করোনাভাইরাস মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প-কারখানার জন্য সরকারঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোকে সময় বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী আগস্টের মধ্যে শিল্প, সেবা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ঘোষিত ৫০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার ঋণ ব্যাংকগুলোকে প্রদান করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার পর এ সংক্রান্ত একটি গাইডলাইন দেওয়ার আড়াই মাসেরও বেশি সময়ে প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ ছাড়ে ব্যাংকগুলোর গড়িমসির কারণে এমন নির্দেশনা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বাণিজ্যিক সব ব্যাংকের নির্বাহী প্রধানদের সঙ্গে গভর্নর ফজলে কবিরের এক বৈঠকের পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ব্যাংকগুলোকে ঋণ বিতরণের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়। ব্যাংকগুলোকে দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়, প্রণোদনা প্যাকেজের বেশিরভাগ ঋণ চলতি জুলাই মাসের মধ্যে বিতরণ করতে হবে, অবশিষ্ট অংশ বিতরণ আগস্ট মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি মেটাতে গত ৫ এপ্রিল থেকে কয়েক দফায় ১ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ১২ এপ্রিল প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোর জন্য একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর্থিক খাতে বিদ্যমান তারল্য সংকটের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণের বড় অংশই জোগান দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু এই ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোর ধীরগতির কারণে হতাশা প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এমন পরিস্থিতিতে প্রণোদনার ঋণ বিতরণ সম্পন্ন করতে সময় বেঁধে দিল আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রণোদনার ঋণ বিতরণের গাইডলাইন প্রকাশের পর গত ৩০ জুন পর্যন্ত মাত্র ৩০০ প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব জমা পড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে, যা ইতিমধ্যেই অনুমোদন দেওয়া হয়ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঋণ আবেদনে ব্যাংকগুলোর ধীরগতির কারণে প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়।
প্রণোদনা ঋণ বিতরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে তহবিল জোগান দেওয়া হলেও ঋণ দিতে ব্যাংকগুলো ধীরগতিতে চলছে বলে এফবিসিসিআইসহ ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠন অভিযোগ করে আসছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে। এমন পরিস্থিতিতে গত ১৭ জুন গভর্নর ফজলে কবির সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে সভা করেন। ওই সভায় ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ঘোষিত ৩০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর গতকাল পর্যালোচনা সভা হয় ক্ষুদ্র (কুটির শিল্পসহ) ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের ঋণ বিতরণের অগ্রগতি নিয়ে। দুই সভায়ই ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীরা চলতি জুলাই মাসের মধ্যে প্যাকেজগুলোর বেশিরভাগ বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানান। এরপর সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নির্দেশনা পাঠানো হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প, সেবা ও কৃষি খাতসহ আয়-উৎসাহী কর্মকাণ্ড পুনরায় সচল করার জন্য বিভিন্ন ঋণ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এসব প্যাকেজ যথাসময়ে বাস্তবায়িত না হলে প্যাকেজ প্রণয়ণের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। এরকম অবস্থায় প্রণোদনা প্যাকেজের অধিকাংশই চলতি জুলাই মাসের মধ্যে এবং বাকি অংশ আগস্টের মধ্যে বাস্তবায়ন করার জন্য পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে। প্যাকেজ বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
শিল্প, সেবা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রণোদনার এ অর্থ ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ হিসেবে পাবেন শিল্পোদ্যোক্তারা। ওই ঋণের সুদের অর্ধেক সরকার পরিশোধ করবে।