সিরাজগঞ্জের চৌহালি উপজেলার উমারপুর ইউনিয়নের ৮ ইউপি সদস্যের ৫৫ উন্নয়ন প্রকল্পের ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে মানববন্ধনের প্রতিবাদে এলাকাবাসী সংবাদ সম্মেলন করেছে।
শুক্রবার দুপুরে শৈলজানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে এলাকার কয়েক শ নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
হাজী আব্দুল বাতেন সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ওমারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মন্ডল, আবুল হোসেন মাষ্টার, আব্দুর রউফ, মাসুদ পারভেজ, আব্দুস সামাদ, আব্দুস সালাম, আলমগীর হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ওমারপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রাশেদুল হাসান মকলেস, ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল কাদের, ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল হাকিম, ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মজিদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য হেলাল উদ্দিন, ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আরফান আলী, ৮ নম্বর ওয়ার্ড পরশ আলী, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মজনু সরকার ৪ বছরে নিজ নিজ এলাকার ৫৫ উন্নয়ন প্রকল্পের সভাপতি নিযুক্ত হয়ে, কোনো কাজ না করেই ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ সব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে কর্মসৃজন কর্মসূচি, টিআর, ল্যাট্রিন নির্মাণ, গৃহনির্মাণ, মসজিদ সংস্কার, মাটি ভরাট ইত্যাদি। এছাড়া বয়স্ক ভাতা প্রদান বাবদ জন প্রতি ৬ হাজার টাকা, ভিজিডি-ভিজিএফ কার্ড প্রদান বাবদ ৬ হাজার টাকা, মাতৃকালীন ভাতা কার্ড বাবদ ১০ হাজার টাকা, প্রতিবন্ধী কার্ড বাবদ ৬ হাজার টাকা, গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া বাবদ মোটা অংকের অর্থ আদায় করেছেন তারা।
ওমারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মন্ডল তার বক্তব্যে বলেন, আমি এসব কাজের প্রতিবাদ করায় তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে গত ৮ জুলাই মানববন্ধন করেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাজে জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওই ৮ ইউপি সদস্যর পক্ষ থেকে ১ নম্ব ওয়ার্ড সদস্য রাশেদুল হাসান মোকলেস বলেন, ওই সংবাদ সম্মেলনে আমাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্য ও বানোয়াট। চেয়ারম্যান নিজের অপরাধ ঢাকতে তার লোকজন দিয়ে এ মিথ্য সংবাদ সম্মেলন করিয়েছে।
চৌহালি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মজনু মিয়া বলেন, প্রতিহিংসামূলকভাবে একপক্ষ অপরপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। প্রকৃতপক্ষে তারা উভয়েই দোষি। এ সব বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।