ্ট্র দেখতে চেয়েছিল : কাদের

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাজেট প্রত্যাখ্যানের নামে জাতীয় সংসদের সামনে বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যদের অনুমোদিত বাজেটের কপি ছেঁড়া সংসদের প্রতি চরম অবমাননা। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে এক ডিজিটাল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যরা এ বাজেট প্রত্যাখ্যান করার নামে সংসদ ভবনের সামনে মহান সংসদ কর্র্তৃক অনুমোদিত বাজেটের কপি ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছেন। এটি মহান সংসদের প্রতি চরম অবমাননা। এটি তাদের শপথভঙ্গেরও শামিল। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। জাতির এ ক্রান্তিকালে তারা দায়িত্বশীল আচরণ করেননি। তারা চেয়েছিলেন, সংসদ যাতে কোনো বাজেট পাস না করে। বাজেট ছাড়া একটি রাষ্ট্র তারা দেখতে চেয়েছিলেন। তারা দেশে একটি হতাশাজনক অবস্থা দেখতে চেয়েছিলেন। আমরা মানুষের মধ্যে আশার আলোর সঞ্চার করতে পেরেছি, যা এ প্যানডেমিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘গত ২৯ জুন মহান জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৯ জুন মহান জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে এ বাজেটের প্রেক্ষাপট, বৈশ্বিক পরিস্থিতিসহ দেশীয় বাস্তবতা, করোনা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এ দেশের মানুষের জন্য তার সরকারের নানামুখী উদ্যোগ ও সহায়তা এবং বাংলাদেশকে একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে তার গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। বাংলাদেশ তথা বিশ্ব মানবতার এ ক্রান্তিলগ্নে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার এ ভাষণ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ প্যানডেমিকের সময়ই আমাদের বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের আর্থিক বছরের গণনা আমাদের চেয়ে ভিন্ন হওয়ায় (যেমন জানুয়ারি-ডিসেম্বর, এপ্রিল-মার্চ, অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) তাদের এ সময়ে বাজেট করতে হয়নি। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ এবং দক্ষিণ গোলার্ধের কিছু দেশে আমাদের মতো জুলাই থেকে জুন আর্থিক বছর ধরা হয়। গত ১১ জুন ২০২০ মহান জাতীয় সংসদে জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষে তার অর্থমন্ত্রী ২০২০-২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। অথচ এ সময়ে যেসব দেশ বাজেট প্রণয়ন করেছে, তাদের অধিকাংশই করোনা পরিস্থিতির কারণে তাদের বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে সংকোচন করেছে। কোনো কোনো দেশ বাজেট দিতে ব্যর্থ হয়ে বিশেষ আইনের সহায়তায় বাজেট প্রণয়ন স্থগিত করেছে। এ সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার দুয়েকটি দেশসহ (যেমন পাকিস্তান) পৃথিবীর অনেক দেশে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কভিড-১৯-এর প্রভাবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে যে সাময়িক প্রয়োজন উদ্ভূত হয়েছে তা মেটানো এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি হবে তা পুনরুদ্ধারের কৌশল বিবেচনায় নিয়ে এ বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭তম এবং বর্তমান মেয়াদের দ্বিতীয় বাজেট। এ বাজেটে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জীবন ও জীবিকা রক্ষার ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘কভিড-১৯ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতায় বর্তমানে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া কভিড-১৯ মোকাবিলায় জরুরি চাহিদা মেটানোর জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেট বরাদ্দের দিক দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অবস্থান পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে, যা গত অর্থবছরে ছিল অষ্টম স্থানে।’

তিনি বলেন, ‘এ বাজেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হচ্ছে কৃষি। কৃষিতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে আমরা চাল উৎপাদনে তৃতীয় স্থান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। করোনা-উত্তর কৃষি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উৎপাদন, বাজারজাতকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করার মাধ্যমে খাদ্যসংকট যাতে তৈরি না হয় সেদিকে নজর দেওয়াই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। করোনা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই যাতে খাদ্যসংকট সৃষ্টি না হয় সেজন্য এক ইঞ্চি আবাদি জমিও ফেলে না রাখার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে কৃষি মন্ত্রণালয় ও তার সব সহযোগী সংস্থাগুলোকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিল্প ও ব্যবসা খাতকে প্রতিযোগিতা সক্ষম করার লক্ষ্যে সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা হয়েছে। বিগত এপ্রিল ২০২০ থেকে নতুন ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার সর্বোচ্চ ৯% কার্যকর হয়েছে। এর ফলে ঋণের ব্যয় হ্রাস পাওয়ায় বেসরকারি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।’