অফিসে গিয়েই কাজ করতে হবে এই রীতি বাধ্যতামূলক নয় নেদারল্যান্ডসে। কাজের ক্ষেত্রে তারা কর্মীদের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করে। কর্মী বাড়িতে থাকলেও অফিসের কাজ সময়মতো হয়ে যাবে, এ নিয়ে নিয়োগকর্তা এবং কর্মী কারও মধ্যেই দ্বিধা কাজ করে না। কভিড-পরবর্তী সময়ে নেদারল্যান্ডসের মতো কর্মীদের বাড়িতে স্থায়ীভাবে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার কথা ভাবছে বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোও। লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা
অফিসের কাজ বাড়িতে
রান্না করতে করতে অফিসে একটা মেইল পাঠিয়ে দিচ্ছেন অথবা অডিও কলে যখন অফিসের মিটিংয়ে যোগ দিচ্ছেন, তখন আপনার হাতে হয়তো ভাঁজ করার জন্য কাপড়। দৃশ্যটা কি কিছুটা পরিচিত লাগছে? বর্তমান কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বাড়ি থেকে অফিসের কাজ করা অসংখ্য কর্মীর অবস্থাই এখন এমন। অফিসের চিরাচরিত দৃশ্য হলো- সব সময় চেয়ার-টেবিলে বসে কাজ, সময়মতো অফিসে যাওয়া, কাজ শেষে বাড়ি ফেরার তাড়া। আর এখন বাড়ি বসে এক হাতে নিজের ঘর, এক হাতে সামলাতে হচ্ছে অফিস। বাড়িতে কাজ করলেও ওদিকে অফিসের কাজ হয়ে যাচ্ছে সময়মতোই। কলিগদের সঙ্গে যোগাযোগে সমস্যা নেই। শহরগুলো যখন নতুন করে এ অভ্যাসে নিজেদের অভ্যস্ত করে নিচ্ছে, ঠিক তখন কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন, এই রিমোট ওয়ার্ক অর্থাৎ বাড়িতে বসে কাজটিকে সম্পূর্ণভাবে অনুমোদন দেওয়া উচিত। যদি বাড়িতে বসে কাজ করা স্থায়ী হয়ে যায়, তবে কীভাবে নিজ ঘরে বসে প্রতিদিন অফিস সামলানো যাবে, কোথায় টেবিল, চেয়ার, ডেস্ক রাখা হবে, ফাইল কীভাবে সাজানো হবে সবকিছু নিয়ে অনেকেই ইতিমধ্যে ভাবতে শুরু করেছেন। আবার অনেকের কাছে বিষয়টি দারুণ। বাড়িতে কাজ করলেও তাদের কাছে দিনটি অফিসের মতোই। যেহেতু কাজ করতে হচ্ছে নিয়মিতই। বাড়িতে বসে কাজ মানে কোনো মিটিং, প্রেজেন্টেশন, অফিশিয়াল ডেটা সংরক্ষণ কোনো কিছুতে ফাঁকি দেওয়ার তো উপায় নেই! এই কাজগুলো আপাতত বিশ্বের প্রায় সব দেশেই সাময়িকভাবে চালু থাকলেও, নেদারল্যান্ডস এই কাজের আনন্দ এবং স্বস্তি বুঝতে পেরেছে। এই কাজের পরিবেশের সঙ্গে তারা খুব দ্রুত নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর যেখানে যুক্তরাজ্যে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং আমেরিকায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ বাড়িতে বসে কাজ করত, সেখানে নেদারল্যান্ডস এই সংখ্যা ছিল ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। নেদারল্যান্ডস অবশ্য এই কাজ আগে থেকেই শুরু করেছিল। করোনায় এর বিস্তৃতি আরও বেড়েছে। নেদারল্যান্ডসকে অনুসরণ করেছে ফিনল্যান্ড। তবে অন্যান্য দেশের এ ব্যাপারে খুব বেশি আগ্রহ আগে দেখা যায়নি।
কর্মীরা যখন বাড়িতে বসে অফিসের কাজ করছেন, সেই কাজ সঠিকভাবে সম্পাদনের জন্যও একদল মানুষ পেছন থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। নেটওয়ার্কিংসহ বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন তারা। ইওভো ভ্যান ডর্ন নামে আমস্টারডামের একজন ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ‘মহামারী শুরু হলে আমি বাড়ি থেকেই কাজ শুরু করি। আমার বাড়ির লোকজন এবং প্রতিবেশী সবাই এতে বেশ অবাক হন। বাড়িতে বসেই হোম নেটওয়ার্কিং নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলাম, ভিডিও কনফারেন্স করে যাচ্ছিলাম নিয়মিত। এমনটি দেখতে তারা কেউ অভ্যস্ত নন। দৃশ্যটি তাদের বেশ চোখে লেগেছে। কিন্তু আমি সাদরেই গ্রহণ করেছি বাড়িতে বসে কাজ করাকে।’ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন কোম্পানি অফিসে না থেকেও বাড়িতে বসে দূরবর্তী কাজ থেকেও ভালো ফল পেয়েছে। কর্মীদের জন্য আলাদা আলাদা কম্পিউটার, ডেস্কের মাধ্যমে অফিশিয়াল ঘরানা তৈরি করা হয় কাজের জন্য। নির্দিষ্ট শিফটে কর্মীরা সবাই মিলে নিজেদের কাজ সম্পন্ন করেন, একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগটাও হয়তো সহজ হয় অফিসে থাকলে। বিভিন্ন দেশে অফিসের চিত্রটা এমনই। অথচ মহামারীর সময় সবাইকে পরিচিত পরিবেশ থেকে বেরিয়ে বাড়িতেই করে নিতে হয়েছে কাজের ব্যবস্থা। তবে নেদারল্যান্ডস যেহেতু আগে থেকেই বাড়িতে বসে কাজ করতে অভ্যস্ত, তাই এবার বাড়িতে কাজ সামলিয়ে নিতে তাদের খুব বেশি সময় লাগেনি। ইওভো ভ্যান ডর্ন বলেন, ‘আমরা যখন লকডাউনে যাই, তখন থেকেই ডাচ জনগণ বেশ সুবিধা পেয়ে আসছিল। আমি নিজেও আমার কোম্পানির কর্মীদের কাজের সুযোগ দিয়েছি বাড়ি থেকে। তারা যেন নিজ ঘরে বসে ঠিকমতো কাজ করতে পারেন, তাই আমার একজন কর্মী গিয়ে তাদের বাজেট অনুযায়ী বাড়িতে অফিসের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা গুছিয়ে দিয়ে আসেন। রোজ যেন তাদের জায়গা পরিবর্তন না করতে হয়, তাই ভিডিও কলের জন্য ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের জায়গাও নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ কাজে আমাদের সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছে ইন্টারনেট সুবিধা। আমরা যথেষ্ট ভাগ্যবান যে, আমাদের দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ মানুষের ঘরেই হাই স্পিড ইন্টারনেটের সুবিধা আছে। নেদারল্যান্ডস অনেক আগে থেকেই প্রযুক্তি, কর্মসংস্কৃতি আর দূরবর্তী কাজকে সামলে চলতে পারে। আমি আমার কাজটি সঠিকভাবে এবং সঠিক সময়ে অফিসকে দিতে পারছি কি না সেটি নিয়েই হিসাব হওয়া উচিত, দিনে নয় ঘণ্টা আমি চেয়ারে বসে আছি এটা যেন হিসেবের মধ্যে না আসে। আমিও আমার কর্মীদের কাজটাই আগে দেখব।’ ইওভোর মতো ভাবেন নেদারল্যান্ডসের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের মালিকই। তাদের জন্য কাজটাই আগে জরুরি। যেহেতু তারা বাড়িতে বসে কাজ করছেন, অবশ্যই কিছুটা বাড়তি সুযোগ তারা পাচ্ছেন। কিন্তু কাজ জমা দেওয়া শেষে তারা কী করছেন বা কীভাবে সময় কাটাচ্ছেন, সেটি নিয়ে অফিসের অন্য কারও কিছু ভাবার নেই।
বাড়িতে কাজের রীতি
আমরা যখন মহামারী-পরবর্তী অফিস কেমন হবে, কীভাবে কাজ হবে, বাসা ও অফিস একসঙ্গে কীভাবে চলবে, তাই নিয়ে ভাবছি, ঠিক তখন অনেকেই ইওভোর মতো স্থায়ীভাবে বাড়ি থেকে কাজের জন্য সব পরিকল্পনা করে ফেলেছেন। অফিসে বসে কাজ নাকি বাসায়, এ নিয়ে আমেরিকায় জরিপ চালানো হয় কয়েক দিন ধরে। জরিপের ফল অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে ৫৯ শতাংশ রিমোট ওয়ার্কার যারা বাড়িতে বসে কাজ করছেন, তারা ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্কুল বন্ধের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরে এলে স্থায়ীভাবে বাড়িতেই কাজ করতে চান। প্রতি পাঁচজনে অন্তত তিনজন কর্মীর চাওয়া এখন এটাই। মার্চ মাস থেকে তাদের ওপর এ জরিপ চালানো হচ্ছিল। শুরুতে কাজ নিয়ে দ্বিধা থাকলেও দ্রুতই বাড়ির পরিবেশের সঙ্গে কাজে তারা নিজেদের মানিয়ে নিয়েছেন। ৩৯ শতাংশ কর্মীর কোম্পানি থেকে বাড়িতে কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। তবে ৪১ শতাংশ আমেরিকান মহামারী শেষে আগের মতো অফিসে গিয়ে নিজেদের কাজ করতে চান। তাদের মতে, অফিশিয়াল কাজের জন্য অফিসের পরিবেশটাই উপযুক্ত।
বিভিন্ন কোম্পানিতে রিমোট ওয়ার্কিং
বিশ্বের বড় সব কোম্পানিই চলে এসেছে রিমোট ওয়ার্কিংয়ের আওতায়। তবে এটা ঠিক কত দিন চলবে, সেটি অবশ্য নিশ্চিত নয়। যুক্তরাজ্যের বহুজাতিক বিনিয়োগ ও আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বার্কলেসের কর্মীরা করোনাকালে কাজ করছেন বাড়ি থেকেই। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, মহামারীতে গ্রাহকরা অন্তত তাদের দুইশ কোটি ডলারের লোন শোধ করতে পারবেন না। অবশ্যই এটা যেকোনো আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের জন্য অনেক বড় ক্ষতি। বার্কলেসের প্রধান বলেছেন, ‘এক ভবনে সাত হাজার কর্মী নিয়ে কাজ করার ধারণাটা অতীত হয়ে যেতে পারে। অফিস এখন ভাবছে আসলেই ব্যাংকের জন্য কতটুকু জায়গা হলে হয়ে যায়। কারণ বেশির ভাগ কর্মীকে স্থায়ীভাবে বাড়ি থেকে কাজ করানোর কথা ভাবা হচ্ছে।’ প্রায় একই ধরনের বক্তব্য ব্যবসায়ী মার্টিন সোরেলেরও। আগে সাড়ে তিন কোটি পাউন্ড খরচ করে যে ধরনের ব্যয়বহুল অফিস গড়ে তুলেছিলেন, তেমন আর করবেন না। দ্য জয় অব ওয়ার্ক গ্রন্থের লেখক ব্রুস ডেইসলি বলেন, ‘আমরা বুঝেছি অফিস রাখার দিন ফুরিয়েছে। এতকাল যেভাবে অফিস করা হতো, এখন তা সম্ভবত অতীত হয়ে যাবে।’ প্রায় একই রকম হলেও একটু ভিন্ন ভাবনা টুইটারের। তারা তাদের সব কর্মীকে আজীবন বাসায় বসে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে তাদের অফিসও খোলা থাকবে, যেন কর্মীরা চাইলে আসতে পারেন। বাড়িতে বসে কাজ করাতে অনেকেই আনন্দিত হতে পারেন। আবার অনেকের মতে, অফিস না থাকলে নিজেকে নিঃসঙ্গ ও নির্বাসিত মনে হবে। কারণ, মানুষ সামাজিক জীব, তাই ঘরে বসে কাজ করা কঠিন। তাই তারা অফিসের দুয়ারও খোলা রেখেছেন কর্মীদের জন্য।
অফিস যে একবারেই থাকবে না বা অফিসে বসে কাজ হবে না, সেটি নিয়ে মতভেদ রয়েছে লন্ডনের সিটি ইউনিভার্সিটির বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক আন্দ্রে স্পাইসারের। তার মতে, অফিসের কার্যক্রমে কাঠামোগত পরিবর্তন অবশ্যই হবে। অফিস হবে কেন্দ্র, যেখানে জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপকদের যেতে হবে। তাদের সঙ্গে দেখা করতে কর্মীরা সপ্তাহে দু-এক দিন অফিসে যেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সোসাইটি ফর হিউম্যান রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট (এসএইচআরএম) বলেছে, কাজের ক্ষেত্র ও পরিবেশ চিরকাল এক রকম থাকবে না। কাজকর্ম ও ব্যবসা-বাণিজ্য আগের মতো করে চলবে না, এটা প্রায় নিশ্চিত। তাদের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৭১ শতাংশ নিয়োগদাতা বলেছেন, কর্মীরা বাড়িতে থেকে কাজ করলে কাজের সমন্বয় করতে অসুবিধা হয়। ৬৫ শতাংশ নিয়োগদাতার মতে, কর্মীদের মনোবল চাঙা রাখাটাও একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক- তৃতীয়াংশের বেশি নিয়োগদাতা মনে করেন, বর্তমান অবস্থায় কোম্পানির সংস্কৃতি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
লেইডেন ইউনিভার্সিটির সাইকোলজির প্রফেসর আউজে নওতা গবেষণা করছেন বিভিন্ন সংস্থা কীভাবে গতিশীল কাজের সঙ্গে ব্যক্তিগত দক্ষতার উন্নয়ন করতে পারে তা নিয়ে। তার মতে, নিয়োগকর্তাদের এ কাজে উৎসাহ নিতে নেদারল্যান্ডসের দিকে তাকানো উচিত। তারা সহজেই বুঝতে পারবে দূরবর্তী কাজ সম্পাদন করতে এবং ভার্চুয়ালি অফিস তৈরি করতে কী কী করতে হয়। তিনি বলেন, ‘ডাচদের কর্মসংস্কৃতিতে গণতন্ত্র এবং অংশগ্রহণের মতো মূল্যবোধগুলো গভীর। তাই বিশ্বের অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে সেখানকার পরিচালকরা তাদের কর্মীদের ওপর বেশি আস্থা রাখেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় আমস্টারডামের প্রভাবশালী ডাচ কোম্পানি আইএনজি ব্যাংকের কথা। তারা তাদের কর্মীদের ইচ্ছামতো ছুটি কাটানোর সুযোগ দেয় যত দিন পর্যন্ত তাদের কাজের কোনো ক্ষতি না হচ্ছে। এ রকম বিশ্বাস কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালক যদি নিজেদের কর্মীদের ওপর রাখেন, তবে বিশ্বব্যাপী মহামারী-পরবর্তী অফিস এবং বাসার কাজে স্মার্ট একটি সংযোগ তৈরি হতে পারে।’ নেদারল্যান্ডসের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক বিষয়গুলো অনেক বেশি বিস্তৃত, যার কারণে তাদের দূরবর্তী কাজগুলো সম্পন্ন করা সহজ হয়। ব্যবসায়ী ভবিষ্যৎবিদ এবং সাইকোলজিস্ট বার্ট গট বলেন, ‘পাবলিক লাইব্রেরিগুলো যেখানে নিজেদের আরও বেশি আধুনিক আর বড় করে তুলে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করেছে, সেখানে কফিশপেও দূরে থেকে কাজ করছেন এমন অনেক কর্মী রয়েছে। সরাসরি উপস্থিত থেকেও কাজের সুযোগ তারা বাড়িয়েছে, সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে বাড়িতে বসে কাজের সুযোগও সৃষ্টি করেছে। নেদারল্যান্ডসের নিয়োগকর্তারা খরচ কমিয়েছেন কিন্তু আরও বেশি উৎপাদন করার ক্ষমতা বাড়িয়েছেন। অফিসের আয়তন কমে এসেছে সত্যিই, কিন্তু কোনো কর্মী বাড়িতে কাজ করার সময়ও যদি অসুস্থ হন, তবে তারাও অসুস্থতার জন্য আলাদা পেমেন্ট পাবেন। সহজ ভাষায়, কর্মীদের বাড়িতে বসে সুস্থতার সঙ্গে সব কাজ করার সুযোগ তারা নিশ্চিত করেছেন।’ বাড়িতে বসে কাজ করার এই সুযোগে যে শুধু নেদারল্যান্ডসের বড় কোম্পানিগুলোই লাভবান হয়েছে, তা নয়। অন্তত ১ দশমিক ১ মিলিয়ন কর্মীরা নিজে থেকে লাভবান হয়েছেন। কেউ ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে, কেউবা ছোট ব্যবসা করে বাড়িতেই ভার্চুয়াল অফিসের মাধ্যমে কাজ করছেন।
পুনর্গঠনের শক্তি
কর্মীদের ওপর অগাধ বিশ্বাস আর ডিজিটালি রিমোট ওয়ার্ককে সমর্থন দেওয়ায় অনেক দেশই এখন ডাচদের দিকে তাকিয়ে আছে কভিড-পরবর্তী ভবিষ্যতের জন্য। স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ব এখনো বাড়ি থেকে কাজে অভ্যস্ত নয়। যুক্তরাজ্যের কর্মীদের ৮৩ শতাংশ তাদের কর্মস্থলে মানসিক বা শারীরিক স্বাস্থ্য চাপে থাকেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়িতে ব্রডব্যান্ড নেই এবং পাঁচজনের মধ্যে একজন কর্মী বাড়িতে বসে অফিস করার সুযোগ নেওয়ায় নিজেকে দোষী মনে করছেন। তারা ভাবছেন এতে তাদের কাজের প্র তি আগ্রহের বিষয়টি অফিস নাও লক্ষ করতে পারে। তবে আশা করা যায়, এ ধারণার কিছুটা পরিবর্তন ধীরে হলেও হবে। শারীরিক উপস্থিতি ছাড়া কাজের সমন্বয়, ডিজিটাল উন্নয়নে বিনিয়োগ, বিশ্বাসের সংস্কৃতি তিন মিলে যখন নেদারল্যান্ডস এত দারুণ কাজের ক্ষেত্র তৈরি করতে পেরেছে, সেখানে তাদের দেখাদেখি অনেক দেশই কভিড-পরবর্তী সময়ে এমন কিছুই ভাবছে। গত কয়েক মাসে কিন্তু এই পুনর্গঠনের শক্তিটাই বেশি মাত্রায় চোখে পড়েছে। ডিজিটাল মাধ্যমকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে আরও দ্রুত সমস্যার সমাধান সম্ভব। ‘অফিস বাধ্যতামূলক’ এ রীতি পরিবর্তন করে নতুনভাবে বিশ্ব হয়তো নতুন নিয়মে চলবে, সেদিন আর বেশি দূরে নয়।