স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্যুটিং কঠিন

প্রায় সাড়ে তিন মাস পর শ্যুটিংয়ে ফিরলেন অমিতাভ রেজা চৌধুরী। একটি বিজ্ঞাপনের শ্যুটিং করছেন তিনি। অভিনেত্রী ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর এই বিজ্ঞাপনের শ্যুটিংয়ে অংশ নেন। অমিতাভ রেজা বিজ্ঞাপন বিষয়ে কিছু বলতে নারাজ। করোনার এই সময়ে শ্যুটিং অভিজ্ঞতা কেমন ছিল জানতে চাইলে অমিতাভ রেজা চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আপাত দৃষ্টিতে শ্যুটিং করতে সমস্যা হচ্ছে না। তবে কভিড নাইনটিনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্যুটিং করতে বেশ ঝামেলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শ্যুটিং করা অনেক কঠিন। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, এই সিচুয়েশনে বিহেভিয়র চেঞ্জ হওয়া দরকার। সেটা রপ্ত হওয়ার জন্য সময় দরকার। এবং যত তাড়াতাড়ি রপ্ত হওয়া যায় ততই ভালো।’

শ্যুটিংয়ে স্বাস্থ্যবিধি কতটা মানা সম্ভব হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে একটা টিমই ছিল যাদের সারাদিনের কাজই ছিল হ্যান্ড স্যানেটাইজ করা, সবার ডিসট্যান্স মেইনটেইন ঠিক মতো হচ্ছে কি না সেটা লক্ষ রাখাসহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো দেখভাল করা। কাজটা অনেক কঠিন। তারপরও আমাদের কাজটা করতে হবে। এটা সত্যিই খুব টাফ জব।’

কাজের প্রক্রিয়া সহজ করা সম্ভব কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে অমিতাভ বলেন, ‘কাজের প্রক্রিয়া সহজ করা সম্ভব নয়। গল্প ভাবনায় পরিবর্তন করতে হবে। চিন্তায় পরিবর্তন করতে হবে। অনেক কিছু পরিবর্তন করতে হবে। সহজ কোনো বিষয় নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘শ্যুটিং না করার সুযোগ থাকলে আমি তাই করতাম। আরও ছয় মাস শুয়ে-বসে খেতাম। কিন্তু গত দুই দশকের নির্মাণ ক্যারিয়ারে আমার চারপাশ জুড়ে অসংখ্য ঘরবাড়ি-গাছপালা জন্মেছে। যাদের দায়-দায়িত্ব আমার প্রতিষ্ঠান হাফ স্টপ ডাউনের। এখন যদি শ্যুটিং না করি, ওদের বেতন আর টানতে পারব না। জমানো টাকা শেষ। এখন সব ছাঁটাই করতে হবে। সেটা তো সম্ভব নয়। সমাধানও নয়। তাই মনের বিরুদ্ধে হলেও কাজ শুরু করেছি। কিন্তু এভাবে তো কাজ করা কঠিন। শ্যুটিংয়ে গিয়ে করোনা আতঙ্কে থাকব, নাকি প্রাণ খুলে দৃশ্যধারণ করব! তাও আবার ইনডোর শ্যুটিংয়েই এই অভিজ্ঞতা। আউটডোরে কী করব, জানি না।’

‘রিকশা গার্ল’ সিনেমার শ্যুটিংও শেষ করে এনেছেন পরিচালক। ধারণা করা হচ্ছে, প্রথম ছবির বিপরীত ঘটনা ঘটবে এই ছবিটিতে। বিদেশি দর্শক-সমালোচকদের কাছে ‘রিকশা গার্ল’ ব্যাপক প্রশংসা কুড়াবে। ২০২০ সালের প্রথম দিকে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ‘রিকশা গার্ল’। করোনার কারণে সেটি ঘোষণা পর্যন্তই স্থগিত রয়েছে। মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমাটি কবে আলোর মুখ দেখবে? অমিতাভ বলেন, ‘এখন তো সারা পৃথিবীই অনিশ্চিত। ফলে বলতে পারছি না রিকশা গার্ল কবে নাগাদ মুক্তি দিতে পারব। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিবেচনা করব। এডিট করে রেখেছি, ফাইনাল কাজ করতে আমার আরও মাসখানেক লাগবে।’

পরিবারের হাল ধরতে অসুস্থ বাবার রিকশা নিয়ে পুরুষ-বেশে বের হওয়া অদম্য নাইমার গল্পই উঠে এসেছে এই সিনেমায়। এর সঙ্গে দেশের বিলুপ্ত প্রায় রিকশা পেইন্টিংকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে ছবির পরিচালক ও প্রযোজকদের। সেই ভাবনা থেকে ছবিটি নির্মিত হয়েছে ইংরেজি ভাষায়। ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের লেখক মিতালি পার্কিন্সের ‘রিকশা গার্ল’ উপন্যাস অবলম্বনে ছবির চিত্রনাট্য করেছেন শর্বরী জেড আহমেদ ও নাসিফ আমিন। ছবির প্রযোজক এরিখ জে অ্যাডামস, নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে আছেন ফরিদুর রেজা সাগর ও জিয়াউদ্দিন আদিল। ‘রিকশা গার্ল’-এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন নভেরা রহমান।