বিশেষজ্ঞদের করোনা নিয়ে মতামত ভুল প্রমাণিত : তথ্যমন্ত্রী

দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের দেওয়া মতামত ভুল প্রমাণিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘করোনায় সারা বিশ্ব যখন পর্যদুস্ত, তখন শুরু থেকেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জনগণের শারীরিক সুরক্ষার পাশাপাশি খেটে খাওয়া ২০ শতাংশ দরিদ্র মানুষের জন্য ত্রাণ তৎপরতা শুরু করেন। অনেক বিশেষজ্ঞ এ সময় করোনা নিয়ে নানা মতামত দিয়েছেন। কিন্তু সবার মতামত ভুল প্রমাণিত হয়েছে।’ গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত করোনাকালীন সহায়তার চেক বিতরণকালে এসব কথা বলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে গেল সাড়ে তিন মাসে একজন মানুষও না খেয়ে মৃত্যুবরণ করেনি। অনেকে আশা করেনি এ রকম সরকারি সাহায্য দেওয়া হবে। বাংলাদেশে ৭ কোটি মানুষ সরাসরি ত্রাণ সহায়তা পেয়েছে।’

করোনাভাইরাসে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মৃত্যুর হার অনেক কম উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘অনেকে অনেক কথা বলেন। পৃথিবীর কোনো দেশ করোনা মোকাবিলায় প্রস্তুত ছিল না। আমরা সীমিত সামর্থ্য নিয়ে মোকাবিলা করছি। আমাদের মৃত্যুর হার ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে কম। ইউরোপের চেয়ে তো অনেক কম। যারে দেখতে না পারি, তার চলন বাঁকাÑ সেই মনোবৃত্তি থেকে সমালোচনা উচিত নয়।’

গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ১৩৬ জন সাংবাদিককে করোনাকালীন সহায়তার চেক তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এ সময় চট্টগ্রামের ২৫ জন সাংবাদিককে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নিয়মিত সহায়তার চেকও দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংবাদিকদের সহায়তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘শুরুতে করোনাকালীন সহায়তার জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। পরে আরও ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন ৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা সাংবাদিকদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ। প্রথম ধাপে দেড় কোটি টাকার মতো বিতরণ করা হচ্ছে। পরে বাকি অর্থ বিতরণ করা হবে।’

করোনাকালীন কঠিন সময়ে সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতিকে অমানবিক উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা আসার পর আমরা অনুরোধ করে আসছিলাম পাওনা পরিশোধ করা এবং চাকরিচ্যুতি না করার ব্যাপারে। কিন্তু এত কিছুর পরও মানবিকতা না দেখানো দুঃখজনক। মানবিকভাবে বিবেচনা করলেই সব সমস্যা সমাধান হয়ে যেত।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলী। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি আলহাজ আলী আব্বাস, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব মহসীন কাজী প্রমুখ।