কলকাতার সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে হাসান মাসুদ

সব সময় হাসি লেগে থাকে মুখে। সে হাসি দর্শকের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। আনন্দ দেয়। দর্শক তাকে টিভির পর্দায় দেখলেই বিনোদিত হন। তিনি সবার প্রিয় অভিনেতা হাসান মাসুদ। দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয়ের আঙিনায় সফল পদচারণ এই অভিনেতার। তার অনেক গুণ, অনেক পরিচয়। সাংবাদিক হিসেবে সুপরিচিত তিনি। গায়ক হিসেবেও সমাদৃত। পেশায় ছিলেন সামরিক কর্মকর্তা। তবে সবকিছু ছাপিয়ে অভিনয়ের জাদু দেখিয়ে তিনি দর্শকের প্রিয় হাসান মাসুদ।

আফসোসের বিষয় হলো, দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয়ে নিয়মিত নন তিনি। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় আড়ালে চলে যান তিনি। তা-ও প্রায় পাঁচ বছর হতে চলল। কিন্তু কেন? কোন অভিমান মনে নিয়ে নিজেকে আড়ালে সরিয়ে নিয়েছেন তিনি? একেবারেই কি ছেড়ে দিয়েছেন শোবিজ? এসব প্রশ্ন ভক্তদের মনে। অবশেষে খবরে প্রকাশ হলো, অভিনয়কে একেবারেই বিদায় জানিয়েছেন এই অভিনেতা। তার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেল ভিন্ন কথা। হাসান মাসুদ দেশ রূপান্তরকে বললেন, ‘অভিনয় ছাড়ার খবর একেবারেই ভিত্তিহীন। লকডাউনে কীভাবে কাজ করব? যারা নিয়মিত কাজ করছেন, তারাই তো ঘরে বসে আছেন। আর আমি তো ইদানীং বেছে বেছে কাজ করছি। তবে এটা ঠিক যে, অনেকটা সময় নিয়মিত অভিনয় করেছি। এখন আর আগের মতো কাজ করে আরাম পাচ্ছি না। তার মানে এই নয় যে অভিনয় আর করব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন একই রুটিন হয়ে গিয়েছিল। প্রায় একই রকম চরিত্র-সংলাপ। কাজগুলো উপভোগ করছিলাম না। যার কারণে নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নিয়েছি। ভালো চিত্রনাট্য পেলে ফের অভিনয়ে নিয়মিত হব।’

ভালো কিছু কাজের প্রস্তাবও তিনি পেয়েছেন বলে জানান। করোনা পরিস্থিতির আগেই নতুন করে কাজে ফেরার কথা ছিল হাসান মাসুদের। কলকাতার একটি সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধও হয়েছিলেন। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে সিনেমাটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার জন্য সব আটকে গেল। এ প্রসঙ্গে হাসান মাসুদ বলেন, ‘বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটগল্প অবলম্বনে কলকাতার নির্মাতা দেবরাজ একটি সিনেমা নির্মাণ করছেন। আমি সেই সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। প্রথমে সিনেমাটির নাম ছিল ক্যানভাসার। পরে নাম ঠিক হয়েছে ফেরিওয়ালা। মার্চেই শ্যুটিং শুরুর কথা ছিল। কিন্তু লকডাউনের কারণে তা সম্ভব হয়নি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কাজ শুরু হবে।’

সাহিত্য অবলম্বনে নির্মিত সিনেমার প্রধান চরিত্রে কাজ করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। চরিত্রটি ঠিকঠাক ফুটিয়ে তুলতে কী ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জানতে চাইলে হাসান মাসুদ বলেন, ‘আমি আসলে মেথড অ্যাক্টর নই। তবে স্ক্রিপ্টটি বারবার পড়ার চেষ্টা করি। কোনো চরিত্র করতে গেলে তার পারিপাশির্^ক অবস্থা সম্পর্কে জেনে বোঝার চেষ্টা করি চরিত্রটি কীভাবে কথা বলতে পারে, কীভাবে চলাফেলা করতে পারে। ক্যামেরার সামনে সাবলীলভাবে যা আমার মধ্য থেকে বের হয়, সেভাবেই আমি অভিনয় করি।’

তবে পৃথিবীর এই বৈরী পরিস্থিতিতে হাসান মাসুদের মন ভালো নেই। তিনি পুরো বিষয়টি নিয়ে বেশ চিন্তিত। কোনো কাজে ঠিকমতো মন বসাতে পারছেন না। 

বর্তমানে কী করছেন, কীভাবেই বা কাটে সময়? সেই প্রশ্নের জবাবে হাসান মাসুদ জানান, রাজধানীর নিকেতনে নিজ বাসায় পরিবারের সঙ্গেই রয়েছেন তিনি। স্ত্রী ও এক ছেলে নিয়ে তার সংসার।