এক সপ্তাহে ৬ ল্যাব বাড়লেও পরীক্ষা কমেছে ২২ হাজার

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই নমুনা পরীক্ষা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত এক সপ্তাহে আগের সপ্তাহ থেকে ২২ হাজার পরীক্ষা কম হয়েছে। অথচ এই এক সপ্তাহে নতুন পরীক্ষাগার বেড়েছে ৬টি। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশে করোনা শনাক্তের ১২৪তম দিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার পরীক্ষা হয়েছে। এ নিয়ে দেশে সর্বমোট নমুনা পরীক্ষা ৯ লাখ ছাড়িয়েছে। শেষ ১ লাখ পরীক্ষা হতে সময় লেগেছে ৭ দিন। অথচ আগের ১ লাখ পরীক্ষায় সময় লেগেছিল মাত্র ৫ দিন। পরীক্ষা কম হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই শনাক্তও কম হয়েছে এ সপ্তাহে। পরীক্ষা আর শনাক্ত কমলেও রোগী শনাক্তের হার আর মৃত্যু দুটোই বেড়েছে এ সপ্তাহে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৪১ জনসহ শেষ সপ্তাহে দেশে মৃত্যুবরণ করেছেন মোট ৩১২ জন, যা আগের সপ্তাহ থেকে ৭ জন বেশি।

এক সপ্তাহ আগে দেশে নমুনা পরীক্ষার ল্যাব (পরীক্ষাগার) ছিল ৭০টি। গতকাল পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬টিতে। অর্থাৎ গত এক সপ্তাহে নতুন পরীক্ষাগার বেড়েছে ৬টি। পরীক্ষাগার বাড়ায় পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ার কথা থাকলেও শেষ সপ্তাহে উল্টো পরীক্ষা কমেছে ২২ হাজারের বেশি। শেষ এক সপ্তাহে (৩ থেকে ৯ জুলাই) দেশে পরীক্ষা হয়েছে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৭টি। আর আগের সপ্তাহে (২৬ জুন থেকে ২ জুলাই) পরীক্ষা হয়েছিল ১ লাখ ২৪ হাজার ২৫৪টি। শেষ সপ্তাহে পরীক্ষা কম হয়েছে ২২ হাজার ১৬৭টি। আগের সপ্তাহের ২৬ হাজার ৬৭১ জনের বিপরীতে শেষ সপ্তাহে রোগী শনাক্ত হয়েছে ২২ হাজার ২১৭ জন। মোট শনাক্ত কমলেও শেষ সপ্তাহে রোগী শনাক্তের শতকরা হার বেড়েছে। আগের সপ্তাহে ২১ দশমিক ৪৬ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে, আর শেষ সপ্তাহে শনাক্ত হয়েছে ২১ দশমিক ৭৬ শতাংশ হারে। এছাড়া আগের সপ্তাহের ৩০৫ জনের বিপরীতে শেষ সপ্তাহে মারা গেছেন ৩১২ জন রোগী।

গতকাল নিয়মিত বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, নতুন আরও একটিসহ বর্তমানে দেশে মোট ৭৬টি পরীক্ষাগারে করোনা পরীক্ষা হচ্ছে। এর মধ্যে সরকারি পরীক্ষাগার ৩৪টি, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ৫টি, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ৬টি, বেসরকারি হাসপাতাল ১৯টি এবং বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ১২টি। আরও দুটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ৫টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে অনুমোদন দেওয়া হলেও এখনো পরীক্ষা শুরু করেনি।

এদিন নমুনা পরীক্ষা ও শনাক্তের তথ্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৫ হাজার ৮৬২টি। পরীক্ষা করা হয়েছে ১৫ হাজার ৬৩২টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ৩ হাজার ৩৬০ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এদিন শনাক্তের হার ছিল ২১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৪১ জন এবং হাসপাতাল ও বাসা মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৭০৬ জন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত দেশে সর্বমোট ৯ লাখ ৪ হাজার ৭৮৪টি নমুনা পরীক্ষায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৯৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। গড় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ২ হাজার ২৩৮ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৪ হাজার ৫৪৪ জন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থতার হার ৪৮ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১ দশমিক ২৮ শতাংশ।

বুলেটিনে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের মধ্যে পুরুষ ২৯ জন এবং নারী ১২ জন। সর্বোচ্চ ১৪ জন মারা গেছেন চট্টগ্রাম বিভাগে। এছাড়া ঢাকায় ১২ জন, খুলনায় ৬ জন, রংপুরে ৩ জন এবং রাজশাহী, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে ২ জন করে মারা গেছেন। হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৮ জন এবং বাড়িতে ৩ জন। মৃতদের মধ্যে ০-১০ বছরের ১ জন, ১১-২০ বছরের ১ জন, ৩১-৪০ বছরের ২ জন, ৪১-৫০ বছরের ৩ জন, ৫১-৬০ বছরের ১১ জন, ৬১-৭০ বছরের ১২ জন, ৭১-৮০ বছরের ৯ জন, ৮১-৯০ বছরের ২ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় শুধু ঢাকা বিভাগেই সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৭৪১ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ৪২০ জন, রাজশাহীতে ১৯২ জন, খুলনায় ১০৮ জন, বরিশালে ৯৮ জন, রংপুরে ৬৮ জন, সিলেটে ৬৬ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১৩ জন সুস্থ হয়েছেন।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৮৭৯ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন মোট ১৭ হাজার ৬৭ জন। একই সময়ের মধ্যে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে আরও ২ হাজার ২৮২ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৬৩ হাজার ১০৬ জন। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ১ হাজার ৫৬১ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।