রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় মেসভাড়া দিতে দেরি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের জিনিসপত্র ডাস্টবিনে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগীদের পক্ষে মোহাম্মদ সজীব বাদী হয়ে বাড়ির মালিক মুজিবুল হক ওরফে কাঞ্চনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, চার বছর কলাবাগান এলাকার ৪/এ, ওয়েস্ট অ্যান্ড স্ট্রিটের রুবী ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন আট শিক্ষার্থী। করোনা পরিস্থিতিতে মার্চের ৫ তারিখ পর্যন্ত ভাড়া পরিশোধ করে তারা যে যার বাড়ি চলে যান। এরপর বাড়িওয়ালাকে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিলবাবদ আরও ১৫ হাজার টাকা মোবাইল অ্যাকাউন্টে পাঠান। আর বাকি টাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে ঢাকা এসে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু টাকা পাঠানোর পর বাড়িওয়ালা আর ফোন রিসিভ করেননি। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন মালিক তাদের সব মালামাল ময়লার গাড়িতে তুলে দিয়েছেন। পরে তারা গ্রাম থেকে এলেও মেসে ঢুকতে পারেননি।
বাড়িওয়ালার অমানবিক আচরণের শিকারদের মধ্যে চারজন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীও রয়েছেন। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সঙ্গে তাদের খোয়া গেছে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড। ফলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এসব শিক্ষার্থী।
ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া ঢাকা কলেজের স্নাতক শেষবর্ষের ছাত্র মোহাম্মদ সজীব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের সনদ, ল্যাপটপসহ মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেছে। মালিক কাঞ্চন মালামাল সিটি করপোরেশনের গাড়িতে তুলে দিয়েছেন। বিষয়টি জানতে পেরে ঢাকা এসেও কিছুই পাইনি। আমরা আমাদের মূল্যবান জিনিসপত্র ফেরত চাই। মামলা করেছি। বাড়ির মালিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
এ বিষয়ে বাড়ির মালিক মুজিবুল হক ওরফে কাঞ্চনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর ফ্ল্যাটে গিয়ে জানা যায়, ঘটনা জানাজানির পর থেকে তিনি পলাতক।
নিউ মার্কেট জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসামিকে ধরতে বাসায় অভিযান চালিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। ধরার চেষ্টা চলছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একই অমানবিক ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর ভূতের গলিতে। তবে মামলার পর আমরা আসামিকে ধরতে সমর্থ হয়েছি।’