বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব থেকে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক) মো. রফিকুল ইসলামকে অব্যাহতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দুটি বেসরকারি সংগঠন। গতকাল শুক্রবার যৌথ বিবৃতিতে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সভাপতি হাজি মোহাম্মদ শহীদ মিয়া এবং গ্রিন ক্লাব অব বাংলাদেশের (জিসিবি) সভাপতি নুরুর রহমান সেলিম নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতি এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পুরাতন ও জরাজীর্ণ ছোট লঞ্চ এমএল মর্নিং বার্ডকে বছরের পর বছর ফিটনেস (সার্ভে) প্রদানের সঙ্গে জড়িত শিপ সার্ভেয়ারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৪ সালের ৪ আগস্ট মাওয়ায় পদ্মা নদীতে এমএল পিনাক-৬ লঞ্চ দুর্ঘটনার পর গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দায়ী কর্মকর্তাদের তালিকায় বিআইডব্লিউটিএর তৎকালীন পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক) মো. শফিকুল হক এবং একই বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম ছিলেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে এ দুজনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্র্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে শফিকুল হক অবসরোত্তর ছুটিতে গেছেন এবং রফিকুল ইসলাম পদোন্নতি পেয়ে পরিচালক হয়েছেন। এবার সেই রফিকুল ইসলামকেই তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ও অগ্রহণযোগ্য। এছাড়া তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব পদে কারিগরি বিশেষজ্ঞ রাখা হয়নি, এতে অতীতের যেকোনো নৌ দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠনের প্রচলিত নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে দুই শীর্ষ পদের অন্তত একটিতে কারিগরি বিশেষজ্ঞ রাখা আবশ্যক।
যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনাকবলিত মর্নিং বার্ড বহু বছরের পুরাতন লঞ্চ। তা সত্ত্বেও ২০১২ সালে ‘অ্যাজ বিল্ট’ (নতুন নির্মাণের পর নকশা প্রণয়ন ও অনুমোদন) দেখিয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের তৎকালীন ‘প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারক’ লঞ্চটি সার্ভে করে রেজিস্ট্রেশন দেন। সর্বশেষ গত তিন বছর নৌযানটির বার্ষিক ফিটনেস পরীক্ষা করছেন একই কার্যালয়ের বর্তমান ‘প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারক’ এবং তার সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারক (সিইএসএস) প্রতি বছর সার্ভে সনদ দিয়ে আসছেন। অথচ বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশে এ ধরনের ‘সানকেন ডেক বিশিষ্ট’ লঞ্চ বা নৌযান প্রতি পাঁচ বছরে অন্তত দুবার ড্রাইডকিং (ডকইয়ার্ডে বিশেষভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মেরামত) করার কথা বলা হয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা আমলে নেননি।