করোনা আক্রান্ত হয়ে শিশুসাহিত্যিক, সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও মুক্তিযোদ্ধা আলম তালুকদার (৬৪) মারা গেছেন। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
আলম তালুকদারের মেয়ে নিপা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাবা মারা গেছেন। এর আগে শনিবার উনার করোনার পরীক্ষার রেজাল্ট পজিটিভ আসে।’
আলম তালুকদারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শোকের ছায়া নেমে আসে সাহিত্য অঙ্গনে। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হঠাৎ করেই আলম তালুকদারের মৃত্যু খবরটি পেলাম। এমন খবর মনটাকে ভীষণ খারাপ করে দিল। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি।’
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘তিনি আমাদের সাহিত্য অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার মৃত্যু আমাদের জন্য ভীষণ বেদনার। তার মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির।’
আলম তালুকদারের পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাকে সমাহিত করা হবে। এ ব্যাপারে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মরদেহ সৎকারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আলম তালুকদারের জন্ম ১৯৫৬ সালে টাঙ্গাইলে। তিনি ছড়াকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৮ সালে দেয়াল পত্রিকার মাধ্যমে লেখালেখি শুরু হয় তার। কর্মজীবনে তিনি গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি অবসর জীবন-যাপন করছিলেন।
তার ছড়া এবং গদ্যের বইয়ের মধ্যে ঘুম তাড়ানো ছড়া, প্যাচাল না আলাপ, মহাদেশ বাংলাদেশ উপদেশ, অবশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, কেমন করে স্বাধীন হলাম, এক স্বাধীন তিন রাজাকার, যখন ম্যাজিস্ট্রেট ছিলাম উল্লেখযোগ্য।
‘চাঁদের কাছে জোনাকি’ ছড়ার বইয়ের জন্য ২০০০ সালে অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন আলম তালুকদার। এছাড়া পালক অ্যাওয়ার্ড, জয়নুল আবেদিন পুরস্কার, কাদির নওয়াজ পুরস্কার, পদক্ষেপ সাহিত্য পুরস্কার, সাহস পুরস্কার, স্বাধীনতা সংসদ পুরস্কার, পশ্চিমবঙ্গের চোখ সাহিত্য পুরস্কারসহ বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।