করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির নেগেটিভের ভুয়া সনদ নিয়ে বিদেশ যাওয়ার তীব্র প্রতিযোগিতায় দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবন থেকে এক ডিজিটাল সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে যাওয়া ৩৯ বাংলাদেশির শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার এক সপ্তাহ সব ধরনের ফ্লাইট স্থগিত করেছে দেশটির সরকার।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের কিছু মানুষ সংক্রমণ লুকিয়ে তথ্য গোপন করে চলাফেরা করছেন। শুধু তাই নয় করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে বিদেশে গিয়ে এয়ারপোর্টে পজিটিভ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছেন। বিদেশে যাওয়ার তীব্র প্রতিযোগিতা এবং সত্য গোপন রাখায় বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। দয়া করে কেউ এমন কাজ করবেন না। সংক্রমণ লুকাবেন না। লক্ষণ দেখা দিলে আইসোলেশনে থাকুন, চিকিৎসা নিন। আপনার তথ্য গোপনের সঙ্গে দেশের ইমেজ, লাখ লাখ প্রবাসীর ভাগ্য ও আপনার ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তায় আবর্তিত হবে।’
তিনি বলেন, ‘করোনার নমুনা পরীক্ষা সনদ, প্লাজমা ডোনেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রকে ঘিরে এই সংকটে একশ্রেণির অসাধু চক্র প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে, মানুষ ঠকাচ্ছে। সরকার এসব প্রতারণা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে। এই ধরনের প্রতারণা মানুষের অসহায়ত্ব নিয়ে নির্মম বাণিজ্য ছাড়া আর কিছু নয়।
তিনি আরও বলেন, ঈদের সংক্রমণ বিস্তাররোধে আমাদের সবাইকে সচেতনতার জনযোদ্ধা হিসেবে কাজ করতে হবে। সমাগম এড়িয়ে চলতে হবে নিজের ও পরিবারের স্বার্থে। পশুর হাট, বাস, লঞ্চটার্মিনাল, রেলস্টেশন, ফেরিঘাট, শপিংমল, কাঁচাবাজারসহ প্রতিটি স্থানে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রেখে, মাস্ক পরে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুরক্ষা বলয় তৈরি করতে হবে।
ঈদ আনন্দযাত্রা যাতে বিষাদে রূপ না নেয় সেদিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার আনন্দযাত্রা যেন বিষাদযাত্রায় রূপ না নেয়, সেই বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে সবাইকে। ক্ষণিকের উদাসীনতা জীবনের চিরচেনা কোলাহল থেকে আমাদের নিঃশব্দ অচেনা জগতে নিয়ে যেতে পারে। তাই সচেতনতার সর্বোচ্চ মাত্রায় নিজেদের সুরক্ষা করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে কোনো প্রয়াসই কাজে দেবে না, ফল দেবে না লকডাউন বা রেড জোন। তাই আসুন মনের মাঝে দৃঢ়তার দুর্গ গড়ে তুলে করোনার সংকট প্রতিরোধ করি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা সংক্রামক রোগ এবং আক্রান্তদের চিকিৎসায় যারা সম্মুখ সারিতে থেকে লড়াই করে যাচ্ছেন তাদের আবারও অভিনন্দন জানাচ্ছি। আপনারা ত্যাগ, মনোবল ও সংকটে সহমর্মিতার যে নজির স্থাপন করেছেন তা জাতি শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করবে। ইতিমধ্যে অনেক চিকিৎসক, পুলিশ, নার্স, সাংবাদিক, টেকনোলজিস্ট মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। গতকাল একজন সিভিল সার্জন মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি ফ্রন্টলাইনারদের মধ্যে যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। আপনারা লড়াই চালিয়ে যান দৃঢ় মনোবল নিয়ে। দেশের সংকটে, জাতির প্রয়োজনে আপনারা প্রকৃত বীর যোদ্ধা। শেখ হাসিনার সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১৪ দলের শরিক দলের নেতাদের সম্মতিক্রমে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা প্রবীণ নেতা ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুকে ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমির হোসেন আমু তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে ১৪ দলের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালনে যথাযথ ভূমিকা পালন করবেন বলে নেত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে এই পদটি শূন্য হয়। মোহাম্মদ নাসিমও সফলতার সঙ্গে ১৪ দলের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।