করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ কিটের পুনঃপরীক্ষার ফল নিয়ে আশাবাদী গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এরই মধ্যে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুসরণ করে কিটের উন্নয়ন সাধন করেছে তারা। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহসহ অন্যদের সহযোগিতা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অধ্যাপক আবদুল্লাহকে গণস্বাস্থ্যের উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্যের কিট প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। গত রবিবার ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে গণস্বাস্থ্যের কিট প্রকল্পের প্রধান বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। আমাদের সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তারা। আমরা তাদের নীতিমালা অনুসরণ করে কিটের উন্নয়ন করে তা পুনঃপরীক্ষার জন্য জমা দেব। আশা করি এবার পজিটিভ রেজাল্ট আসবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ বি এম আবদুল্লাহ যেকোনো ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তার মতো মানুষ আমাদের সঙ্গে থাকলে জনগণের সেবায় আমরা আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারব।’
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার বেলা ১১টায় ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রতিষ্ঠানটির ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে দ্বিতীয়বার দেখতে যান। এ সময় ডা. আবদুল্লাহ তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ সময় ডা. জাফরুল্লাহ তাকে গণস্বাস্থ্যের চিকিৎসা গবেষণা উইংয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাব দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে দেখতে গিয়েছিলাম। তখন তিনি আমাকে গণস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে অনুরোধ করেন। আমি তাকে বলেছি, আগে আপনি সুস্থ হোন, এসব পরে দেখা যাবে।’
গণস্বাস্থ্যের করোনা শনাক্তকরণ কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার ফল নিয়ে গত ১৭ জুন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের পরিচালক ডা. কনক কান্তি বড়–য়া বলেন, গণস্বাস্থ্যের কিট কভিড-১৯-এর বিস্তার বোঝার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে ৭০ শতাংশ রোগী, যাদের ইতিপূর্বে কভিড-১৯ হয়েছিল, তাদের শনাক্ত করা সম্ভব। আর অ্যান্টিবডি কিটের মাধ্যমে পরীক্ষা প্লাজমা বিতরণ, কোয়ারেন্টাইন সমাপ্তির সময় নির্ধারণ এবং লকডাউন উত্তোলনের রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।
গতকাল গণস্বাস্থ্যের করোনা কিট প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএসএমএমইউ কিটের পরীক্ষার ফলাফলে বলেছিল গণস্বাস্থ্যের কিটের মাধ্যমে ৭০ শতাংশ রোগী, যাদের ইতিপূর্বে কভিড-১৯ হয়েছিল, তাদের শনাক্ত করা সম্ভব। এরপর কিটের উন্নয়ন করার পর এখন তা দাঁড়িয়েছে ৯০ শতাংশের ওপরে।’
এদিকে গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মুহিব উল্লাহ খোন্দকার বলেন, ‘ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আমাদের কথা ইতিবাচকভাবে শুনেছেন এবং সর্বাত্মক সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছেন। বৈঠকে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর এবং উপপরিচালক সালাহউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। আমরা অ্যান্টিবডি কিটের উন্নত সংস্করণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঔষধ প্রশাসনের (এফডিএ) আমব্রেলা গাইডলাইন অনুসরণ করে আমাদের ইন্টারনাল ভ্যালিডেশন রিপোর্ট সারাংশ এবং অ্যান্টিবডি ডিজাইন ডসিয়ের ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালক বরাবর জমা দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের ইন্টারনাল ভ্যালিডেশন রিপোর্টকে আমলে এনে অস্থায়ী নিবন্ধনের আবেদন করেছি। ঔষধ প্রশাসন অ্যান্টিবডি কিটের উন্নত সংস্করণ বিষয়ে বিদ্যমান সরকারি নিয়মে আবার কন্ট্রাক্ট রিসার্চ ফার্মের (সিআরও) মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসনের (এফডিএ) আমব্রেলা গাইডলাইন অনুসরণ করে এক্সটারনাল ভ্যালিডেশন করতে বলেছেন। সেই নিয়মে পরীক্ষা করার জন্য আমরা বর্তমান সিআরও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বিএসএমএমইউ) জানাব। বিএসএমএমইউ না করতে পারলে আমরা আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশে (আইসিডিডিআর,বি) যাব।’
মুহিব উল্লাহ বলেন, ‘অ্যান্টিজেন কিটের বিষয়ে বর্তমানে কোনো নীতিমালা নেই। আগামীকাল বুধবার নীতিমালা ফাইনাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঔষধ প্রশাসন আমাদেরকে এফডিএ’র ন্যায় একটা ফরম্যাট পাঠাবে। ওটা অনুযায়ী প্রটোকল আপডেট করে জমা দিতে বলেছে।’