করোনাকালে জামায়াত নেতার মাদ্রাসায় কোচিং বাণিজ্য!

করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে সিরাজগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। গত এক মাস ধরে শাহজাদপুরের গালা ইউনিয়নের ভেড়াকোলা বাজারের পাশে দারুন নূর ক্যাডেট দাখিল মাদ্রাসায় প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ক্লাস, কোচিং ও প্রাইভেট টিউশনি চলছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। ওই মাদ্রাসাটির সুপার গালা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মওলানা মো. আব্দুল হাকিম। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতি সপ্তাহে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে সাংগঠনিক বৈঠক করেন বলেও তথ্য মিলেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দারুন নূর ক্যাডেট দাখিল মাদ্রাসায় প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত দুই শিফটে চলে ক্লাস। সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলে কোচিং এবং দিনের বিভিন্ন সময়ে সুযোগ বুঝে চলে প্রাইভেট টিউশনি। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে মাসিক বেতন এবং কোচিং ও টিউশন ফি।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে এলাকার একাধিক বাসিন্দা দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে আশপাশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও গালা ইউনিয়ন জামাতের সেক্রেটারি ও দারুন নূর ক্যাডেট দাখিল মাদ্রাসার সুপার মওলানা মো. আব্দুল হাকিমের মাদ্রাসা চলছে স্বাভাবিকভাবেই। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি জেনেও রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

করোনাকালে প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার কারণ জানতে চাইলে দারুন নূর ক্যাডেট দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপার আবু সুফিয়ান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এটা না চললে আমাদের পেটে ভাত জুটবে না। তাই বাধ্য হয়ে আমরা শুধু কোচিং করাচ্ছি। এ থেকে যে আয় হয় তা দিয়ে আমাদের সংসার চলে।’

এ বিষয়ে কথা বলতে মাদ্রাসার সুপার মওলানা মো. আব্দুল হাকিমকে তার মাদ্রাসায় আসার জন্য খবর পাঠানো হলেও তিনি আসেননি। তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। 

করোনাকালে জামায়াত নেতার মাদ্রাসা খোলা রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে গালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর বাহাদুর থাপা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে আমাদের কী করার আছে। আমাদের এলাকায় বাস করতে হয়। তাই অনেক কিছু জেনেও হজম করতে হয়।’

শাহজাদপুর থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আর শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. শামসুজ্জোহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’