করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে বিদ্যুতের অতিরিক্ত বা ভুতুড়ে বিল নিয়ে ২৯০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ গঠিত টাস্কফোর্স। গতকাল রবিবার দুপুরে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ সচিব ড. সুলতান আহমেদ। তিনি বলেন, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আবাসিক গ্রাহকদের বিলম্ব মাশুল আরও কিছু দিন মওকুফের চিন্তা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের টাস্কফোর্সের প্রতিবেদন নিয়ে গতকাল আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সব মিলিয়ে ৬২ হাজার ৯৬ বিলে তারা অসংগতি পেয়েছে। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ২ কোটি ৯০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ৩৪ হাজার ৬১১ জনের অতিরিক্ত বিল করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ৯ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৯ জন গ্রাহকের মধ্যে ১৫ হাজার ২৬৬ জন, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) ১০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ৫ হাজার ৬৫৭ জন, নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) ১৫ লাখ ৪৮ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ২ হাজার ৫২৪ জন, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) ১২ লাখ ১৩ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ৫৫৬ জন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ৩২ লাখ ১৮ হাজার ৫১৫ জনের মধ্যে ২ হাজার ৫৮২ জন অতিরিক্ত বিলের শিকার হয়েছে।
অতিরিক্ত বিলের জন্য গ্রাহকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বিদ্যুৎ সচিব বলেন, ‘আমরা সব সময়ই গ্রাহকবান্ধব। আমরা যে আস্থা হারিয়েছি আশা করছি তা শিগগিরই পুনরুদ্ধার করতে পারব। ভবিষ্যতে বিতরণ কোম্পানিগুলো এ ধরনের সংকট সমাধানে শতভাগ মিটার রিডিং নিয়ে বিল করবে।’
তিনি বলেন, ‘করোনার মধ্যে আমাদের মিটার রিডাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার রিডিং করতে পারেননি। এজন্য এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। ৬০১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, এর মধ্যে ১২ জন বিদ্যুৎকর্মী মারা গেছেন।’
সুলতান আহমেদ বলেন, আরইবি মনিটরিং কমিটি গঠন করেছে। তারা খুঁজে বের করছে কারা এজন্য দায়ী। চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরির কাজ চলছে। আরইবি তাদের চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। ডিপিডিসি অতিরিক্ত বিলের অভিযোগে একজন নির্বাহী প্রকৌশলীসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত, ৩৬টি ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীদের কারণ দর্শানোর নেটিস দিয়েছে। এ ছাড়া আরও ১৩ জন মিটার রিডার ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটরসহ ১৪ জনকে চুক্তিভিত্তিক কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নেসকো দুজন মিটার রিডারকে বরখাস্ত ও একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে বদলি করেছে। ওজোপাডিকো ২২৩ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে। যাদের কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে তাদের সবার বিষয়ে তদন্ত হবে। কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে চাকরি বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যুৎ সচিব বলেন, ‘যাদেরই অতিরিক্ত বিল এসেছে তার সবগুলো সমন্বয় করে দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এক দিনের নয়। কাজেই কোনো গ্রাহক যদি এখনো মনে করেন তার বিল বেশি এসেছে, তার জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা তার বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখে ব্যবস্থা নেব। এ ধরনের ভুল যাতে না হয় সেজন্য শতভাগ মিটার দেখে বিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, ‘আমাদের কাছে ৪ হাজার ৩৩০টি বিলের অভিযোগ এসেছিল। কিন্তু আমরা নিজস্ব অনুসন্ধানে দেখেছি ১৫ হাজার গ্রাহকের অতিরিক্ত বিল করা হয়েছে। তাদের সবার বিল সমন্বয় করা হয়েছে।’
পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।