দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশ

চাল আত্মসাৎকারী সেই ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণে নানা অনিয়মের অভিযোগে নবীগঞ্জের গজনাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমদাদুল রহমান মুকুলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। উপ-সচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। গতকাল বুধবার হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানান।

চেয়ারম্যান মুকুল নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি।

গত ১৯ জুন দৈনিক দেশ রূপান্তরে ‘সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি : নবীগঞ্জে ৪ বছর ধরে চাল আত্মসাৎ আ.লীগ নেতার!’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর চেয়ারম্যানের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলায় জেলা প্রশাসক চেয়ারম্যান মুকুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার বিভাগ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে জানা যায়, গজনাইপুর ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের চাল প্রাপ্তির তালিকায় মোট উপকারভোগী রয়েছেন ১ হাজার ১৮৫ জন। ২০১৬ সালে ওই তালিকা তৈরি করা হয়। তখন থেকে উপকারভোগীদের চাল পাওয়ার কথা থাকলেও অনেকেই পাননি সে সুবিধা। তালিকায় কোনো কোনো ব্যক্তির নাম ৩ থেকে ৪ বার রয়েছে। একাধিক ব্যক্তির নাম প্রায় ৫০টির মতো রয়েছে তালিকায়। রয়েছে কয়েকজন মৃত ব্যক্তির নামও। আবার কয়েকটি গ্রামে কোনো হিন্দু পরিবার বসবাস না করলেও ওই গ্রামের তালিকায় দেওয়া হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ভুয়া নাম। তালিকায় নাম থাকলেও কোনো সময়ই চাল জুটেনি, এমন লোকের সংখ্যাও কম নয়।