ঝালকাঠিতে চার কোটি টাকার চাল নিয়ে বিপাকে চালকল মালিক

ঝালকাঠিতে সরকারের বোরো সংগ্রহ কার্যক্রমের চাল কল মালিক ভর্তুকি দিয়ে দিতে চাইলেও না নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) এইচ এম আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ উঠেছে, উৎকোচ না দেওয়ার কারণে মানসম্মত চালও গুদামে ঢুকতে দিচ্ছেন না ওই কর্মকর্তা। এতে চার কোটি টাকার চাল প্রস্তুত করে বিপাকে পড়েছেন জেলার নলছিটি উপজেলার সুগন্ধা অটো রাইস অ্যান্ড এ্যাগ্রো ফুড প্রসেসিং কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় সুগন্ধা অটোরাইস মিলের পক্ষ থেকে খাদ্য বিভাগের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে খাদ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিল্লুর রহমান খান।

অভিযোগে জানা যায়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা খাদ্য বিভাগ ৩৬ টাকা কেজি দরে ১১৯১ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহের জন্য উন্নতমানের চাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘সুগন্ধা অটোরাইস অ্যান্ড এগ্রো ফুড প্রসেসিং’ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ৩০ এপ্রিল চুক্তি করে।

চুক্তি অনুযায়ী বোরো ধান কিনে চাল উৎপাদন শুরু করে মিল কর্তৃপক্ষ। প্রথম দফায় চাল দিতে গেলে নলছিটি খাদ্য পরিদর্শক (ওসিএলএসডি) গুদামে চাল প্রবেশে বাধা দেন।

মিল কর্তৃপক্ষের কাছে ঘুষ দাবি করেন। পরে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত ২৪ জুন ৫১ মেট্রিকটন চাল  খাদ্য গুদামে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে বাকিগুলো চালগুলো প্রস্তুত করে পাঠানো হলে আবারো টাকা দাবি করে চাল গুদামে ঢুকতে দেয়নি ওই কর্মকর্তা।

ফলে গুদাম থেকেই চাল মিলে ফেরত নিয়ে আসতে বাধ্য হয় সুগন্ধা কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় কেজিতে চার টাকা ভর্তুকি দিয়ে সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে বিপাকে পড়েছেন এ রাইস মিলের মালিক।

আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে খাদ্য বিভাগ চাল না নিলে চার কোটি ১০ লাখ টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হবে জেলার একমাত্র অটোরাইস মিলটি।

সুগন্ধা অটোরাইস মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিল্লুর রহমান খান অভিযোগ করে বলেন, প্রথমে চাল নিলেও পরের চালানের চাল উৎকোচ না দেওয়ার কারণে ওসি এলএসডি গ্রহণ করলেন না। সরকারের সাথে আমাদের যে চুক্তি হয়েছে তা বাস্তাবায়ন না করতে পারলে সিকিউরিটি মানি আটকে যাচ্ছে।

এমনিতেই করোনার কারণে প্রতি কেজি চালে আমাদের চার টাকা করে লোকসান হবে। সঠিক সময়ের মধ্যে চাল দিতে না পারলে প্রতিষ্ঠান কালো তালিকাভুক্তও হতে পারে। আর এসব কিছুর জন্য দায়ী নলছিটি উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক।

অভিযোগ অস্বীকার করে নলছিটি উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক এইচ এম আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রথম চালানের চাল ভালো ছিল তাই আমি সেটা গ্রহণ করেছি। পরের চালানের চালের মান ভালো না থাকায়, তা গুদামে ওঠানো হয়নি। মানসম্মত চাল হলে অবশ্যই তা গ্রহণ করা হবে।