খুলনায় সদ্য বন্ধ হওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের দুই শ্রমিক নেতাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার ২০ ঘণ্টার মাথায় পুরনো একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। গত সোমবার রাত পৌনে ১২টার দিকে তাদের দৌলতপুর থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়া হলেও ঘটনার পর থেকে পুলিশ বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিল। এর আগে গত রবিবার রাত আড়াইটায় ইস্টার্ন জুটমিলের শ্রমিক ও পাটশিল্প রক্ষা যুব জোটের আহ্বায়ক অলিয়ার রহমান এবং রাত সাড়ে ৩টায় প্লাটিনাম জুবিলি জুটমিলের শ্রমিক ও পাটশিল্প রক্ষা যুব জোটের উপদেষ্টা নূর ইসলামকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করে পরিবারের সদস্যরা। তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে দৌলতপুর থানার ওসি সৈয়দ মোশাররফ হোসেন গতকাল বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২০১৯ সালের ৪ এপ্রিল পাটকল শ্রমিকদের বিক্ষোভ থেকে নগরীর নতুন রাস্তা মোড়ের পুলিশ বক্সে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। ওই ঘটনায় পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহীনুর রহমান ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে সকাল ১০টায় তাদের আদালতে পাঠান। আদালত শুনানি শেষে তাদের রিমান্ড নামঞ্জুর করে দুপুরে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।’
গ্রেপ্তার দেখানোর পর শ্রমিক নেতা অলিয়ার রহমানের ছেলে নাইম শেখ আবেগাপ্লুত হয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘৩০ ঘণ্টা পর বাবাকে দেখতে পেলাম। বাবাকে তুলে নেওয়ার পর থেকে পুলিশ অস্বীকার করে যাচ্ছিল যে তারা কিছু জানে না। আমরা বুঝতেই পারছিলাম না যে এটা কি রাজনৈতিক, না প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। এখন তারা কীভাবে জানল। তাহলে কোথা থেকে বাবাকে পেল। এই দীর্ঘ সময় আমাদের কীভাবে কেটেছে কেউ তা জানে না। একটি পরিবারকে এভাবে ভোগান্তিতে ফেলা কখনো উচিত নয়।’
গ্রেপ্তার দেখানো আরেক শ্রমিক নেতা নূর ইসলামের ছেলে দশম শ্রেণির ছাত্র মো. জনি ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার বাবাকে তুলে নেওয়ার পর থানায় গেলাম, তারা বলল কিছু জানি না। হঠাৎ পুলিশ কোথা থেকে বাবাকে পেল? তাও আবার তাকে কোর্টে নেওয়া হলো। আমার বাবা এমন কোনো অপরাধ করেনি। তার জন্য রাতের আঁধারে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তুলে নিয়ে যেতে হবে। এটা অত্যন্ত অমানবিক ও দুঃখের বিষয়।’
গণসংহতি আন্দোলন খুলনা জেলা শাখার আহ্বায়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কায়দায় ২ শ্রমিক নেতাকে গভীর রাতে তুলে নেওয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এরপর ওই শ্রমিক নেতাদের মিথ্যা মামলায় আটক করে ও কালক্ষেপণ করে একটি নাটক মঞ্চায়ন করেছে। সরকার জনরোষের ভয়ে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করছে। এতে শ্রমিকদের পরিবারের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা দ্রুত ২ শ্রমিক নেতার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাই।’