জনপ্রিয় উপস্থাপক, মডেল ও অভিনেত্রী মারিয়া নূর ভক্তদের জন্য নতুন অনুষ্ঠান নিয়ে হাজির হয়েছেন। সমসাময়িক বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ
মারিয়ার চ্যালেঞ্জ...
আমি এখন ‘মারিয়ার চ্যালেঞ্জ’ অনুষ্ঠানটি নিয়ে ব্যস্ত। এটি প্রতি শনিবার রাত ৯টায় আমার ফেইসবুক পেজ থেকে লাইভের মাধ্যমে দর্শকের কাছে উপস্থাপন করছি। পরে আমার ইউটিউব চ্যানেলেও অনুষ্ঠানটি সম্পাদনা করে প্রকাশ করছি। এরই মধ্যে দুটি অ্যাপিসোড দর্শক দেখেছে। প্রথম পর্বে অতিথি ছিলেন তানিয়া আহমেদ আর দ্বিতীয় পর্বে সাফা কবির। তারা দুজনই আমার খুব প্রিয় ও কাছের মানুষ। কিন্তু আমার অনুষ্ঠানে আমার কাছের মানুষ নয়, বরং দর্শকের কাছে যারা প্রিয় তাদের নিয়েই হাজির হব। আমার অতিথির তালিকায় জনপ্রিয় তারকারা রয়েছেন। প্রথম দুই পর্বে দর্শক সাড়া দারুণ। লাইভের সময় ২০ হাজারের বেশি মানুষ অনুষ্ঠানটি দেখেছে। পরে ইউটিউবে আরও দর্শক দেখছে।
লাইভ নিয়ে সমালোচনা...
অনেকে বলছে লকডাউনে ফেইবসুক লাইভের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুনছি। কিন্তু আমি কোনটা গ্রহণ করব তা সম্পূর্ণ আমার নিজের ব্যাপার। দীর্ঘদিন লকডাউনের কারণে মানুষ ঘরে থাকতে থাকতে অনেকটাই ক্লান্ত। কেউ কেউ বিষণœতায় ভুগছে। তাদের একটু আনন্দ দেওয়াটা শিল্পী হিসেবে আমার কর্তব্য বলেই মনে করি। লকডাউনে বিশে^র কোনো শোবিজ ইন্ডাস্ট্রি সেভাবে দর্শককে নতুন কনটেন্ট দিতে পারেনি। তাই অনেকেই চেষ্টা করছে মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্য ফেইসবুক লাইভ করছে। এতে কোনো খারাপ কিছু আমি দেখি না।
শ্যুটিংয়ে ফেরা...
লকডাউন শুরুর আগে ঈদের কয়েকটি নাটকের জন্য শিডিউল দিয়েছিলাম। কিন্তু কাজ করা হয়নি। সেই নাটকগুলোসহ আরও নতুন নাটকের প্রস্তাব আছে। আমি এমনিতেই নাটকে কম কাজ করি। তাই এখনই নাটকের শ্যুটিংয়ে ফিরছি না। কারণ, নাটকের শ্যুটিংয়ে অনেক লোকসমাগম হয়। তাই পরিবেশটাকে আমি এখনো নিরাপদ মনে করছি না। তবে উপস্থাপনার কাজ শুরু করেছি। ঘরের বাইরে গিয়েও কাজ করছি। উপস্থাপনার কাজে লোকবল কম থাকলেও চলে। তবে যে তারকারা এখন নাটকের শ্যুটিংয়ে ফিরেছেন, তাদের সাধুবাদ জানাই। তারা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছেন। কারণ ক্যামেরার পেছনে যারা কাজ করেন, তারা লকডাউনের সময় কাজের অভাবে অনেক খারাপ সময় পার করেছেন। তাদের দিকে তাকিয়ে হলেও অনেকে শ্যুটিং করছেন।
প্রসঙ্গ ‘বুলবুল’...
আমি নেটফ্লিক্সে আনুশকা শর্মা প্রযোজিত সিনেমাটি দেখেছি। আমার খুব ভালো লেগেছে। আমার দেখে মনে হয়নি হিন্দু সম্প্রদায়ের কোনো দেবতাকে অসম্মান করা হয়েছে। যুগে যুগে নারীরা যখন অন্যায় সহ্য করতে করতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, তখন বিধ্বংসী হয়ে ওঠে, সেটাই দেখানো হয়েছে। ‘কলঙ্কিনী রাধা’ গানের দুটি শব্দের জন্য ভারতে যারা নেটফ্লিক্স বয়কটের কথা বলছেন, তারা উগ্রবাদী মনোভাব দেখাচ্ছেন বলেই আমার মনে হয়।